শিরোনাম
প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৫:১৪

কীর্তনখোলায় ২ নৌযানের সংঘর্ষে ক্লিংকার বোঝাই জাহাজ ডুবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল :

কীর্তনখোলায় ২ নৌযানের সংঘর্ষে ক্লিংকার বোঝাই জাহাজ ডুবি

বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে দুটি নৌযানের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১ হাজার ২শ’ মেট্রিক টন ক্লিংকার বোঝাই একটি লাইটার জাহাজ (কার্গো) ডুবে গেছে। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কীর্তনখোলা দুর্ঘটনায় বরগুনা থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী জাহাজ এমভি শাহরুখ-২ এর সামনের দিকে (আন্নি) তলানি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে এই দুর্ঘটনায় প্রাথমিকভাবে কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনা কবলিত যাত্রীবাহী জাহাজটির যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। একই রুটের এমভি পূবালী-১ নামে আরেকটি জাহাজে ওই জাহাজের ৫ শতাধিক যাত্রীকে গন্তব্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে বরিশাল নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বরগুনা থেকে ৫ শতাধিক যাত্রী নিয়ে এমভি শাহরুখ-২ নামের জাহাজটি ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলো। অপরদিকে চট্টগ্রাম থেকে ১ হাজার ২শ’ মেট্রিক টন ক্লিংকার নিয়ে হাজী মো. দুদু মিয়া (রা.)-১ নামে একটি লাইটার জাহাজ বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী দপদপিয়ায় অ্যাংকর সিমেন্ট কারখানার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলো। রাত সাড়ে ১০টার দিকে কীর্তনখোলা নদীর নদীবন্দর এলাকা অতিক্রমকালে যাত্রীবাহী ও মালবাহী জাহাজ দু’টির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মালবাহী এবং যাত্রীবাহী দুটি জাহাজের সামনের অংশ বিধ্বস্ত হয়। যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। ক্ষতিগ্রস্থ অংশ দিয়ে পানি ঢুকে কিছুক্ষণের মধ্যে ওই পয়েন্টে ডুবে যায় ক্লিংকারবাহী জাহাজটি। অপরদিকে যাত্রীবাহী জাহাজটির তলানি দিয়ে পানি ঢুকে লঞ্চটি ডুবে যাওয়ার উপক্রম হলে সেটি দ্রুতগতিতে কীর্তনখোলা নদীর পূর্বপ্রান্তে চরকাউয়া পয়েন্টে নেওয়া হয়। 

দুর্ঘটনার জন্য দু’টি জাহাজের মাস্টাররা পরস্পরকে দায়ী করেছেন। এমভি শাহরুখ-২ কর্তৃপক্ষ জানান, রাতে মালবাহী জাহাজ চলাচল নিষেধ থাকলেও ওই জাহাজটি নিয়ম অমান্য করে। অপরদিকে, মালবাহী জাহাজ কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, যাত্রীবাহী লঞ্চটি রং (ভুল) সাইড দিয়ে যাওয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। 

খবর পেয়ে বিআইডব্লিউটিএ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী এবং পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা দুর্ঘটনাস্থান পরিদর্শন করেন। খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থান পরিদর্শন করেন সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহও। ক্ষতিগ্রস্থ লঞ্চটি তাৎক্ষণিক মেরামত করা সম্ভব না হওয়ায় ওই লঞ্চের বেশির ভাগ যাত্রীকে একই রুটের ঢাকাগামী এমভি পূবালী-১ লঞ্চে উঠিয়ে দেয় বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। তারপরও যারা গন্তব্যে যেতে পারেনি তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেন সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ। বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা আজমল হুদা মিঠু সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য

close