শিরোনাম
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২০:৪৪

লামায় ১১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি

লামায় ১১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার
সরকারি মাতামুহুরী কলেজ লামায় নবনির্মিত শহীদ মিনার

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বেশির ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনোটিতে অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার বানিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। আবার কোনো প্রতিষ্ঠানে দিবসটি পালনই করা হয় না।

অভিযোগ উঠেছে, উপজেলার ১২৭টির মধ্যে ১১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই এখনো স্থাপন করা হয়নি শহীদ মিনার। এ কারণে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের যথাযথভাবে সুযোগ পাচ্ছে না। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি তুলেন শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধাসহ স্থানীয়রা।

কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নুনারবিল মডেল, রাজবাড়ি, লামামুখ, ছাগল খাইয়া লাইনঝিরি, কলিঙ্গাবিল পাড়া ও সাবেক বিলছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েসহ অধিকাংশ বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই।

শহীদ মিনার না থাকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এলে ১১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কোনোটিতে অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার বানিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়া হয়। কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না বানিয়ে শুধু আলোচনা সভা বা মিলাদ মাহফিল করে দিবসটি পালন করা হয়। আবার কিছু প্রতিষ্ঠানে তাও করা হয় না।

উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ৩টি কলেজ, সরকারি প্রাথমিক ৮৫টি, রেজিস্টার প্রাথমিক বিদ্যালয় ৪টি, কিন্ডারগার্টেন ৫টি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে ১৪টি। এছাড়া বেসরকারি বিদ্যালয় ও মাদরাসা মিলিয়ে আরও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে অন্তত ১৯টি। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্তত ১৩ হাজার শিক্ষার্থী লেখাপড়ার ব্যবস্থা রয়েছে প্রতিদিন। 

অপরদিকে এ উপজেলায় দুই লাখের কাছাকাছি জনগণের বসবাস। আগের তুলনায় শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি সাধন হলেও পিছিয়ে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার স্থাপনের ক্ষেত্রে।

জানা গেছে, লামা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি মাতামুহুরী কলেজ, কোয়ান্টাম কসমো স্কুল এন্ড কলেজে, চাম্বি স্কুল এন্ড কলেজ, ডলুছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লামামুখ উচ্চ বিদ্যালয়, গজালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, মেরাখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩নং রিপুজিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফাইতং উচ্চ বিদ্যালয় শহীদ মিনার রয়েছে। বাকি বিদ্যালয়গুলোতে এখনো নির্মাণ করা হয়নি শহীদ মিনার। ফলে ওইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর ভাষা দিবসের মত গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান পালনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। 

নুনারবিল সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহেদ সরোয়ার বলেন, সরকারিভাবে কোনো বরাদ্দ না থাকায় শহীদ মিনার নির্মাণ করা যায়নি। তাই একুশে ফেব্রুয়ারি এলে লামা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারেই শ্রদ্ধা নিবেদন করতে হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে উপজেলা সদরের বা ইউনিয়ন সদরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে এসে দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। 

ফাঁসিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান জাকের হোসেন মজুমদার জানান, গত বছর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি’র কাছে স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে একটি শহীদ মিনার তৈরি করে দেন। 

এ বিষয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শেখ মাহাবুবুর রহমান বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদ মিনার নির্মাণের ব্যাপারে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপির সাথে অনেক আগে আলাপ করেছিলাম। 


অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকার সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কান্তি চৌধুরী বলেন, শহীদ মিনার নির্মাণ করার জন্য সরকারিভাবে কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায় না।
 
এদিকে, লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমি বলেন, প্রজন্মের কাছে মাতৃভাষার অর্জন-ইতিহাস উপস্থাপন করার জন্য অবশ্যই শহীদ মিনার জরুরি। পর্যায়ক্রমে সকল বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে। 


বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য