শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:১২

প্রতিদিন সরবরাহ হবে ২০ কোটি লিটার পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

Google News

রাজশাহীর পদ্মায় পানি শোধনাগার নির্মাণ করতে যাচ্ছে চীনা প্রতিষ্ঠান। ভূ-উপরিস্থ পানি শোধন করে সরবরাহের জন্য রাজশাহী ওয়াসা ও হুনান কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের মধ্যে চুক্তিও হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে প্রতিদিন ২০ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছে ওয়াসা। তবে এ মেগা প্রকল্পের জন্য পদ্মায় পানির জোগান নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজশাহী অঞ্চলে পানির চাহিদা পূরণে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়াতে ২০১৫ সালে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। তবে প্রায় পাঁচ বছর পর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীনা প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। রাজশাহী মহানগরীসহ আশপাশের কয়েকটি পৌর এলাকায় পদ্মার পানি শোধন করে সরবরাহ করা হবে। রাজশাহী সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন জানান, রাজশাহীর মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়াতে একটি শোধনাগারের। প্রায় পাঁচ বছর আগে নেওয়া প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখল এ বছর। প্রকল্পটির মাধ্যমে রাজশাহী মহানগরী ছাড়াও গোদাগাড়ী, কাটাখালী ও নওহাটা পৌরসভা এখান থেকে সুবিধা পাবে। হুনান কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি অনুয়াযী গোদাগাড়ী উপজেলার পদ্মা ও মহানন্দা নদীর মোহনায় পানি শোধনাগার নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৬২ কোটি টাকা।

এর মধ্যে ১ হাজার ৭৪৮ কোটি টাকা দেবে বাংলাদেশ সরকার। ২ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা ঋণ দেবে হুনান কনস্ট্রাকশন। যার জন্য আড়াই থেকে তিন শতাংশ সুদ দিতে হবে।

রাজশাহী ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতান আবদুল হামিদ বলেন, ‘পদ্মা আর মহানন্দার মিলিত একটি স্থান যেখানে ৩০ ফুট পানি প্রতি বছরই থাকে। কখনো চর পড়েনি। এটি বিবেচনা করেই ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম) ওই জায়গাটি নির্বাচিত করেছে।’

প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে পদ্মায় পানির জোগান নিয়ে অন্তত ৩০ বছরের পরিসংখ্যান পর্যবেক্ষণ করেছে আইডব্লিউএম। তবে এ মেগা প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি সুফল পেতে পদ্মার উজানের দেশগুলোর কাছে পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিতের তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক এবং পানি গবেষক অধ্যাপক চৌধুরী সারোয়ার জাহান বলেন, ‘ভূ-উপরিস্থ পানিনির্ভর প্রকল্প এটি। সরকারও এমন প্রকল্পকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ব্যাপারে পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। মহানন্দা নদীতে যদি রাবার ড্যাম নির্মাণ করা হয় তাহলে সেখানে পানি আটকে যাবে। ফলে এখানে পানি সংকট দেখা দেবে। এতে প্রকল্পের সুফল অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে।’ আগে পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করে এমন প্রকল্প বাস্তবায়নের পক্ষে মত এই গবেষকের।

এ বছরের ২১ মার্চ ঢাকায় হুনান কনস্ট্রাকশন ও রাজশাহী ওয়াসার মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় ধরা হয়েছে ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত।

এই বিভাগের আরও খবর