শিরোনাম
প্রকাশ : ৩১ মে, ২০২১ ২০:০২
প্রিন্ট করুন printer

৫ মাস পর জানা গেল শিশু হামজার মৃত্যু ফুফুর নির্মমতায়

কুমিল্লা প্রতিনিধি:

৫ মাস পর জানা গেল শিশু হামজার মৃত্যু ফুফুর নির্মমতায়
Google News

২০ মাস বয়সী আমির হামজা নামে এক শিশুর মৃত্যুর ৫ মাস পর জানা গেল খিচুঁনিতে নয়, মৃত্যু হয়েছে তার আপন ফুফুর হাতে। ঘটনাটি ঘটে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায়। কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার সাইচাপাড়া গ্রামের সুলতান বাবুর্চির বাড়িতে। নিহত আমির হামজা ওই গ্রামের আল-আমিন ও সালমা আক্তার দম্পতির একমাত্র ছেল। হত্যাকারী ফুফু স্বপ্না আক্তার(১৮)। সে সুলতান বাবুর্চির মেয়ে। ঘটনার ৫ মাস পর পুলিশি তদন্তে ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত হামজার ফুফু স্বপ্না আক্তারকে গ্রেফতার করে। 

কুমিল্লার ৪নং সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বপ্না আক্তার স্বীকারোক্তি দিয়েছে। দেবিদ্বার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ছমি উদ্দিন সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
 
পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, নিহত আমির হামজার বাবা হোটেলে চাকরি করেন এবং মাতা সালমা আক্তার কুমিল্লা ইপিজেডে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। সেই কারণে তার শিশু সন্তান আমির হামজাকে শ্বশুর-শাশুড়ি ও ননদের কাছে দেখভালের জন্য রেখে যান। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় রান্না করার সময় মায়ের অনুপস্থিতিতে হামজা কান্নাকাটি ও বিরক্ত করায় তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তার ফুফু স্বপ্না রান্নার কাজে ব্যবহৃত কাঠি দিয়ে ঘাড়ে আঘাত করলে হামজা অচেতন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে শ্বাসরোধে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে তার খিঁচুনি রোগ দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে প্রচার করে। স্থানীয়দের পক্ষ থেকে অস্বভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে জানালে পুলিশ শিশুটির মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর তার মৃত্যু খিচুঁনি রোগে নয়, ঘাড়ে আঘাত ও শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়। পুলিশ ওই রিপোর্ট প্রাপ্তির পর ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামেন বলে পুলিশ জানান। ওই ঘটনায় নিহতের মা সালমা আক্তার গত ২৮ মে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন আসামির বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। 

রবিবার নিহতের ফুফু স্বপ্না আক্তারকে কুমিল্লা ৪নং জুডিশিয়ার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার দায় স্বীকার করেন। ম্যাজিস্ট্রেট তার জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় লিপিবদ্ধ করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। 

নিহত আমির হামজার নানা নায়েব আলী জানান, আমার মেয়ে ইপিজেডে চাকরি করে। মেয়ের জামাই কুমিল্লা হোটেলে চাকরি করে। একমাত্র নাতি হামজাকে বাড়িতে তার দাদা-দাদি ও ফুফুর হেফাজতে রেখে যায়। তার ফুফুই তাকে হত্যা করেছে।

 এ ব্যাপারে ব্যাপারে দেবিদ্বার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ছমি উদ্দিন জানান, ওই ঘটনায় প্রথমে অপমৃত্যু মামলা হলেও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দেখে হামজার স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, হত্যাকাণ্ড বলে নিশ্চিত হই। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের ফুফুকে গ্রেফতার পূর্বক কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। সে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কিনা, তা জানার চেষ্টা চলছে। 

বিডি প্রতিদিন/ মজুমদার 

এই বিভাগের আরও খবর