শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩১ মার্চ, ২০২০ ০০:০৪

অধিকাংশ যন্ত্রপাতি পুরনো কমেছে উৎপাদন

আশুগঞ্জ সার কারখানা

মোশাররফ হোসেন বেলাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

অধিকাংশ যন্ত্রপাতি পুরনো কমেছে উৎপাদন

৩৯ বছর আগে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাড়াও কারখানাটি আওতাভুক্ত আরও কয়েকটি জেলায় ইউরিয়া সারের জোগান দেয়। কিন্তু অধিকাংশ যন্ত্রপাতির আয়ু প্রায় ফুরিয়ে যাওয়ায় কারখানার উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। গ্যাস সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায়ই বন্ধ থাকে উৎপাদন। দৈনিক ১ হাজার ৬০০ টন উৎপাদন ক্ষমতার এ কারখানা এখন ১১০০-১২০০ টন সার উৎপাদন করতেই হিমশিম খাচ্ছে। বছর বছর যন্ত্রাংশ মেরামতের বদলে নতুন যন্ত্রাংশ সংযোজন করলেই উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। ১৯৮১ সালে আশুগঞ্জ উপজেলার চরচারতলা এলাকার মেঘনা নদীর পাশে স্থাপিত হয় আশুগঞ্জ সার কারখানা। ওই বছরের ১৫ ডিসেম্বর পরীক্ষামূলকভাবে ইউরিয়া উৎপাদন শুরু করে বিসিআইসির এ কারখানাটি। ’৮৩ সালের ১ জুলাই বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যায়। বর্তমানে এখানে ১৯১ জন কর্মকর্তা ও ৭০৮ জন কর্মচারী-শ্রমিক কাজ করছেন। ইউরিয়া উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল প্রাকৃতিক গ্যাস, পানি ও বাতাস। পানির জোগান দেওয়া হয় কারখানাসংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে। এখানে উৎপাদিত সার ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের কিছু অংশের ডিলারের কাছে সরবরাহ করা হয়। দিনে ১ হাজার ৬০০ টন করে বছরের ৩৩০ দিনে ৫ লাখ ২৮ হাজার টন ইউরিয়া উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে কারখানাটির। চালুর কয়েক বছর এ পরিমাণ সার উৎপাদন করতে সক্ষম হলেও ধীরে ধীরে কমতে থাকে এর পরিমাণ। যার প্রধান কারণ আয়ু পেরোনো যন্ত্রপাতিতে বারবার ত্রুটি ও গ্যাস সংকট। কারখানা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, সাধারণত একটি কারখানার যন্ত্রপাতি ১৫ থেকে ২০ বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে সক্ষম। সেজন্য যন্ত্রপাতির আয়ুষ্কাল ধরা হয় সর্বোচ্চ ২০ বছর। এ সময় পার হওয়ার পর থেকে যন্ত্রপাতিতে নানা ত্রুটি দেখা দেয়। কয়েক শ কোটি টাকা মূল্যের অ্যামোনিয়া কমপ্রেসার, প্রসেস এয়ার কমপ্রেসার ও সিংগ্যাস কমপ্রেসার, বয়লারসহ ৩৮ বছরের পুরনো বিভিন্ন যন্ত্রপাতিতে প্রায়ই ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। যন্ত্রাংশের দাম বেশি হওয়ায় তা পরিবর্তন না করে নিয়মিত মেরামতের মাধ্যমে কোনোভাবে টিকিয়ে রাখা হয়েছে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম। চলতি অর্থবছরে আশুগঞ্জ সার কারখানার জন্য ১৮০ কোটি টাকার বাজেট পাঠানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতরে। এর সিংহভাগই যন্ত্রপাতি মেরামত ও সংস্কারের জন্য। আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হাবিবুর রহমান জানান, ৩৯ বছরের পুরনো যন্ত্রপাতি দিয়ে কারখানার উৎপাদন চলছে। আয়ু পেরিয়ে যাওয়ায় প্রায়ই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। তখন মেরামতের জন্য উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়। বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর