শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ ডিসেম্বর, ২০২০ ২৩:৪৯

যৌতুক না পেয়ে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ

ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরের নগরকান্দার বিলনালিয়া গ্রামে যৌতুক না পেয়ে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল গৃহবধূ রুমা আক্তার (২৫)-এর লাশ স্বামীর বাড়ি থেকে উদ্ধার করে নগরকান্দা থানা পুলিশ। এ বিষয়ে রুমার বাবা সোহরাব থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

পরিবারসূত্রে জানা গেছে, রুমাদের বাড়ি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাদিরপুর গ্রামে। চার বছর আগে তার বিয়ে হয় নগরকান্দার বিলনালিয়া গ্রামের শওকত মোল্লার সঙ্গে। বিয়ের পর শওকত বিদেশ চলে যান। এর পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন রুমাকে বিভিন্নভাবে অত্যাচার-নির্যাতন করতে থাকেন। যৌতুকের জন্য রুমাকে চাপ দিতে থাকেন। মেয়ের সুখের জন্য ধারদেনা করে কয়েক লাখ টাকা যৌতুক দেওয়া হয় শওকতের পরিবারকে। দুই মাস আগে সৌদি আরব থেকে শওকত দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে ফের যৌতুকের জন্য রুমা ও তার পরিবারকে চাপ প্রয়োগ করেন। বাড়ি করার জন্য শওকতকে আরও টাকা দেওয়া হয়। দুই দিন আগে রুমা ফোন করে জানান, তাকে মারধর করা হচ্ছে। রুমার বাা সোহরাব মাতুব্বর জানান, শওকত বিদেশে যাওয়ার সময় বেশ কিছু টাকা দেওয়া হয়। পরে কয়েক দফায় টাকা দেওয়া হয়। সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার পর বাড়ি করার কথা বলে শওকত আরও টাকা নেয়। কয়েক দিন আগে শওকত আরও টাকা চায়। টাকা না দিতে পারায় সে রুমাকে মারধর করে। রুমা ফোন করে মারধরের কথা জানায়। গতকাল সকালে শ্বশুরবাড়ির লোকজন ফোন করে জানায় রুমা মারা গেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা রুমার শ্বশুরবাড়ি গিয়ে কাউকে পাইনি। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ থানায় নিয়ে আসে। আমার মেয়েকে যৌতুকের জন্য হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।’ এদিকে ঘটনার পর থেকে রুমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক। নগরকান্দা থানার ওসি শেখ মো. সোহেল রানা বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। রুমার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর