২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৬:৪৭

উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের নামে প্রতিবন্ধী কার্ড

রেজাউল করিম মানিক, লালমনিরহাট

উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের নামে প্রতিবন্ধী কার্ড

মাইদুল ইসলাম সরকার বাবু

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইদুল ইসলাম সরকার বাবুর (৩০) নামে প্রতিবন্ধী কার্ড ইস্যু হওয়ার ঘটনায় জেলাজুড়ে চাঞ্চল্যকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি প্রতিবন্ধী না হয়েও প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড ও টাকা উত্তোলন করেছেন প্রায় এক বছর ধরে। যদিও মাইদুল ইসলাম সরকার বাবু তার নামে কোন প্রতিবন্ধী কার্ড নেই দাবি করে বলেছেন, আমি ঢাকায় রয়েছি, ফিরে গিয়ে আপনার সাথে কথা বলবো। তবে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার বলেছেন, তার নামে প্রতিবন্ধী কার্ড হয়েছে, এক বছর তিনি ভাতাও নিয়েছেন। সম্প্রতি মাইদুল ভাতার টাকার উঠাচ্ছেন না।

সম্প্রতি সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রতিবন্ধী ভাতা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে চালু করলে আদিতমারী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইদুল ইসলাম সরকার বাবু প্রতিবন্ধী ভাতা উত্তোলনের বিষয়টি প্রকাশ পায়। এতে জেলা জুড়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলা ছাত্রলীগ সম্পাদক মাইদুল ইসলাম বাবু প্রতিবন্ধী নন, অসচ্ছলও নন। তিনি দিব্যি দামি মোটরবাইক নিয়ে চলাফেরা করছেন। সব সময় পরছেন দামি পোষাক। তিনি কিভাবে সুস্থ মানুষ হয়ে অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে ভাতা তোলেন?

মাইদুল ইসলাম সরকার বাবু আদিতমারীর উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের বসিনটারী গ্রামের নজরুল ইসলাম সরকারের ছেলে। মাইদুল ইসলাম ২০১৮ সালে আদিতমারী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। সে থেকে ওই কমিটিতে দায়িত্বরত রয়েছেন। বর্তমানে কমিটিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। মাইদুল ইসলাম বাবু প্রতিবন্ধী কোটায় সরকারি চাকরির চেষ্টা করেন বলেও শোনা গেছে।

জানা গেছে, আদিতমারী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মাইদুল ইসলাম সরকারের নামে ইস্যু করা বইয়ের নম্বর ৭৯৬। সোনালী ব্যাংক আদিতমারী শাখায় তার সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর ৫২০১৯০১০১৯৬০৯। ওই ৭৯৬ নম্বর বইয়ের বিপরীতে মাইদুল ইসলাম সরকার দুই দফায় সর্বমোট ১১ হাজার ২৫০ টাকা উত্তোলন করেছেন।

আদিতমারী সমাজসেবা অফিসারের কার্যালয় ও সোনালী ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ৬ অক্টোবর সেখানে ৯ হাজার টাকা অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা হিসেবে জমা হয়। এই টাকা মাইদুল ওই বছর ২০ অক্টোবর উত্তোলন করেন। এরপর দ্বিতীয় দফায় গত ১৫ মার্চ একই খাত থেকে ভাতা হিসেবে আরও ২ হাজার ২৫০ টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসেবে জমা হয়। এই টাকা তিনি গত ২৩ মার্চ উত্তোলন করেন।

আদিতমারী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইদুল ইসলাম সরকার বাবু বলেন, আমার নামে কোন প্রতিবন্ধী কার্ড নেই। এটি মিথ্যা অপপ্রচার। আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নষ্ট করতেই প্রতিপক্ষরা এমন অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ জরিপ সূত্রে জানা গেছে, মাইদুল ইসলাম দুর্ঘটনাজনিত শারীরিক মৃদু টাইপের প্রতিবন্ধী বলে ফরমে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ সংক্রান্ত চিকিৎসকের প্রত্যয়নে তিনি মাঝারি মাত্রার শারীরিক প্রতিবন্ধী বলে উল্লেখ করেছেন চিকিৎসক। প্রত্যয়নটি প্রদান করেছেন আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নূর আরেফিন প্রধান। ২০২০ সালের ২৩ জুন তারিখে প্রতিবন্ধিতা সংক্রান্ত সরকারি ফরমে স্বাক্ষর করেন আদিতমারী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রওশন আলী মণ্ডল।

আদিতমারী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রওশন আলী মণ্ডল বলেন, তার নামে প্রতিবন্ধী কার্ড হয়েছে, এক বছর তিনি ভাতাও নিয়েছেন। সম্প্রতি মাইদুল ভাতার টাকার উঠাচ্ছেন না। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভাতার টাকা উত্তোলনের মাইদুল ইসলাম অনলাইনে নিবন্ধন করেননি।

বিডি-প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন

সর্বশেষ খবর