শিরোনাম
প্রকাশ : ২ জুলাই, ২০২০ ২০:৪১

কুড়িগ্রামে বন্যায় চরম দুর্ভোগে মানুষ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামে বন্যায় চরম দুর্ভোগে মানুষ

কুড়িগ্রামে গত এক সপ্তাহ যাবত ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যদিও নদনদীর পানি অনেক কমে এসেছে, দুর্ভোগ কমেনি নদনদীর অববাহিকায় প্লাাবিত এসব মানুষের। বন্যায় দেড় লক্ষাধিক বানভাসী মানুষের কষ্ট চরমে পৌঁছেছে। খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সংকট এসব এলাকায় মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সেইসাথে রয়েছে গো-খাদ্য সংকট।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৫৩  সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে ৪৮ সেন্টিমিটার এবং ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ২৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে, চরাঞ্চলগুলোর বন্যা কবলিত এলাকার ঘরবাড়ি থেকে পানি নেমে না যাওয়ায় অনেকেই বাড়িতে ফিরে যেতে পারছেন না।

সদর উপজেলার ভোগডাঙা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের মাঝের চরের পিন্টুর খামারের বাসিন্দা স্বামী পরিত্যক্তা আমুরুন বেগম ও মঞ্জু বেগম জানান, গত ৬ দিন ধরে নিজের বাড়ি ছেড়ে পাশের উঁচু রাস্তায় এসে কোন রকম ছাপড়া করে উঠচি। বাড়িত পানি উটলে চৌকি, বিচনাসহ অনেক জিনিস ঘরের ধরনায় নটকে রাখচি। বাকিগুলো ধরি আসি রাস্তাত উঠচি। এলা পানি কমচে কিন্তু বাড়িত ক্যাতক্যাতা যাবার পাবার নাগচিনা। আবার থামি থামি বৃষ্টি আইসে কী করম তা ভাইববার পাচ্ছিনে।

এদিকে, সরকারিভাবে ত্রাণ তৎপরতা শুরু হলেও তা সকলের কাছে পৌঁছাচ্ছে না বলে অনেকেই অভিযোগ করেন। চারণ ভূমি তলিয়ে থাকায় গবাদি পশু খাদ্য সংকট নিয়েও বিপাকে পড়েছেন বন্যা কবলিত মানুষেরা। গত ২৪ ঘন্টায় বন্যার পানিতে ডুবে আরো ২ শিশুসহ এ পর্যন্ত ৫ শিশু ও এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম জানান, বন্যার্তদের জন্য ৩০২ মেট্রিক টন চাল ও শুকনো খাবার বিতরণের জন্য ৩৬ লাখ ৬৮ হাজার টাকা ইতিমধ্যেই দেয়া হয়েছে। নতুন করে আরো ২ হাজার মেট্রিক টন চাল ও শুকনো খাবারের জন্য ২ কেটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এছাড়াও শুকনো খাবার আলাদাভাবে ত্রিশ হাজার প্যাকেটের চাহিদা দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিডি প্রতিদিন/আল আমীন 

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর