শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১১ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ মে, ২০২১ ২৩:২৪

মা-ছেলের বন্দী জীবনে মৃত্যুর ঘণ্টা বাজছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

মা-ছেলের বন্দী জীবনে মৃত্যুর ঘণ্টা বাজছে
Google News

মা দুলালী বেগম (৫৫) ও ছেলে দুখল মিয়ার (৩০) বন্দী জীবনে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর ঘণ্টা বাজছে। ছেলেকে শিকলে বেঁধে, মাকে শিকল ছাড়া পৃথক ঘরে বছরের পর বছর বন্দী করে রাখা হয়েছে। রংপুর সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বধূকমলা গ্রামে পৃথক পৃথকভাবে শিকলবন্দী অবস্থায় দিন কাটছে এই মা-ছেলের। গতকাল সকালে সরেজমিন দেখা গেছে অসহায় এই পরিবারটির দুরবস্থার চিত্র। ওই এলাকার আবদুর রশিদ মিয়ার ৩ ছেলে ও স্ত্রী নিয়ে সুখের সংসার ছিল। বড় ছেলে দুখল মিয়া ১২ বছর আগে ঢাকায় একটি গার্মেন্টে কাজের জন্য যান। সেখানে কিছুদিন কাজ করার পর অসুস্থ হয়ে বাড়িতে চলে আসেন। এরপর মানসিক রোগ দেখা দেয়। প্রথম প্রথম তার অসুস্থতা কারও জন্য ভয়ের কারণ না হলেও পরে বদ্ধ উন্মাদ হয়ে যান দুখল মিয়া। দেহে কোনো কাপড় পরেন না। সব সময় উলঙ্গ থাকেন। গ্রামের লোকজনের ওপর চড়াও হন। যাকে সামনে  পান তাকেই মারধর করতেন।

 পরিবারের লোকজন প্রায় ৮ বছর ধরে তাকে একটি ঘরে শিকলে বেঁধে রেখেছেন। কেউ কাছে যেতে পারে না। দূর থেকে খাবার দেওয়া হয়। প্রাকৃতিক কাজ ঘরেই সারতে হয়। সারা দেহ কাদামাটিতে মাখা। ছেলে বদ্ধ উন্মাদ হওয়ার কিছুদিন পর মা দুলালী বেগমও মানসিক রোগে আক্রান্ত হন। তাকেও প্রায় ৭ বছর থেকে পৃথক অরেকটি একটি ঘরে বন্দী করে রাখা হয়েছে।  কেউ তার সঙ্গে দেখা করতে পারেন না। খাওয়া-দাওয়া মলমূত্র ঘরেই ত্যাগ করেন। দুখল মিয়ার বাবা অটোচালক আবদুর রশিদ মিয়া জানালেন, মা-ছেলের চিকিৎসার জন্য যেটুকু আবাদি জমি ছিল সব বিক্রি করেছি। বড় বড় ডাক্তার দেখিয়েছি কিন্তু তারা সুস্থ হননি। মা-ছেলের চিকিৎসা করাতে করাতে এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। ভিটাবাড়ি ছাড়া বিক্রি করার মতো এখন কিছুই নেই। অটো চালিয়ে কোনোরকমে পেট চালাচ্ছি। স্ত্রী-পুত্রের চিকিৎসা করার মতো সামর্থ্য এখন নেই। তাই স্ত্রীকে একটি ঘরে, ছেলেকে অন্য ঘরে শিকলবন্দী করে রেখেছি। তিনি জানান অন্য দুই ছেলের মধ্যে এক ছেলে বিয়ে করে অন্যত্র চলে গেছে। ছোট ছেলে নিয়ে এই দুই রোগীকে সামলাতে পারছি না। ওই এলাকার চাকরিজীবী হারুন উর রশিদ জানান, পরিবারটি একসময় সচ্ছল ছিল। কিন্তু একই পরিবারের দুজন পাগল হওয়ায় চিকিৎসা করাতে করাতে রশিদ মিয়া প্রায় ফকির হয়ে গেছেন। তিনি মা-ছেলের চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

এই বিভাগের আরও খবর