শিরোনাম
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট, ২০২০ ১৯:৫৬

সিরাজগঞ্জ বাড়ছে পানি বাড়ছে দুর্ভোগ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জ বাড়ছে পানি বাড়ছে দুর্ভোগ

চতুর্থ দফা যমুনা নদীর পানি বাড়ায় বন্যা কবলিতদের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। সিরাজগঞ্জে নিমাঞ্চলের মানুষ কেউ ঘরে ফিরতে পারছে না। দীর্ঘ দুই মাস যাবত বাঁধের উপর ঝুপড়ি তুলে মানবেতরভাবে জীবনযাপন করছে। আর পানিবন্দি মানুষের মধ্যে চরম খাদ্য, ওষুধ ও শুকনো খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। দেখা দিয়েছে পানিবাহিত ডায়রিয়া ও হাত পায়ে ঘাসহ নানা রোগ। অনেক বসতভিটার চারপাশে পানি থাকায় শিশু-বয়োবৃদ্ধদের নিয়ে বন্দী জীবযান করছে মানুষ। আয়-রোজগার না থাকায় দুর্বিসহের ঘূর্ণিপাকে পড়েছে বন্যা কবলিতরা। তাদের চোখে-মুখে হতাশার ছাপ ফুটে ওঠেছে।

সরকারিভাবে যে সহায়তা দেয়া হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। একটি পরিবারকে সরকারিভাবে মাত্র ১০ কেজি চাল দেয়া হয়েছে। যা অনেকে পরিবার একমাস আগেই শেষ হয়ে গেছে। অনেকে খেয়ে না খেয়ে দিনযাপন করছে। 

অন্যদিকে, পানি বাড়ায় যমুনার তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। চৌহালীর উপজেলা সংরক্ষণ বাঁধের তিনটি স্থানে ১৫০ মিটার বিলীন হয়ে গেছে। এতে ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে কয়েটি গ্রামের হাজারো মানুষ। এ বছর দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় প্রায় ৫ লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতির শিকার হয়েছে। এর মধ্যে কৃষকের স্বপ্নের প্রায় ১৫ হেক্টর ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। শতাধিক পুকুরের মাছ নদীতে চলে যাওয়ায় মৎস্য ব্যবসায়ী চরম ক্ষতির শিকার হয়েছে। কয়েক হাজার বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় অনেকে রাস্তার ফকির হয়ে গেছে। রাস্তাঘাট নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চলাচলে নানা দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় কাচা ঘরগুলোর নিচের অংশ পচে গেছে। ঢেউয়ের আঘাতে ঘরের ভিটাগুলোর মাটি সরে যাওয়ায় ঘর বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। 

এ নিয়ে বন্যা ও ভাঙনকবলিতরা চরম হতাশার মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থায় ভাঙন ও বন্যা কবলিতরা মাঠ পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকাপূর্বক সরকারি প্রণোদনা সহায়তা দাবি করেছেন। 

চরমিরপুর এলাকার বাসিন্দা বন্যা ও আয়েশা খাতুন জানান, একদিকে স্বামীর আয় রোজগার নেই। তারপর দফায় দফায় বন্যায় রান্নাঘর ও টয়লেট সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। থাকার ঘরের অবস্থায় করুণ। কিভাবে মেরামত করব সে দুশ্চিন্তায় রাতে ঘুম হয় না। সরকারের পক্ষ থেকে যদি সহায়তা করতো তবে খুব উপকার হতো। 

জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহমেদ জানান, বন্যা শেষ হলে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা পূর্বক যথাসাধ্য সহায়তা করা হবে। 

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর