শিরোনাম
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৬:১২
আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৬:২৮

সিজারের সময় অসতর্কতায় নবজাতকের পেট কর্তন, অতঃপর...

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

সিজারের সময় অসতর্কতায় নবজাতকের পেট কর্তন, অতঃপর...

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রসূতিকে সিজারিয়ান অপারেশন করতে গিয়ে নবজাতকের পেট কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার সকালে জেলা শহরের কাউতলী এলাকার দি আল ফালাহ মেডিকেল সেন্টারে এই ঘটনা ঘটে। সিজার করা ফারজানা আক্তার (২২) নামের প্রসূতী জেলার আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী বাউতলা এলাকার তৌহিদুল ইসলামের স্ত্রী। ঘটনার পর হাসপাতালের সবাই পালিয়ে গেছে। 

ফারজানার স্বামী তৌহিদুল ইসলাম জানান, আমার স্ত্রী ফারজানার প্রসব বেদনা উঠলে রবিবার সকালে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে নিয়ে আসি। শহরে এসে পৌছার পর উপায় না পেয়ে এক দালালের খপ্পরে পরে দি আল ফালাহ মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাই। সেখানে আমার স্ত্রীকে সিজার করতে সাড়ে ১৬ হাজার টাকা চুক্তি করে। এরপর সেখানে মারুফা রহমান নামের একজন চিকিৎসক সিজারিয়ান অপারেশন করলে আমার স্ত্রী একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেন। কিন্তু নবজাতকের পেটের একপাশে রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে তারা জানান, নাভি কাটকে গিয়ে কাচির আঘাত লেগেছে। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ও জেলা সিভিল সার্জন অফিসের কর্মকর্তারা হাসপাতালে আসেন। তবে তাদের আসার খবর পেয়ে হাসপাতালের মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাই পালিয়ে যায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার মাহমুদুল হাসান জানান, খবর পেয়ে আমরা হাসপাতালটিতে যাই। হাসপাতালটির কোন লাইসেন্স নেই।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্বে থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাফফাত আরা সাঈদ বলেন, শিশুটির পেটে ক্ষতের চিহ্ন দেখা গেছে। তবে তেমন গুরুতর নয়। কিন্তু অদক্ষতার কারণে এই ঘটনাটি ঘটেছে। 

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালটিতে নিয়মিত সিজারিয়ান অপারেশন করা হচ্ছে। রবিবার সকালেও দুইটি সিজারিয়ান অপারেশন হয়। এছাড়াও এখানে বিভিন্ন প্রকার প্যাথলজি টেস্ট করা হয়। কিন্তু মেয়াদ উর্ত্তীণ ঔষধ হাসপালের ল্যাবে পাওয়া যায়। হাসপাতালটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হাসপাতালটিকে বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।


বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর