শিরোনাম
প্রকাশ : ১৬ মার্চ, ২০২১ ১৯:৫৪
আপডেট : ১৬ মার্চ, ২০২১ ২০:০০
প্রিন্ট করুন printer

নাটোরে রসুনের বাম্পার ফলন

নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরে রসুনের বাম্পার ফলন

কম খরচে বেশি ফলন ও বছরব্যাপী চাহিদার কারণে নাটোরে বাড়ছে রসুনের আবাদ। সঠিক পরিচর্যা ও অনুকূল আবহাওয়ায় বরাবরের মতো এবারও রসুুনের বাম্পার ফলনের নেপথ্যে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে ব্যাপক হারে দেশীয় সাদা সোনা খ্যাত রসুনের আবাদ করেছেন কৃষকরা। এবার এ অঞ্চলে রসুনের বাম্পার ফলন হয়েছে।

তবে উৎপাদিত রসুনের ন্যায্য দাম নিয়ে শঙ্কা রয়েছে চাষিদের। তবে রসুন উঠানোর সময় ধান-চালের মতো রসুনের দাম দুই হাজার টাকা মন বেধে দিলে কৃষকরা আরো লাভবান হবে জানান রসুন চাষিরা।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, সারা দেশে মোট রসুন উৎপাদনের প্রায় ৩০ শতাংশ রসুন উৎপাদন হয় নাটোর জেলায়। দেশে মোট রসুনের ৫ লাখ মেট্রিক টনের অধিক চাহিদা থাকলেও ৩০ শতাংশ চাহিদা পূরণ হয় নাটোর জেলা থেকে। বাকি ৮০ হাজার মেট্রিক টন আমদানি করতে হয় বিভিন্ন দেশ থেকে। তবে রসুন আবাদের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানো হলে আমদানি নির্ভরতা অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন কৃষি বিভাগ।

প্রতি বছর দেশে রসুনের মোট চাহিদার এক-তৃতীয়াংশই উৎপাদিত হয় নাটোরে। নাটোর থেকে সরবরাহ করা রসুনের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। চাষিরা বলছেন, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে রসুন আবাদ করলে নাটোরের রসুন কমাতে পারে মসলাজাতীয় ফসলের আঞ্চলিক ঘাটতি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, ২০২০-২১ মৌসুমে জেলায় ২৫ হাজার ১৩০ হেক্টর জমিতে রসুন উৎপাদন হয়েছ। গত ২০১৯-২০ মৌসুমে জেলায় ২০ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে রসুন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এছাড়া গত ৮ বছরে জেলায় রসুন উৎপাদিত হয়েছে ১২ লাখ ৬২ হাজার ৫৫৪ মেট্রিক টন।

চলতি মৌসুমে নাটোর সদর উপজেলায় ৩৪৫০ হেক্টর, নলডাঙ্গায় ৬৫০ হেক্টর, সিংড়ায় ১৪৬০ হেক্টর, গুরুদাসপুরে ৬৩০০ হেক্টর, বড়াইগ্রামে ১০৭৪০, বাগাতিপাড়ায় ১১১০ হেক্টর এবং লালপুরে ১৫০ হেক্টর জমিতে রসুনের আবাদ হয়েছে। হেক্টর প্রতি গড়ে ৮ মেট্রিক টন করে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন রসুন উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে জেলাজুড়ে।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ফসলের মাঠে রসুনের সমারোহ। শেষ মুহূর্তে রসুনের জমি পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছে চাষিরা।

চাষিরা জানান, বন্যার পানি নামার পর বা আমন ধান কাটার শেষে ভেজা জমিতে বীজ বপন করে খড় ছিটিয়ে রসুনের আবাদ হলো বিনাচাষের রসুন। গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রামের বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে বিনাচাষে রসুন আবাদই জেলায় বৃহদায়তন রসুন উৎপাদনের কারণ। 

অপরদিকে, বীজ বপনের পর পরিমাণ মতো টিএসপি, মিউরেট অব পটাশসহ অন্যান্য উপাদান প্রয়োগ করে জমি প্রস্তুতের মাধ্যমে আবাদ হলো স্বাভাবিক আবাদ। এ পদ্ধতিতে নলডাঙ্গা, সিংড়া, লালপুর, বাগাতিপাড়া ও নাটোর সদরের বেশ কিছু এলাকায় রসুন আবাদ হয়।

বড়াইগ্রামের জোনাইলের রসুন চাষি আহমেদ আলী বলেন, অন্য আবাদের চেয়ে রসুুন চাষে খরচ কম হয়। এক বিঘা জমিতে রসুুন চাষ করতে বীজ, শ্রমিক ও সারসহ ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়।

বড়াইগ্রামের রসুন চাষি মুনছের হোসেন বলেন, গত এক যুগ ধরে বিনা চাষে রসুন আবাদ বিপ্লব ঘটিয়েছে এখানকার কৃষকরা। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় দিন দিন রসুন আবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন কৃষকরা। তবে রসুনের বর্তমান বাজার মূল্য কৃষক রসুন ঘরে উঠানোর সময় পেলে লাভবান হবে।

গুরুদাসপুরের চাষি আবুল বলেন, গত বছর রসুনের দাম ভালো থাকায় এবার ৪ বিঘা জমিতে রসুনের চাষ করেছি। শীতে কয়েক দফা কুয়াশার কারণে রসুনের কিছুটা ক্ষতি হয়েছিল।

নলডাঙ্গার রসুন চাষি রানা আহমেদ বলেন, বাজারে ভালো দাম পেলে এক বিঘা জমির রসুন বিক্রয় হবে ৬০-৭০ হাজার টাকা। কিন্ত বাজারে দামে স্থিতিশীলতা থাকে না অনেক সময়। লাভের আশায় কৃষক যে বছর রসুন আবাদে ঝোঁকে, সে বছরই দাম পড়ে যায় রসুনের।

জাতীয় কৃষক সমিতির জেলা সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম বলেন, প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ কৃষকদের বিনামূল্যে সরবরাহ করা হলে রসুনের বৃহদায়তন উৎপাদন সম্ভব হবে। আঞ্চলিক উৎপাদনে গুরুত্ব দিলে আমদানি নির্ভরতা কমে যাবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সুব্রত কুমার সরকার বলেন, নাটোরে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন ও চাষ পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ সহায়তার মাধ্যমে রসুন চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হলে দেশীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে রসুন রফতানিও করা যাবে। তবে এবার চাষিরা ভালো দাম পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিডি প্রতিদিন/এমআই


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর