শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:০৩

শরণখোলায় সুপেয় পানির জন্য হাহাকার, বাড়ছে রোগবালাই

বাগেরহাট প্রতিনিধি

শরণখোলায় সুপেয় পানির জন্য হাহাকার, বাড়ছে রোগবালাই
Google News

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় সর্বত্র চলছে সুপেয় পানির জন্য হাহাকার। নদী ও খালের পানি লবণাক্ত। এলাকার কোথাও গভীর নলকূপ কার্যকর নয়। অগভীর নলকূপের পানিও লবণাক্ত। অনাবৃষ্টি ও গ্রীষ্মের দাবদাহে পুকুরের পানি শুকিয়ে তলানিতে ঠেকেছে। ওই দূষিত পানি বাধ্য হয়ে পান করতে হচ্ছে সবাইকে। এ কারণে বাড়ছে ডায়রিয়া, আমাশাসহ পানিবাহিত রোগবালাই। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানান, শরণখোলায় নলকূপের পানি লবণাক্ত হওয়ার কারণে পন্ড স্যান্ড ফিল্টার (পিএসএফ) ও রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিংয়ের ওপর নির্ভর করতে হয় মানুষকে। উপজেলার চারটি ইউনিয়নে ১১ শতাধিক পিএসএফ থাকলেও তার ৯ শতাধিক অকেজো। পুকুরের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় বাকিগুলোও ব্যবহার অনুপোযোগী হয়ে পড়ছে। যার কারণে তীব্র পানি সংকট চলছে। শরণখোলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফরিদা ইয়াছমিন জানান, এ উপজেলায় বিশুদ্ধ পানি সংকটের কারণে ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (গতকাল) এক দিনেই ২১ জন ডায়রিয়ার রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শয্যা সংকটের কারণে রোগী মেঝেতে রাখতে হচ্ছে। এ নিয়ে ১ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত ১৪০ জন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হলেও আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি। উপজেলার রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা শরণখোলা সরকারি কলেজের প্রভাষক আ. জলিল জানান, তাদের এলাকার পানি খুবই লবণাক্ত। গ্রীষ্মের তাপে এলাকার খাল-বিল, পুকুর শুকিয়ে গেছে। ৩/৪ মাইল পথ পাড়ি দিয়েও কেউ পানি পাচ্ছে না। মানুষ পানির জন্য হাহাকার করছে। উপকূলীয় এ অঞ্চলের পানি সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি। শরণখোলার সদর রায়েন্দা বাজারের বাসিন্দা ওয়াদুদ আকন, হাকিম তালুকদার, সুনিল শীল, নির্মল বালা জানান, তাদের এলাকার তিন শতাধিক পরিবার অগ্রদূত ফাউন্ডেশনের পুকুরের ওপর নির্ভশীল। কিন্তু পুকুরের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় প্রায় তিন মাস ধরে পিএসএফটি অকেজো হয়ে আছে। মানুষ বাধ্য হয়ে খালের লবণাক্ত পানি ব্যবহার করছে। শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন জানান, এখানকার পানি সংকট সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং স্থায়ী সমাধানে প্রকল্প গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া বাগেরহাট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর