Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৫২

বরগুনায় ‘থ্যালাসেমিয়া’ আক্রান্ত দুই সহোদর

আমতলী প্রতিনিধি

বরগুনায় ‘থ্যালাসেমিয়া’ আক্রান্ত দুই সহোদর
থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত দুই শিশু

চার বছর বয়সী যমজ ভাই মোহন ও মহিন। দুজনই দুরারোগ্য ‘থ্যালাসেমিয়া’য় আক্রান্ত। দুই শিশুসন্তানকে বাঁচানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহায্য কামনা করছেন মা-বাবা। মোহন ও মহিন পটুয়াখালীর আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী গ্রামের দুলাল-মোমেনা দম্পতির ছেলে। দিনমজুর দুলালের পক্ষে সন্তানের চিকিৎসার ব্যয় বহন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। যেখানে দু’মুঠো খাবার ঠিকভাবে জোটে না সেখানে প্রতিমাসে সন্তানের পিছনে ১০ হাজার টাকা ব্যয় করা। জানা যায়, ২০১৩ সালের ৫ এপ্রিল যমজ পুত্র সন্তান জন্ম দেন মোমেনা। এর ১৫ দিন যেতে না যেতেই শিশু দুটি অসুস্থ হয়। গ্রাম্য চিকিৎসক ও ওঝার কাছে ধরণা দিয়ে কোনো ফল পায়নি। পরে পটুয়াখালীর শিশু চিকিৎসক ফারুক খাঁনের কাছে নিলে তিনিও রোগ নির্ণয় করতে পারেনি। দিন দিন শিশু দুটির অসুস্থতা বাড়ে। কিছুদিন পর শিশু বিশেষজ্ঞ মিজানুর রহমানকে দেখালে তিনি পেটে মাংসপিণ্ড হয়েছে বলে জানান। এভাবে এক বছর কাটার পর বরিশালে শিশু বিশেষজ্ঞ উত্তম কুমারে স্মরণাপন্ন হন। তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন শিশু দুটি ‘থ্যালাসেমিয়া’ আক্রান্ত। চিকিৎসক প্রতিকার হিসেবে ওষুধ, প্রতিমাসে রক্ত দেওয়া ও উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন। কিন্তু টাকার অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারেনি বাবা দুলাল। বর্তমানে শিশু দুটির শরীর শুকিয়ে হাড্ডিসার হয়ে গেছে। হাত ও পা চিকন হয়ে দিন দিন পেট বড় হয়ে যাচ্ছে। মা মোমেনা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘যেদিন কাম হরি হেই দিন খাওন চলে, কাম না হরলে চলে না। কি দিয়া মোর সোনার মানিকগো চিহিসসা হরমু। মোরে আল্লায় লইয়্যা যাউক, মোর পোলা দু্ইডারে বাঁচাইয়া রাখুক। মুই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দ্যাশের বড় লোকদের কাছে সাহায্য চাই।’ বাবা দুলাল বলেন, ‘সহায় সম্বল যা ছিল বিক্রি করে সন্তানের চিকিৎসা করিয়েছি। ধারদেনা করে তিন বছর চিকিৎসা চালিয়ে অনেক ঋণী হয়েছি।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর