শিরোনাম
সোমবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ টা

ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধের দাবি

ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার মধুমতী নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত এক মাস ধরে ভাঙনে উপজেলার পাচুরিয়া ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের কয়েক শ বসতবাড়ি, পাকা রাস্তা, হাট-বাজার, মসজিদ, মাদরাসা, একটি প্রাইমারি স্কুলসহ নানা স্থাপনা চলে গেছে নদীগর্ভে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জানান, গত কয়েক বছর ধরে মধুমতী নদীর ভাঙনে পাচুরিয়া ইউনিয়নের নারানদিয়া ও চরনারানদিয়া গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। এ বছর ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়েছে।

গত কয়েকদিনের ব্যবধানে নদীগর্ভে চলে গেছে ৮০টি বসতঘর। বাড়ি, কয়েকশ একর ফসলী জমি, ১টি মসজিদ, ১টি মাদ্রাসা, ঈদগাঁসহ বিভিন্ন স্থাপনা। তিনি জানান, বিভিন্ন সময় ভাঙনরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা নেবার কথা পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে জানানো হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ফলে ভাঙনের তীব্রতা কমেনি। এ বছর নদী ভাঙ্গন ব্যাপকভাবে শুরু হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তরফ থেকে কিছু বালির বস্তা ফেলা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই নগণ্য। এছাড়া বালির বস্তা ফেলে নদী ভাঙনরোধ সম্ভব নয় বলে তিনি জানান। ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কথা বললেও এ ধরনের প্রকল্প না থাকায় তা করা যাচ্ছে না বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। এদিকে, মধুমতি নদীর ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধের দাবিতে গতকাল সকালে মানববন্ধন করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ ও স্থানীয়রা। পাচুরিয়া ইউনিয়নের চরনারানদিয়া গ্রামের মধুমতি নদী তীরে এ মানববন্ধন কর্মসূচিতে ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকশ নারী-পুরুষ অংশ নেয়। মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন পাচুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ এর কো-অর্ডিনেটর জব্বার সরদার, মো. ফয়সাল, সালিমুল হক সাগর, এইচ এম মামুন, আরাফাত সিকদার, মো. তারিকুল ইসলাম। এ সময় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কয়েক বছর যাবত মধুমতি নদীর ভাঙনে পাচুরিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম বিলীন হলেও ভাঙনরোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তারা।

সর্বশেষ খবর