শিরোনাম
প্রকাশ : ১৯ মে, ২০১৯ ২০:৫৫

রাঙামাটিতে সেনা সদস্যের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাহক্রিয়া সম্পন্ন

ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি


রাঙামাটিতে সেনা সদস্যের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাহক্রিয়া সম্পন্ন

বান্দরবানে পরিত্যক্ত শেল বিস্ফোরণে নিহত সেনা সদস্য নিপুন চাকমার দাহক্রিয়া রাঙামাটিতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হয়েছে । রবিবার বিকাল ৫টায় রাঙামাটির কুতুকছড়ি ইউনিয়নে মধ্যম পাড়ার ধর্মঘট এলাকায় তার শেষ দাহক্রিয়া সম্পন্ন করা। এ সময় রাঙামাটি রিজিয়িন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. রিয়াদ মেহেমুদের নেতৃত্বে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। ঘটনাস্থলে রাঙামাটির নানিযারচর জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. কাইয়ুম হোসেনসহ তার সহকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 

এর আগে নিহত সেনা সদস্য নিপুনের মরদেহ বিশেষ কফিনে করে ঢাকা সেনাবাহিনী সদর দপ্তর থেকে হেলিকপ্টার যোগে প্রথমে বান্দরবান সেনা রিজিয়ন ও পরে রাঙামাটি রিজিয়নে থেকে তার নিজ বাড়ি রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার কুতুকছড়ি ইউনিয়নে মধ্যম পাড়ার ধর্মঘট এলাকায় নিয়ে আসা হয়। আগে থেকে নিপুনের লাশের অপেক্ষা করছিল তার পরিবারের সদস্যসহ আত্মীয়-স্বজনরা। সেখানে ভিড় জমায় আশে-পাশে কয়েকটি গ্রামের শত শত নারী-পুরুষ। স্বজনদের শোকের মাতমে ভারি হয়ে উঠে পুরো কুতুকছড়ি এলাকা। গার্ড অব অনারের পর  নিহত নিপুনের বাবা কৃপাধন চাকমা ও মা শুরংগিনি চাকমার সাথে কথা বলেন রাঙামাটি রিজিয়িন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. রিয়াদ মেহেমুদ এবং তাদের আর্থিক অনুদান দেন। 

নিপুনের বাবা কৃপাধন চাকমা জানান, ''তিন ছেলে দুই মেয়ের মধ্যে নিপুন সবার ছোট। ২০১৪ সালে সে প্রথম সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। গেল ৯ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় ইতি চাকমা নামের এক মেয়ের সাথে তার বিয়ে ঠিক হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে আর্শীবাদের কাজও সম্পন্ন করা হয় তাদের। এবার ছুটিতে আসলে বিয়ের কাজ শেষ করা হতো । কিন্তু ছুটির আগে নিপুন ঠিক বাড়ি ফিরেছে, তবে লাশ হয়ে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার বাবা।

প্রসঙ্গত, গত ১৭মে (শুক্রবার) বান্দরবানে সুয়ালকের আমতলী এলাকায় সেনাবাহিনীর ভারি অস্ত্রের ফায়ারিং রেঞ্জে পরিত্যক্ত মর্টার শেল (বোমা) বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় সেনা সদস্য জাহিদুল ইসলামের (২৯)। এ ঘটনায় মারাত্মক আহত নিপুন চাকমাসহ সৈনিক আসাদ, রাজু, হাসান, তারেকুল, মোস্তাফিজ ও আরিফ। মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে হেরে গেল নিপুন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) হাসপাতালে মারা যান তিনি।


বিডি-প্রতিদিন/১৯ মে, ২০১৯/মাহবুব


আপনার মন্তব্য