Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০১:৩১
আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৯:৫২

চট্টগ্রামের বির্তকিত যুবলীগ সম্রাট টিনু অস্ত্রসহ গ্রেফতার

সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের বির্তকিত যুবলীগ সম্রাট টিনু অস্ত্রসহ গ্রেফতার
নূর মোস্তফা টিনু

চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত সেই বির্তকিত যুবলীগ নেতা পাচলাঁইশ ও চকবাজার, বাকলিয়া এলাকার সম্রাট নূর মোস্তফা টিনু অবশেষে র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েছে। এসময় টিনুর বাসা থেকে একটি অবৈধ বিদেশি শর্টগান এবং ৬৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

রবিবার গভীর রাতেই চকবাজার থানার বাদুরতলা এলাকায় অবস্থিত তার বাসায় প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা ধরে সাঁড়াশি অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় জসিম উদ্দিন নামে তার এক সহযোগীকেও আটক করা। 

পিস্তলসহ আটকের পর টিনুর বাসায় অভিযান চালায় র‍্যাব। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাসা থেকে অস্ত্র-গুলি উদ্ধার করা হয় এবং অবৈধভাবে অস্ত্র রাখার দায়ে টিনুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান র‍্যাব-৭ এর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) কাজী মো. তারেক আজিজ।

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যুবলীগের কোনো পদ-পদবী না থাকলেও সংগঠনটির নেতা পরিচয় দিয়ে নগরের চকবাজার, পাচঁলাইশসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণসহ ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে নূর মোস্তফা টিনুর বিরুদ্ধে। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-চট্টগ্রাম কলেজ এবং মহসিন কলজে নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে গ্রুপিং, সংঘর্ষ এবং মারামারিতে ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে এ যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে চট্টগ্রামে তার কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম দেখা যায়নি। কিন্তু চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বিএসসি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী হওয়ার পর হঠাৎ করেই নগরীর পাঁচলাইশ ও চকবাজার থানার আশেপাশে বিলবোর্ড ও ব্যানারে আবির্ভূত হন নুর মোস্তফা ওরফে টিনু। একই সময়ে নগরীর দেওয়ানবাজার ও শহীদ মিনারেও নুরুল ইসলাম বিএসসির ছবি ব্যবহার করে একাধিক ব্যক্তি ব্যানার টাঙান। তবে নগর আওয়ামী লীগ কিংবা সহযোগী কোনো সংগঠনেই তাদের নাম নেই। 

টিনুর টাঙানো প্রতিটি ছবির ওপরে থাকে নুরুল ইসলাম বিএসসি, প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুর ছবি। বর্তমানে নুরুল ইসলাম বিএসসি মন্ত্রীত্ব না থাকায় টিনু কেন্দ্রীয় ও জেলার শীর্ষ নেতাদের সাথে চলাচল করে নিজের অবস্থান শক্ত রাখার নানা কৌশল করে আসছেন। এই টিনুর বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে নগরীর পাঁচলাইশ ও চকবাজার এলাকায় জমি দখল, ছিনতাই ও নিয়মিত চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। 

গেল বছরের নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে নগরীর কাপাসগোলায় এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তিন লাখ টাকার নগদ চেক এবং ৪০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় টিনুর লোকজন। বিভিন্ন মাধ্যমে টিনুর লোকজন এসে এক লাখ টাকা ফেরত দেয়। অবশিষ্ট টাকা আর পায়নি। এর এক সপ্তাহ পর গত ৬ ডিসেম্বর বিকেলে চকবাজার পোস্ট অফিসের সামনে দুবাই প্রবাসী এক প্রকৌশলীর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। 

জানা যায়, সবাই টিনুর সহযোগী। সাধন বসাক নামের ওই প্রবাসী বিষয়টি তাৎক্ষনিকভাবে চকবাজার থানায় জানান। থানা পুলিশ মামলা না নিলেও রাতে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করে দেয়। ওই সমঝোতা অনুযায়ী প্রবাসী সাধন বসাক সাত লাখ টাকা ফিরে পান। টিনুর বড় ভাই মো. সেলিম জামায়াতের রুকন পর্যায়ের একজন নেতা। ছোট নুরুল আলম শিপু চকবাজার থানা ছাত্রদলের সভাপতি। ফলে বিএনপি কিংবা আওয়ামী লীগ যারাই ক্ষমতায় আসুক, তিনি সবসময় নিরাপদ থাকেন। শিপুর নামে চকবাজার, পাঁচলাইশ ও কোতোয়ালী থানায় একাধিক মামলা থাকলেও কেবল টিনুর কারণেই তিনি প্রকাশ্যে চলাফেরা করেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, ২০০০ সালে টিনু নগরীর গোলপাহাড় এলাকায় একে-২২ রাইফেলসহ গ্রেফতার হন। ২০১২ সালে চাঁন্দগাও থানায় তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে মামলা হয়।


বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য