শিরোনাম
প্রকাশ : ৯ এপ্রিল, ২০২০ ১২:৫০

সামাজিক দূরত্ব মানছে না গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ

আব্দুস সামাদ সায়েম, সিরাজগঞ্জঃ

সামাজিক দূরত্ব মানছে না গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ

করোনা প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশ মানছে না গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ। সামাজিক দূরত্ব না মেনে হাট-বাজারে কেনাকাটাসহ আড্ডায় ব্যস্ত থাকছেন তারা। এতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের শঙ্কা রয়েছে। আর প্রশাসন বলছে, সার্বক্ষণিক তারা মাঠে কাজ করছেন। এমনকি বিনা কাজে ঘরের বাইরে যারা বের হচ্ছেন তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে অর্থদণ্ডও দেয়া হচ্ছে। 


জানা যায়, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশে অঘোষিত লকডাউন চলছে। সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের না হতে সরকারের পক্ষ থেকে নিষেধ করা হয়েছে। বারবার মিডিয়াগুলোতে প্রচার চালানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে নিত্য প্রয়োজনে বের হলেও জনসমাগম না করাসহ সামাজিক দূরত্ব অন্তত ৬ ফুট দূরত্ব থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু সরকারের এ নির্দেশনা মানছেন না গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ। হাটবাজার কাঁধের সাথে কাঁধ মিলিয়ে কেনা কাটা করছে তারা। 

সরেজমনি দেখা যায়, সদর উপজেলার শালুয়াভিটা হাট, বাগবাটী, তাড়শের বারুহাস হাস ও মহিষলুটি মৎস্য আড়তে ক্রেতা-বিক্রেতারা গায়ে গা লাগিয়ে কেনাকাটা করছে। চরাঞ্চলের অবস্থা আরো করুন। তারা যেন ঈদ উৎসবে মেতে ওঠেছে। হাত রেখে চলাফেরা করছে, অনেকে একসাথে আড্ডায় ব্যস্ত রয়েছে। বিশেষ করে চৌহালীর চরসলিমাবাদ, কে আর পাইলট স্কুল মোড় বাজার, কাওয়াকোলার মহেষকাংলাসহ চরাঞ্চলের মানুষজন স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। নিয়মনীতির কোন বালাই নেই। দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় সচেতনতার জন্য নেই প্রশাসনের তৎপরতা। এতে করোনা ঝুঁকিতে রয়েছে হাজার হাজার অসচেতন মানুষ। 

অন্যদিকে, জেলার সৈয়দ স্পিনিং এন্ড কটন মিল চালু রাখায় এখানে প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ করোনা ঝুঁকিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে শহরের ধানবান্ধি মতিন সাহেবের বালুর পয়েন্টে খোলা থাকায় শতশত শ্রমিক-চালক একসঙ্গে কাজ করছে। এতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের চরম ঝুঁকি রয়েছে। এদিকে জেলা-উপজেলা শহরগুলোতে পুলিশ প্রশাসন মানুষকে ঘরে রাখতে রাত-দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। 
 
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শ্রাবনী রায় জানান, জনসমাগম রোধে জেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক মাঠে রয়েছে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অর্থদণ্ডও দেয়া হচ্ছে। করোনার ঝুঁকি জেনেও কিছু মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে। 

সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম জানান, প্রত্যক পুলিশ সদস্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাতদিন মাঠে কাজ করছে। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তারপরেও কিছু মানুষ আইন মানার চেষ্টা করছে। 

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, একজন পাগলও আগুন দেখলে ভয়ে দূরে থাকে। কিন্তু আগুনের চেয়েও ভয়াবহ করোনাকে কেয়ার করার চেষ্টা করছে না। কিছু কিছু মানুষ পুলিশের সাথে যেন চোর-পুলিশ খেলছে। পুলিশ গেলে পালিয়ে যায়। পুলিশ ফিরে আসলে আবার আড্ডায় মেতে ওঠে। তারপরেও বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী দেশের জন্য ও দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাবে। তিনি সিরাজগঞ্জের প্রত্যক মানুষকে নিজের এবং পরিবারের জীবন রক্ষার্থে ঘরে থাকার আহ্বান জানান।  

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য