শিরোনাম
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ১৫:০৫
প্রিন্ট করুন printer

সাবেক এমপি জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ফারুক আল শারাহ, লাকসাম:

সাবেক এমপি জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার মৃত্যুবার্ষিকী আজ
সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া

নাঙ্গলকোটের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। এ উপলক্ষে মরহুমের গ্রামের বাড়িতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মরহুমের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কবর জেয়ারত, কোরআন তেলাওয়াত, মিলাদ ও দোয়া।

জানা যায়, সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী। জীবদ্দশায় তিনি আওয়ামী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৭ সালে জীবনের প্রথম নির্বাচনে নাঙ্গলকোটের ঢালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হন। বিপুল জনপ্রিয়তার কারণে ১৯৭৯ সালে তিনি আওয়ামী লীগের দূর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন লাভ করেন। তরুণ বয়সে নৌকার কাণ্ডরি! জীবনের প্রথম সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পরবর্তীতে এরশাদ মন্ত্রীসভার প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমদকে বিশাল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে সারাদেশে আওয়ামী লীগের মাত্র ৩৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া ছিলেন অন্যতম একজন। প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হয়ে তিনি চৌদ্দগ্রামের হোমনাবাদ অঞ্চল এবং লাকসাম উপজেলার অবহেলিত পাঁচটি ইউনিয়নের সমন্বয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা (থানা) গঠনের প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করেন। এরই প্রেক্ষিতে একনেকে নাঙ্গলকোট উপজেলা অনুমোদিত হয়।

জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া ১৯৮৬ এবং ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কিন্তু তিনি সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে বিশাল ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি নাঙ্গলকোটে ব্যাপক উন্নয়ন করেন। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া আওয়ামী লীগের মনোনয়ন লাভ করেন। কিন্তু ওই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হয়। প্রয়াত জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া খুবই সাধারণ জীবন যাপন করতেন। ব্যাপক জনপ্রিয়তায় তিনি নাঙ্গলকোটের মাটি ও মানুষের খেতাব লাভ করেন।

২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া নাঙ্গলকোটবাসীকে নিঃশব্দে কাঁদিয়ে চিরবিদায় নিয়ে চলে যান। তাঁর তিনটি জানাজায় লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশগ্রহণ করে। নিজ বাড়ি বদরপুরে বাড়ির পার্শ্বে পুকুর ধারে সবুজ বৃক্ষে ঘেরা শ্যামল মাটিতে তাকে অন্তিম শয়ানে শায়িত করা হয়।

জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব নাজমুল হাছান ভূঁইয়া বাছির জানান, জীবদ্দশায় আমার চাচা মানষের কল্যাণে নিবেদিতভাবে কাজ করেছেন। পরোপকার ছাড়া তিনি কিছুই বুঝতেন না। তিনি ছিলেন সততার রাজনীতির অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় সকলের দোয়া কামনা করছি।  

 

বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর