Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১১:০৮

১০ বছরেও পূর্ণতা পায়নি বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন গ্রন্থাগার ও জাদুঘর

নোয়াখালী প্রতিনিধি

১০ বছরেও পূর্ণতা পায়নি বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন গ্রন্থাগার ও জাদুঘর

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের ৪৭তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ সোমবার (১০ ডিসেম্বর)। মুক্তিযুদ্ধে চুড়ান্ত বিজয়ের মাত্র ছয়দিন আগে ১০ ডিসেম্বর খুলনার রুপসা নদীতে শত্রু পক্ষের সাথে সম্মুখ সমরে শহীদ হন তিনি। তার স্মৃতি রক্ষায় নিজ জেলা নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে প্রতিষ্ঠিত বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন স্মৃতি গ্রন্থাগার ও জাদুঘর কমপ্লেক্সটি দশ বছরেও পূর্ণতা পায়নি। 

এলাকাবাসীর দাবি, এই কমপ্লেক্সকে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানার সকল সুযোগ সুবিধাসহ পূর্ণাঙ্গ জাদুঘর হিসেবে গড়ে তোলা হোক। এদিকে, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর উদ্যেগে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের একমাত্র ছেলে শওকত ও তার পরিবার পেল একটি বাড়ি। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই বিজয়ের মাসে পাকা বাড়িটি উদ্ভোধন করবেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান। 

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের একমাত্র ছেলে শওকতের স্ত্রী রাবেয়া আক্তার জানান, সরকারের পক্ষ থেকে একটি পাকা সুন্দর বাড়ি পেয়ে আমরা খুবই খুশি, তবে আমার সন্তানকে ভালোভাবে লেখাপড়া করাজন্য আরো সহযোগীতা দরকার। আগামী কিছুদিনের মধ্যে নতুন বাড়িটি উদ্ভোধন করবেন নৌবাহীনি।

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের জম্ম নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার শহীদ রুহুল আমিন নগরে। তার স্মৃতি রক্ষায় বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ২০০৮ সালের ১৩ মার্চ স্থাপন করা হয় গ্রন্থাগার ও জাদুঘর। রুহুল আমিনের পরিবারের দান করা ২০ শতক জমির ওপর নির্মিত এই স্মৃতি কমপ্লেক্সে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক বিভিন্ন আলোকচিত্র, পোস্টার, সাময়িকী আর পত্রপত্রিকা। আছে মুক্তিযুদ্ধসহ নানা বিষয়ের বই এবং বিভিন্ন সময়ে রুহুল আমিনের পরিবারকে দেয়া সরকারি বেসরকারি পদক।

তবে কমপ্লেক্সটি জাদুঘর নাম ধারণ করে থাকলেও এখানে এসে হতাশ হন দর্শনাথীরা। প্রথম দিকে গ্রন্থাগারে পাঠকদের জন্যে জেলা পরিষদের অর্থায়নে ছয়টি জাতীয় পত্রিকা রাখা হলেও গত দুই বছর থেকে পত্রিকা আসা বন্ধ হয়ে আছে। বেতনভুক্ত মাত্র একজন তত্ত্বাবধায়ক দিয়ে চলছে পুরো পতিষ্ঠান।

কমপ্লেক্স ক্যাম্পাসে শহীদ রুহুল আমিনের একটি ভাষকর্য্য স্থাপন ও জাদুঘওে তার ব্যবহার্য্য সামগ্রীর সমাহার ঘটনানোর পাশাপাশি কমপ্লেক্সটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ জাদুঘর হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে শহীদ রহুল আমিনের স্বজন ও এলাকাবাসী। 

নৌবাহিনীর সদস্য ও বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন পরিবারের সদস্যদের জন্য নব নিম্মিত পাকা বাড়িটির তত্বাবধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ১৯৮৫ সালে নৌবাহিনী এ পরিবারকে একটি বাড়ি করে দিয়েছে। ঐ বাড়িটি জীর্ণ সীর্ণ হওয়াই নৌবাহিনী আরেকটি নতুন বাড়ি নির্মানের জন্য চলতি বছরের এপ্রিল থেকে কাজ শুরু করেছে। বর্তমানে বাড়িটি নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় (৫০লক্ষ) টাকা ব্যয়ে। নির্মিত বাড়িটি এ বিজয়ের মাসে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান উদ্ভোধন করবেন।


বিডি প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ সিফাত


আপনার মন্তব্য