শিরোনাম
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি, ২০২১ ১৩:৪৬
প্রিন্ট করুন printer

দিনাজপুরে শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে মাঠে ব্যস্ত কৃষক

রিয়াজুল ইসলাম, দিনাজপুর থেকে:

দিনাজপুরে শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে মাঠে ব্যস্ত কৃষক

ঘন কুয়াশা আর কনকনে শীত উপেক্ষা করে ইরি-বোরো চাষে ঝুঁকে পড়েছেন দিনাজপুরের কৃষক-কৃষাণীরা। ভোর হতেই শীতল ঠাণ্ডা পানিতে নেমে বোরো ধানের বীজ তুলে সেই বীজ জমিতে রোপণ করছেন কৃষক। পাশাপাশি বোরো চাষের জন্যে প্রস্তুত করা হচ্ছে জমি। ভোর রাত থেকে শুরু করে দুপুর পর্যন্ত বোরো জমি প্রস্তুত করতে হাল চাষ করছেন কৃষক। 

আগাম আলু উত্তোলনের পর ওই জমিতে রোপনের হিড়িক পড়েছে। তাই ইরি-বোরো রোপন নিয়ে যেন চলছে গ্রামে গ্রামে উৎসবের আমেজ। ব্যস্ত সময় কাটছে কৃষক-কৃষাণিদের। এবার অন্য বছরের তুলনায় দিনাজপুর জেলায় তিনগুণ বেশি জমিতে আলু চাষ হয়েছে। আলু উত্তোলনের পরে সেইসব জমিতে চাষ করা হচ্ছে ইরি-বোরো ধান। তবে যারা আলু চাষ করেননি, তাঁরা আগাম সেইসব জমিতে এখনই নেমে পড়েছেন বোরো রোপনে। 

ইরি বোরো ধানের মধ্যে হাইব্রীড ও উফসী জাতের ধান বেশী আবাদ হয়।এছাড়াও হিরা-১, হিরা-২, সোনার বাংলা, বি-ধান ২৮, ব্রী-২৯, ব্রী-৮১, ব্রী-৭৪, ব্রী-৮৯সহ স্থানীয় জাতের কিছু ধান চাষ হচ্ছে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, ঘনকুয়াশা ঢাকা ভোর। বাড়ি সংলগ্ন জমিতে ধানের চারা তুলছেন অনেক কৃষক ও পরিবারের শিশু-কিশোররা। পুরুষরা ঝুঁড়িতে আবার কেউবা ভার-বাকুয়ায় করে ধানের চারা নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন। কেউ চাষ দেয়া জমির ঘাস পরিষ্কার করছেন। পরিষ্কার শেষে সারিতে লাগানো হচ্ছে ধানের চারা। হালকা হিমেল বাতাসে দুলছে সদ্য লাগানো ধানের চারা। দোল খাওয়া ধানের চারায় কৃষক দেখছেন আগামীর রঙিন স্বপ্ন। চারা বড় হবে, ফসলে ভরে উঠবে তার গোলা।

কৃষকরা বলছেন, আগাম চারারোপন করায় ক্ষেতে ফসল ভালো উৎপাদন হয়। আর সারি সারি করে রোপন করার ফলে পরিচর্যায় স্বস্থি মিলে। এছাড়াও ক্ষেতে রোগবালাই কম হওয়ায় অন্যান্য ফসল থেকে শতকরা ২০ভাগ উৎপাদন বেশি হয়। 
চিরিরবন্দরের নশরতপুর ইউপির দক্ষিণ রানীপুর গ্রামের কৃষাণি মহচনা বেগম জানান, এই ফসল দিয়ে পরিবারের খাবারের যোগান দিতে হয়। তাই বোরো মৌসুম এলে সময় মতো রান্না, খাবারের কথা ভুলে যেতে হয়। শুকনো খাবার চিড়া-মুড়ি খেয়ে ভোরে কাজে নামতে হয়। পরিবারের পুরুষরা শ্রমিকদের সাহায্য করতে মাঠে যান। 

পুনট্টি ইউনিয়নের হরনন্দপুর গ্রামের আফছার আলী খান বলেন, বীজ, সার সবকিছুর দাম বেশি।  শ্রমিকের মজুরিও বেশি। সার ও বীজের দাম সহনীয় হলে ধান চাষ করে আরও লাভ পাওয়া যেত।  

কাহারোলের কাজিটনা গ্রামের কৃষক আরমান জানান, ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডার মধ্যে সময় মতো চারা রোপন করতে না পারলে আশানুরুপ ফলন পাওয়া যাবে না। তাই চারা রোপন শুরু করেছি।
 
কৃষিবিভাগ বলছে,, চলতি মৌসুমে শীতে বীজ তলার তেমন ক্ষতি না হওয়ায় কৃষকেরা বেশ স্বস্থিতে রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি ইরি বোরো মৌসুমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে । 

চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, এখন বোরো লাগানোতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে কৃষক-কৃষাণিরা। কোনো সমস্যা না হলে প্রতি হেক্টরে হাইব্রিড ৪.৮১ মে.টন এবং উচ্চ ফলনশীল ৪.২৪ মে.টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিডি প্রতিদিন/ মজুমদার 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর