শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩০ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:৫২

বন্ধ ডায়ালাইসিস, অচল এনজিওগ্রাম ইকো ও সিটিস্ক্যান মেশিন

♦ ভোগান্তিতে পড়েছেন শত শত কিডনি রোগী ♦ হৃদরোগীদের চিকিৎসা হচ্ছে ইসিজি নির্ভর

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

বন্ধ ডায়ালাইসিস, অচল এনজিওগ্রাম ইকো ও সিটিস্ক্যান মেশিন
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল -বাংলাদেশ প্রতিদিন
Google News

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস বিভাগ ২২ দিন ধরে বন্ধ। ডায়ালাইসিস না করতে পেরে এ সময়ে ১৮ জন রোগী মারা গেছেন বলে জানা যায়। কিডনি জটিলতার শত শত রোগী ডায়ালাইসিস করতে না পেরে ভোগান্তিতে পড়েছে। এ ছাড়া হৃদরোগ বিভাগের এনজিওগ্রাম মেশিনটি দেড় বছরের বেশি সময় ধরে অচল পড়ে আছে। ওই বিভাগের তিনটি ইকো মেশিনের সবই নষ্ট। হৃদরোগীদের চিকিৎসা হচ্ছে শুধু ইসিজি নির্ভর।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ডায়ালাইসিসের পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট এবং কয়েকটি ডায়ালাইসিস মেশিন বিকল হওয়ায় এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র ৬ লাখ টাকা খরচ করলে দুটি পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট বসানো সম্ভব। অথচ ডায়ালাইসিস বিভাগ থেকে প্রতি মাসে আয় হয় ৩ লাখ টাকার বেশি। গত মঙ্গলবার দুপুরে কিডনি বিভাগের ডায়ালাইসিস বিভাগে গিয়ে দেখা গেছে, সব বেড রোগীশূন্য। ৫-৫ জন নার্স, আয়া ও টেকনিশিয়ান বসে রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্র জানায়, চলতি মাসের ৮ এপ্রিল থেকে ডায়ালাইসিস ইউনিটটি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ডায়ালাইসিসের প্রধান উপাদান পিউরিফাইড পানি-যা মেশিনের সাহায্যে পরিশোধন করা হয়। সেই মেশিন দুটি পুরোপুরি বিকল হয়ে যাওয়ায় এমনটা হয়েছে। তবে এই মেশিন সচল করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে হাসপাতালের সূত্র। ওই বিভাগের একজন নার্স জানান, গত ২০ দিনে ১৮ জন রোগী মারা গেছেন। তারা সবাই এখানকার তালিকাভুক্ত রোগী ছিলেন।

হৃদরোগ বিভাগের এনজিওগ্রাম মেশিনটি দেড় বছরের বেশি সময় ধরে অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ওই বিভাগের তিনটি ইকো মেশিনের সবই নষ্ট। এনজিওগ্রাম ও ইকোমেশিন না থাকায় হৃদযন্ত্রের জটিল সমস্যা চিহ্নিত করতে পারছেন না রোগীরা। হাসপাতালের সিটিস্ক্যান মেশিনটিও অকেজ পড়ে আছে। রোগীদের সিটিস্ক্যান বাইরে থেকে করতে হচ্ছে। রোগ নির্ণয়ের গুরুত্বপূর্ণ এমআরআই মেশিনটিও বিকল। হাসপাতালের পরিচালক ডা. রেয়াজুল করিম জানান, বেশ কিছুদিন কিডনি ডায়ালাইসিস বন্ধ।

ডায়ালাইসিস মেশিন ঠিক করার জন্য স্বাস্থ্যবিভাগে ইঞ্জিনিয়ারের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। আগামী সপ্তাহ ইঞ্জিনিয়ার এসে নষ্ট মেশিন ঠিক করতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এনজিওগ্রাম ও ইকো মিশন আপাতত ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেও তিনি জানান।

এই বিভাগের আরও খবর