শিরোনাম
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২০:২৩
আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২২:১০

তিস্তার পানি ফের বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপরে

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

তিস্তার পানি ফের বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপরে

ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলের কারণে লালমনিরহাটের সবকটি নদ-নদীর পানি আরও বেড়েছে। বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম। এদিকে একই সময়ে ধরলার পানি কুলাঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা-ধরলা অববাহিকায় দেখা দিয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। প্লাবিত হয়ে দুর্ভোগে পড়েছে চরাঞ্চলের লাখো মানুষ।

গত দুদিন থেকে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে বুধবার বিকাল থেকে তিস্তা-ধরলার পানি বেড়ে গিয়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিপৎসীমা অতিক্রম করে। পানি বাড়ায় বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের দুর্ভোগ যেন শেষই হচ্ছে না। নতুন করে পানিতে তলিয়ে গেছে দুর্গত এলাকার রাস্তা-ঘাট ও ফসলের জমি। ভারী বর্ষণ ও উজানের পানিতে চরাঞ্চল এলাকায় আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। নাকাল হয়ে পড়েছে নিম্নাঞ্চলের মানুষ। অনেকের ঘরে খাবার থাকলেও রান্না করতে পারছেন না। ফলে নদীপাড়ের মানুষের দিন কাটছে খেয়ে না খেয়ে। বন্যার পানিতে রাস্তা-ঘাট ডুবে থাকায় কলার ভেলাতে চলাচল করছে লালমনিরহাটের ৬৩ চরের মানুষ।

বুধবার বিকাল ৫টার দিকে তিস্তার পানি ব্যারেজ পয়েন্টে বিপৎৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও সন্ধা ৭টা নাগাদ পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে। অপরদিকে ধরলার পানি একই সময়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করে। এদিকে পানির স্রোতে লালমনিরহাটের তিস্তা ও ধরলাপাড়ে কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না ভাঙন। গত ২৪ ঘণ্টায় নদীগর্ভে চলে গেছে ৭৩টি  বসতভিটা, আবাদি জমি, ফলের বাগান। বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন নদীপাড়ের মানুষ। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আশ্রয় নিতে হচ্ছে সরকারি রাস্তা ও অন্যের জমিতে। দিনের পর দিন দীর্ঘ হচ্ছে বাস্তুহারা পরিবারের সংখ্যা।

নদীবেষ্টিত সানিয়াযান ইউনিয়নের বানভাসী আয়েশা বানু (৫৫) জানান, ৪ মাস ধরে দফা দফায় বন্যার কবলে পড়ে সবকিছুই শেষ হয়ে গেল। মনে করেছিলাম এ বছর আর বন্যা হবে না। তাই চরের দেড় বিঘা জমিতে মাষকলাই চাষ করেছিলাম কিন্তু সেটা গত ৬ দিনে বন্যায় নষ্ট হয়ে গেল। এ বছর মানুষের কাছে হাত পেতে খাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
 
শুধু আয়েশা নন, একই অবস্থা লালমনিরহাটের তিস্তা-ধরলা বিধৌত ৬৩ চরের মানুষের। বন্যা যেন কোনোভাবেই তাদের পিছু ছাড়ছে না। এসব মানুষ চোখে-মুখে দেখছেন অন্ধকার।
 
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, বুধবার সারাদিন বৃষ্টিপাতের কারণে ও উজানের ঢলে আবারও নদ-নদীর পানি বেড়ে তিস্তা-ধরলায় বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর