শিরোনাম
প্রকাশ : ৯ মার্চ, ২০২১ ১৮:৪৬
প্রিন্ট করুন printer

উলিপুরে তিস্তা থেকে বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে বাঁধের ডাম্পিং

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

উলিপুরে তিস্তা থেকে বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে বাঁধের ডাম্পিং

কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। আর এ নদী থেকে বালু উত্তোলন করছেন খোদ ইউপি চেয়ারম্যান নিজেই। নদী থেকে বালু উত্তোলন করে ওই চেয়ারম্যান তার নির্মাণাধীন বিশাল বাড়ি ও পুকুর ভরাট করছেন বলে অভিযোগ। 

এলাকাবাসী জানান, এভাবে বালু উত্তোলনের ফলে চরম হুমকির মুখে পড়েছে নদী তীর রক্ষার কাজে ব্যবহৃত পানি উন্নয়ণ বোর্ডের লাখ লাখ টাকার সদ্য কাজ। পাউবো’র এ কাজে জিও ব্যাগ রয়েছে হুমকিতে পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী এলাকার ঘর-বাড়ি। গত বর্ষা মৌসুমে উলিপুর উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের কর্পুরা এলাকায় তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। এতে ভাঙনের হুমকির মুখে পড়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও জাপা নেতা আতিয়ার রহমান মুন্সির পৈত্রিক বসত বাড়িসহ পার্শ্ববর্তী স্থাপনা। পরে পাউবো কর্তৃপক্ষ নদীর ভাঙন প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক ২৫০ মিটার এলাকায় প্রায় ১০ হাজার জিও ব্যাগ ফেলে তা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। ফলে তখন সেখানকার মানুষজন ভাঙন প্রতিরোধে রক্ষা পেলেও আবার নতুন করে ভাঙন আশংকায় রয়েছেন তারা। জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের স্থান থেকে একটু দূরে এক সপ্তাহ যাবত ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদীর ভূগর্ভস্থ থেকে অবাধে বালু তুলছেন ইউপি চেয়ারম্যান।

সরেজমিনে জানা যায়, তিস্তা নদীর বালুচর থেকে অবাধে বালু তুলছেন চেয়ারম্যানের বালু উত্তোলণকারী বাহিনী। তারা সকাল থেকে শুরু করে দিনভর তুলছেন সেখানকার বালু। আর এসব বালু নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ওই চেয়ারম্যানের নির্মাণাধীন সেই বাড়িতে। এছাড়াও সেই বালু দিয়ে তার বাড়ির পুকুর ভরাটের কাজও করা হচ্ছে। 

বালু উত্তোলনকারী শ্রমিক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, 'চেয়ারম্যানের অর্ডারে আমরা বালু তুলতেছি। আমাদের করার কিছু নেই। আমাদের বলছে তাই চেয়ারম্যান ও তার ভাইয়ের কথামত তুলতাছি। চেয়ারম্যানের ভাই মোশারফ মুন্সির নির্দেশে মেশিন লাগাইয়া দিছি এবং কয়েকদিন ধরে তুলতেছি।' 

স্থানীয় বাসিন্দারা অনেকেই জানান, কয়েকদিন ধরে ইউপি চেয়ারম্যানের লোক বালু তুলছেন। এর আগেও চেয়ারম্যানের নির্দেশে তার লোকজন তিস্তা নদী থেকে বালু তুলে নিয়ে যায় এবং বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে। এ ব্যাপারে দলদলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান মুন্সি বালু উত্তোলনের কথা স্বীকার করে বলেন, এখন থেকে বালু উত্তোলনের কাজ বন্ধ করা হবে। 

কুড়িগ্রাম পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, কিছুদিন আগে নদী ভাঙন প্রতিরোধে ওই এলাকায় আমরা ১০ হাজারেরও বেশি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করেছি।কোনমতে ভাঙন ঠেকাতে পেরেছি। এখন যদি বালু উত্তোলণ করে কেউ এভাবে এলাকাবাসীকে আবার নদী ভাঙনের কবলে ফেলে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। 


বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর