শিরোনাম
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৭:৩৩

বগুড়ায় টানা বর্ষণে বীজতলা তলিয়ে কৃষকের অর্ধ কোটি টাকার ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া

বগুড়ায় টানা বর্ষণে বীজতলা তলিয়ে 
কৃষকের অর্ধ কোটি টাকার ক্ষতি

গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার শাহনগর, বিহিগ্রাম, বড়পাথার গ্রাম ও এর আশপাশের এলাকায় গড়ে ওঠা সবজি চারা নার্সারি ও সদ্য তৈরি বীজতলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকের অর্ধ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। টানা বৃষ্টিপাত থাকায় পানি বের করেও দিতেও পারছে না। 

জানা গেছে, কয়েকদিনের টানা বর্ষণে সবজি চারা নার্সারি ও সদ্য তৈরি করা বীজতলায় পানি জমে যায়। তারপরও কৃষকেরা জমির আইল বেঁধে এবং পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে সেগুলো রক্ষা করার চেষ্টা করে আসছিলেন। কিন্তু গত বৃহস্পতিবারের দুপুরের ভারি বর্ষণের কারণে নার্সারি রক্ষার প্রাণপন চেষ্টা পন্ড হয়ে যায়। 

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, জেলার শাজাহানপুর উপজেলার শাহনগর গ্রামের বেলাল হোসেনের ১০ শতক জমির মরিচের চারা, আফতাব হোসেনের ২৫ শতক জমির মরিচের চারা, দুদু মিয়ার ১৫ শতক জমির মরিচের চারা, নাইম হোসেনের ১০ শতক জমির মরিচের চারা, দুরুলিয়া গ্রামের লাল মিয়ার ১২ শতক জমির কপি ও মরিচের চারা, চোপীনগর গ্রামের রতন মিয়ার ২৫ শতক জমির মরিচের চারা, বিহিগ্রামের মামুনুর রশিদের ৩০ শতক জমির মরিচের চারা, বড়পাথার গ্রামের আব্দুল কাফির ২৫ শতক জমির মরিচের চারা বর্ষার পানিতে তলিয়ে গেছে। ২-৪ দিনের মধ্যেই এসব নার্সারির কচি চারা গুলো পঁচে যাবে। 

অপরদিকে শাহনগর গ্রামের খোরশেদ, আব্দুল মোমিন, জাহিদুল ইসলাম সহ অনেক চাষীই নতুন করে বীজতলা তৈরি করে তাতে চারা উৎপাদনের জন্য বীজ বপন করেছেন। কিন্তু পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এসব বীজতলা বপন করা বীজগুলো পঁচে যাবে। চারা গজাবে না। নার্সারির চারা এবং বীজতলার বীজ পঁচে যাওয়ার ফলে সংশ্লিষ্ট কৃষকেরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

শাহনগর সবজি চারা নার্সারি মালিক সমিতির সভাপতি আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, করোনা মহামারির কারণে অন্যান্য পেশাজীবীদের মতো সবজি চারা নার্সারি মালিকেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তার উপর প্রবল বর্ষণে নার্সারি ও বীজতলা তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সরকারিভাবে ভর্তুকির ব্যবস্থা করা হলে এসব ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারতো। 

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূরে আলম জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই নিমজ্জিত সবজি চারা নার্সারি, বীজতলা এবং অন্যান্য ফসলের ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন তৈরি করে অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেলে তা কৃষকের হাতে পৌঁছে দেয়া হবে। 

বিডি প্রতিদিন/আল আমীন


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর