মঙ্গলবার, ১ মার্চ, ২০২২ ০০:০০ টা

ফেনীর পথশিশুদের অধিকাংশই ড্যান্ডির নেশায় আসক্ত

জমির বেগ, ফেনী

ফেনীর পথশিশুদের অধিকাংশই ড্যান্ডির নেশায় আসক্ত

ফেনীর পথশিশুদের মধ্যে ড্যান্ডি গাম (স্নিফিং গ্লুুর) নেশার আসক্তি বাড়ছে দিনের পর দিন। এসব নেশায় বেশি আসক্ত হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ বছরের শিশুরা। এতে শহরে বাড়ছে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ। শহরের রেলস্টেশন, বিরিঞ্চির হাঙ্গার, শহরের জেল রোড, কলেজ রোড, দোয়েল চত্বর, লালপুর বেদেপল্লী ও গুলশান মার্কেট গলি, মহিপাল টার্মিনাল এলাকার আশপাশের এলাকার পথশিশুদের এসব নেশায় আসক্ত হতে দেখা যায়। এসব পথশিশুর মধ্যে অনেকে ভিক্ষা ও ভাঙাড়ি মালামাল বিক্রি করে নেশার টাকা জোগাড় করলেও বেশির ভাগই করে থাকে চুরি। মাঝে-মধ্যে ছিনতাইয়ের মতো ঘটনাও ঘটায় তারা। পথশিশু আবদুর রহমান (ছদ্মনাম) জানায়, তার পরিবার চট্টগ্রামে থাকলেও সে ফেনী রেলস্টেশনে থাকে। স্টেশনে থাকা তারা সব বন্ধুই ড্যান্ডির নেশায় আসক্ত। অপর শিশু রহমত জানায়, ট্রেনে, বাসা-বাড়িতে ও দোকানপাটে চুরি করেই তারা নেশার টাকা জোগাড় করে। শরীয়ত জানায়, তার প্রতিদিন ২-৩টি গাম লাগে।

সহকারী অধ্যাপক কার্ডিওলজি ও মেডিসিন ডা. আজিজুল করিম শামীম জানান, চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে “গ্লু স্নিফিং” বলে। এতে আসক্ত ব্যক্তি শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রচন্ড রকম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ড্যান্ডির নেশার কারণে তাদের শ্বাসকষ্ট, লিভার ডিজিজ, কিডনি ডিজিজ হতে পারে। তাছাড়া মাথা ঘোরা, চলাচলে অসংলগ্নতা, ক্ষুধামন্দা ও রক্তবমিসহ বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে এই নেশায় আসক্তদের বিবেক বুদ্ধি ও স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া, উদাসীনতা ভাব দেখা যাওয়া, কলহ প্রবণতা বেড়ে যাওয়া ও হতাশাগ্রস্ততা বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। তাদের মধ্যে সিজোফ্রেনিয়ার মতো মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা যে কাউকে খুনও করতে পারে, আবার নিজেও বেছে নিতে পারে আত্মহত্যার পথ।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর