শিরোনাম
প্রকাশ : ২৯ জুন, ২০২১ ২৩:২৪
প্রিন্ট করুন printer

অবশেষে সেই হাতি দুইটি বঙ্গোপসাগর থেকে উদ্ধার

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

অবশেষে সেই হাতি দুইটি বঙ্গোপসাগর থেকে উদ্ধার
সেই দুই হাতি।
Google News

কক্সবাজারের টেকনাফ পাহাড় থেকে পথ ভুলে নাফ নদীতে নেমে পড়া হাতি দুইটি শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯জুন) বিকালে স্থানীয় জেলেদের সহযোগীতায় বনবিভাগ হাতি দুইটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। 

এর আগে, হাতি দুইটি গত শনিবার সকাল ১০ টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া সংলগ্ন নাফ নদীত নেমে আসে। গত চারদিন ধরে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরে ভাসতে থাকে এই হাতি দুইটি। হাতি দুইটি বনে ফেরাতে তিনদিনের ব্যর্থ চেষ্টার পর মঙ্গলবার চুতুর্থ দিনে সাগর থেকে উদ্ধার হয়। উদ্ধার হওয়া হাতি দুইটিকে বনের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানান বনবিভাগের টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা সৈয়দ আশিক আহমদ।

টেকনাফ বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা সৈয়দ আশিক আহমদ বলেন, প্রথম দিন থেকে হাতি দুইটিকে বনে ফেরাতে চেষ্টা অব্যাহত ছিল। তবে হাতি দুইটি বন ছেড়ে অনেক দূর চলে যাওয়ায় ফেরানো কঠিন হয়ে যায়। তৃতীয় এবং চতুর্থদিনে হাতি দুইটি শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করে। পরে আমি মঙ্গলবার শাহপরীর দ্বীপ পৌঁছে হাতি উদ্ধারের চেষ্টা করলে প্রথমে স্থানীয় জেলেরা সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেয়। তাদের সহযোগীতায় চারটি বোট প্রস্তুত করে রশি এনে একটি একটি করে হাতি দুইটিকে সাগর থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে সৈকত তীরে নিয়ে আসা হয়। সন্ধ্যায় হাতি দুটি একসঙ্গে মেরিন ড্রাইভ এলাকা দিয়ে পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, হাতি দুইটি গত চারদিনই নাফ নদী এবং সাগরে খাবার সংকটে ছিল। উদ্ধার পরবর্তী হাতি দুইটিকে পর্যাপ্ত খাবার দেয়া হয়েছে। হাতি দুইটি উদ্ধারের ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি ও কোস্টগার্ডসহ স্থানীয়দের যথেষ্ট সহযোগীতা ছিল। যদিও আমাদের আধুনিক কোন সুযোগ সুবিধা ছিলনা, এরপরও আমরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে হাতি দুইটিকে বনে ফেরাতে সক্ষম হয়েছি।

শাহপরীর দ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই যায়েদ হাসান বলেন, সাগরে ভাসমান হাতি দুইটি উদ্ধার করতে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা ভূমিকা রেখেছে। উদ্ধার অভিযানে উৎসুক মানুষের ভীড় নিয়ন্ত্রন করা অনেকটা কঠিন ছিল। আমরা উপজেলা প্রশাসন ও বনবিভাগের নির্দেশনায় সেটি নিয়ন্ত্রন করেছি।

স্থানীয় বাসিন্দা ফয়সাল মাহমুদ বলেন, গত শনিবার নাফ নদীতে দুইটি হাতি দেখতে পাই। দ্বিতীয় দিন হাতি দুইটি নদীরর স্রোতে ভেসে শাহপরীর দ্বীপ ঘোলার চর এলাকায় চলে আসে। তৃতীয় দিনে দক্ষিণে সাঁতরে বঙ্গোপসাগরে চলে যায়। তিন ধরে চেষ্টা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হাতি দুইটি বনে ফেরাতে ব্যর্থ হয়। অবশেষে শাহপরীর দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেদের সহযোগীতায় হাতি দুইটি অন্তত সাগর থেকে উদ্ধার হয়। গত চার দিনে হাতি দুইটি খাবারের অভাবে অনেকটা রোগাক্রান্ত হয়ে গেছে।

স্থানীয় কলেজ ছাত্র নুরুল আমিন আশিক অভিযোগ করে বলেন, দুইটি হাতি চার দিন সাগরে ভাসলেও হাতি নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার লোকজনকে শুধু ছবি তুলতে ব্যস্ত থাকতে দেখেছি। বিশেষ করে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনসারভেশন অব বাংলাদেশ (আইইউসিএন) এ্যালিফ্যান্ট রেসপন্স টিম হাতি দুইটি উদ্ধারের ক্ষেত্রে কোন ভূমিকায় রাখেনি। তারা শুরু থেকে ভূমিকা রাখতে পারলে টেকনাফ পাহাড়ের কাছাকাছি অবস্থান করার সময় প্রথম দিনেই হাতি দুইটি উদ্ধার করতে পারতেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেরা প্রাণবাজি রেখে উত্তাল সাগরে নেমে বনবিভাগকে সহযোগীতা না দিলে হাতি দুইটি উদ্ধার করা অনেক কঠিন হয়ে পড়তো।

প্রসঙ্গত, টেকনাফ ও উখিয়ায় হাতির আবাসস্থল হিসেবে জায়গাগুলো রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দখলে চলে যাওয়ায় হাতিগুলোর পাহাড়ে চলাচলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নিয়মিত। এছাড়া রোহিঙ্গাদের কারণে দিনদিন পাহাড় উজাড় হয়ে যাওয়ায় সেখানে হাতির খাদ্য সংকটও দেখা দিয়েছে। এ কারণে প্রতিনিয়ত হাতিগুলো লোকালয়ে ঢুকে পড়ে বিভিন্ন সময় তাণ্ডব চালায়। গত শনিবার দুপুরে হাতি দুইটি প্রথম টেকনাফ নাইট্যং পাড়াস্থ নাফ নদীতে নেমে আসে। ওইদিন হাতি দুইটিকে বনে ফেরাতে ব্যর্থ হলে পরের দিন রবিবার ভাটার টানে হাতি দুইটি ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণে শাহপরীর দ্বীপ পৌঁছে। 

এরপর তৃতীয় দিন সাগরের স্রোতের টানে অসহায় হাতি দুটি নাফ নদীর মোহনা অতিক্রম করে বঙ্গোপসাগরে চলে যায়। হাতি দুইটি সাগরেও দুইদিন ভাসমান ছিল। দুইদিন নাফ নদী এবং দুইদিন সাগরে ভেসে থাকার পর চতুর্থ দিন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ প্রশাসন, স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেদের সহযোগীতায় হাতি দুইটিকে উদ্ধার করে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন টেকনাফ পাহাড়ের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া হয়।


বিডি-প্রতিদিন/ আব্দুল্লাহ আল সিফাত

এই বিভাগের আরও খবর