Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল, ২০১৯ ২২:১০

নুসরাতকে ছাদে ডেকে নেয়া কে এই শম্পা?

অনলাইন ডেস্ক

নুসরাতকে ছাদে ডেকে নেয়া কে এই শম্পা?
নুসরাত জাহান রাফি (ফাইল ছবি)

নুসরাত জাহান রাফি হত্যাচেষ্টার ঘটনায় আলোচিত সেই উম্মে সুলতানা পপি ওরফে শম্পা ওরফে চম্পাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফেনী। 

শম্পা সম্পর্কে গ্রেফতার মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার ভাগনি। শম্পা ছিল উম্মে সুলতানা পপির ছদ্মনাম।

গত ৬ এপ্রিল শনিবার সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যায় নুসরাত জাহান রাফি। বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করছে বলে শম্পার দেয়া সংবাদে ভবনের চারতলায় যান নুসরাত। সেখানে আগে থেকে লুকিয়ে ছিল শাহাদাতসহ চারজন। তারা নুসরাতকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। কিন্তু নুসরাত অস্বীকৃতি জানালে ওড়না দিয়ে বেঁধে গায়ে আগুন দিয়ে তারা নির্বিঘ্নে বেরিয়ে যায়।

একই ঘটনায় আগে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার সিরাজ উদ্দৌলাকে হত্যা মামলায় গ্রেফেতার দেখানো হয়েছে। এজাহারভুক্ত অন্য আসামি হাফেজ আব্দুল কাদের পলাতক।

নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, জাবেদ হোসেন, হাফেজ আব্দুল কাদেরসহ আরও একজন মিলিত হয়ে পরিকল্পনা করেন। তারা সিদ্ধান্ত নেন, নুসরাতকে পুড়িয়ে মারা হবে। নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার পরিকল্পনার কথা তারা দুই ছাত্রী ও দুই ছাত্রের সঙ্গে শেয়ার করে। এর মধ্যে একটি মেয়ের দায়িত্ব পড়ে ৩টি বোরকা আনা ও পলিথিনের ব্যাগে কেরোসিন আনা। ওই ছাত্রী কথামতো সকাল ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে শাহাদাতের হাতে হস্তান্তর করে।

সকাল ৯টার পর ওদের ক্লাস পরীক্ষা শুরু হয়। এরই ফাঁকে ভবনের ছাদে চারজন অবস্থান নেয়। পরিকল্পনায় অংশ নেয়া শম্পা নামে এক ছাত্রী নুসরাতকে জানায়, ভবনের চারতলায় যান নিশাতকে মারধর করা হচ্ছে। ওই খবরে নুসরাত ছাদে গেলে তাকে আটকে দেয়া হয়। প্রথমে ওড়না দিয়ে বেঁধে এরপর কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়া হয়। ঘটনাস্থলের বাইরে নূর উদ্দিনের নেতৃত্বে হাফেজ আব্দুল কাদেরসহ পাঁচজন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, গেট পাহারা ও স্বাভাবিক রাখার কাজ করে। আগুন দেয়ার পর সরাসরি অংশগ্রহণকারী বোরকা পরে বের হয়ে যায়।

সোমবার ফেনী জেলা পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, নুসরাত জাহান রাফি হত্যাচেষ্টার ঘটনায় আলোচিত সেই শম্পা ওরফে চম্পাকে ফেনী থেকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই ছাত্রীকে অগ্নিদগ্ধের সময় কেউ একজন ‘শম্পা চল’ বলেছেন এমন শব্দ রাফি শুনেছেন বলে চিকিৎসকদের কাছে তথ্য দিয়েছেন। সেই সূত্রে পুলিশ তাকে আটক করে।

বিডি প্রতিদিন/১৫ এপ্রিল ২০১৯/আরাফাত


আপনার মন্তব্য