শিরোনাম
প্রকাশ : ৩ মে, ২০২১ ১৭:৫৩
প্রিন্ট করুন printer

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বোরোর ভালো ফলন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বোরোর ভালো ফলন
ফাইল ছবি

চলতি মৌসুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আরো ১১ হেক্টর বেশি জমিতে বোরো ধানের ফলন হয়েছে। ইতিমধ্যে হাওরের ৯২ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবছর এক লাখ ১০ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এক লাখ ১০ হাজার ৮৯৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১ হেক্টর বেশি বোরো ধানের ফলন হয়েছে। জেলায় ৩ লাখ ৮১ হাজার ৪১৫ জন কৃষক পরিবার রয়েছে। ধান কাটার সময় শেষ হওয়ার আগেই কৃষকরা এবছর ধান ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।

সূত্রে জানা গেছে, বোরো ভালো ফলনের জন্য কৃষকদের বীজ, সার ও পানি ইত্যাদি উপকরণ নিশ্চিত করা হয়েছিল। সরকারি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ৩ হাজার ৮০০ জন কৃষককে এক বিঘা করে বোরো ধান আবাদের জন্য সার ও বীজ প্রদান করা হয়। ৩৫ হাজার কৃষকের মাঝে দুই কেজি হারে ৭০ হাজার কেজি বীজ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন বীজ কোম্পানির এক কেজি হারে দেড় হাজার কৃষকের মাঝে হাইব্রিড বীজ বিতরণ করা হয়েছে।

কসবা উপজেলায় ৫০ একর জমিতে সমালয়ের প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়। ফলে বিগত বছরের তুলনায় প্রায় সাত হাজার হেক্টর জমিতে নতুন উফশী জাতের যেমন ব্রি ধান ৮১, ব্রি ধান ৮৪, ব্রি ধান ৮৬, ব্রি ধান ৮৮, ব্রি ধান ৮৯, ব্রি ধান ৯২ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবছর বিভিন্ন প্রকার হাইব্রিড জাতের আবাদ এলাকা ৬ হাজার হেক্টর বাড়ানো হয়েছে।

লকডাউনের মাঝে ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর, শেরপুর, রংপুর ও হবিগঞ্জ থেকে সাত হাজার কৃষক জেলায় আনা হয়েছে। জেলায় আগে থেকে ৪৫টি কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আরো ৪৬টি এবং চলতি মৌসুমে ৬৭টি কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার বিতরণ করা হয়েছে। ৫৬টি কম্বাইন্ড হার্ভেস্টারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে জেলার ইউনিয়নের হাওরে ৭০ শতাংশ ও নন-হাওরে ৫০ শতাংশ বিতরণ করা হয়। জেলায় ১৫৬টি কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার ও ২৮টি রিপার এক যোগে ধান কাটায় ব্যবহার করা হয়েছে। সোমবার পর্যন্ত জেলায় হাওরের ৯৪ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে, যার গড় ফল ৪ দশমিক ১৯ টন। জেলায় গড়ে ৬০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে, যার গড় ফল ৪ দশমিক ১০ টন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রবিউল হক মজুমদার বলেন, কৃষকদের বোরো ধান চাষের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়। এতে অন্যান্য বছরের তুলনা ৫-৭ দিন আগেই ধান পেকেছে। শুষ্ক মৌসুম থাকায় এবার ফলন ভালো হয়েছে। কাঁচা ধান ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা ও শুকনা ধান এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা। কৃষকরা ধানের ভালো দাম পাচ্ছেন।

বিডি প্রতিদিন/এমআই

এই বিভাগের আরও খবর