শিরোনাম
প্রকাশ : ১৫ জুলাই, ২০২০ ১৯:৩৭
আপডেট : ১৫ জুলাই, ২০২০ ২০:২০

বন্যায় গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

বন্যায় গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে

চারদিকে থৈ থৈ করছে পানি। কোথাও উঁচু জায়গা নেই। ঘাসক্ষেত তলিয়ে গেছে। গরুগুলোকে ময়লা আবর্জনা আর বালি মাটি দিয়ে উঁচু ঢিবি করে রাখা হয়েছে। শুকনো কিছু খড় কেটে মাঝে-মধ্যে খাবার দেয়া হচ্ছে। আগের মতো খাবার না পাওয়ায় গবাদি পশুগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। এমন দৃশ্য এখন বন্যা কবলিত সিরাজগঞ্জের কাওয়াকোলা ইউপিসহ জেলার ৩০টি ইউপির চরাঞ্চলের। এ অবস্থায় কোরবানিতে গবাদি পশুর দাম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে কৃষক ও খামারিরা। 

জানা যায়, বর্তমানে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৭৪ সে. মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে চরাঞ্চলের ৩৫টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। চরাঞ্চলের সবাই কৃষিকাজ ও গবাদি পশু লালন-পালন করে জীবিকা নির্বাহ করে। সারা বছর কৃষকরা চরের সবুজ খাওয়ায়ে কস্ট করে দুচারটি করে গরু-ছাগল পালন করে কোরবানির আগে বিক্রি করে। আবার অনেকে দুধেল গাভী পালন করে দুধ বিক্রি করে সংসার চালায়। বন্যার কারণে চরাঞ্চলের সব ধরনের ফসলসহ ঘাষক্ষেত তলিয়ে গেছে। এমনকি বসতবাড়িও পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

এ অবস্থায় গবাদি পশুগুলো নিয়ে কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছে। চরাঞ্চলের অনেকে আবর্জনা ও মাটির উঁচু ঢিবি করে গবাদিপশুগুলোকে বেঁধে রেখেছে। কেউবা ওয়াপদা বাঁধে গবাদি পশু নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু গবাদি পশুর খাদ্য নিয়ে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। এমনিতে কর্ম নেই তার উপর গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় গবাদিপশুগুলোকে কেউ ঠিকমত খাবার দিতে পারছে না।

এতে গবাদিপশুগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। দুধেল গাভীগুলোও দুধ দিচ্ছে না। যে গরুগুলো কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে তা শুকিয়ে ওজন কমে যাওয়ায় চরম ক্ষতির শঙ্কা করছে কৃষকরা। এছাড়াও বসতভিটায় পানি ওঠায় হাঁস-মুরগি নিয়েও বিপাকে পড়েছে খামারিরা। বহু কৃষকের হাস-মুরগি নদীতে ভেসে গেছে। ঘরের চালের উপর হাস-মুরগিগুলো রাখছে। 

বন্যা কবলিত সোহেল রানা জানান, দুটি গাভী পালন করছিলাম। প্রতিদিন দুটি গাভী ১২ কেজি দুধ দিতো। কিন্তু এখন এক সের দুধও দেয় না। সঠিকভাবে খাবার দিতে না পারায় দুধ কমে গেছে। এখন শুধু বাছুরগুলো দুধ খেয়ে বেঁচে আছে। 

কৃষক আব্দুর রাজ্জাক ও হালিম জানান, কোরবানির জন্য খুব কষ্ট করে চারটি গরু লালন-পালন করেছিলাম। গরুগুলো হৃষ্টপুষ্ট হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সঠিক খাবার দিতে না পারায় গরুগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। যে গরুর ওজন ১০ মণ ছিল তা এখন ৮ মণে এসে দাঁড়িয়েছে। এখন বিক্রি করলে চরম ক্ষতি হবে। 

বিডি প্রতিদিন/আল আমীন


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর