Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper

শিরোনাম
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর, ২০১৯ ২০:৩৮

গণমাধ্যমে খবর দেখে ফিরে এলেন সেই মা, ফেরত চাইলেন শিশুকে

পঞ্চগড় প্রতিনিধি:

গণমাধ্যমে খবর দেখে ফিরে এলেন সেই মা, ফেরত চাইলেন শিশুকে

পঞ্চগড়ে কুড়িয়ে পাওয়া সেই শিশুর মা ফিরে এসে সন্তানকে ফেরত চেয়েছেন। গত শুক্রবার জেলা শহরের কামাত পাড়া এলাকায় একটি বাড়ির দরজার সামনে ১৬ দিন বয়সের শিশু সন্তানকে ফেলে রেখে চলে যান রুমি আক্তার নামের ওই মা। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে শিশুটিকে পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে রাখে। 

এরপর জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন হাসপাতাল এবং ওই এলাকা পরিদর্শন করেন। খবরটি গণনমাধ্যমে প্রচার হয়। 

রুমি আক্তার জানান, বিভিন্ন পত্রিকায় তার সন্তানের ছবি দেখেন তিনি। তার সন্তানকে একজন জেলা প্রশাসক কোলে নেওয়ার সংবাদ পেয়ে ছুটে আসেন তিনি। ছবি দেখেই তিনি সন্তানকে ফেরত পাবার জন্য ফিরে আসেন।   

পুলিশ জানায়, শিশুটিকে ফেলে রেখে ট্রেনে করে রুমি আক্তার ঠাকুরগাঁও রেল স্টেশনে চলে যান। স্টেশনে ঘোরা ফেরা করতে দেখে ওই দিন রাতেই স্টেশন থেকে আটোয়ারী উপজেলার মালিগাও এলাকার আলেমা বেগম তাকে তার নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। আলেমা বেগমের বাড়িতে টিভি এবং পত্রিকা পরে তিনি সবকিছু খুলে বলেন। পরে আলেমা বেগম তাকে আটোয়ারী থানায় হস্তান্তর করেন। 

পুলিশ জানিয়েছে শিশুটিকে উদ্ধারের পর তারা শিশুটির মাকে খুঁজছিলেন। সোমবার দুপুরে আটোয়ারী থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরে তাকে সদর থানার মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের অফিস কক্ষে নিয়ে আসা হয়। এসময় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। 

জিজ্ঞাসাবাদের সময় রুমি আক্তারের বাবা মাও উপস্থিত ছিলেন।  জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে রুমি আক্তার মাসুদ নামের একটি ছেলেকে বিয়ে করেন। পরে পার্বতিপুর এলাকায় আরেকটি বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্বামী সন্তানটিকে মেনে নিতে পারছিল না। তাই সে সন্তানটিকে ফেলে রাখার কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়। এদিকে শিশুটিকে দত্তক নেয়ার জন্য দেশ বিদেশ থেকে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন অনেকে। কিন্তু জেলা প্রশাসন শিশুটিকে মায়ের কাছেই ফিরিয়ে দেয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে ফিরিয়ে দেবার আগে আরও কিছু দিন হাসপাতালেই রাখা হবে শিশুটিকে। সেখানে শিশুটির মা ও নানা নানীকেও থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 

জিজ্ঞাসাবাদের পর রুমি আক্তারকে হাসপাতালে তার সন্তানের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি শিশুটিকে কোলে তুলে নেন। এসময় আশে পাশের মানুষেরা তাদের দেখতে ছুটে আসে এবং আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।  কয়েকদিন পর রুমি আক্তারের ভূমিকা, ডাক্তার এবং পুলিশের মতামতের ভিত্তিতে শিশুটিকে মায়ের হাতে ফিরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী জানান, রুমি আক্তার অনেকটা ভারসাম্যহীন। মানবিক কারণে তাকে বিবেচনা করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, রুমি আক্তার আমাদের জানিয়েছে, জেলা প্রশাসকের কোলে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার সন্তানের ছবি দেখে তার মধ্যে মাতৃত্ববোধ জেগে উঠেছে। এসব কথা বলার সময় সে কান্নাকাটি করছিল। আমরা মানবিক কারণেই শিশুটিকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিতে চাই। তবে আরও কয়েকদিন পর্যবেক্ষন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শিশুটিকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা দেয়া হবে। 

 
বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য