২৮ ডিসেম্বর, ২০২১ ১৭:১৪

চুরি হওয়া গরু ফেরত পেয়ে বুকে জড়িয়ে কান্না কৃষকের

নাটোর প্রতিনিধি

চুরি হওয়া গরু ফেরত পেয়ে বুকে জড়িয়ে কান্না কৃষকের

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার অসহায় কৃষক মোজাম্মেল হকের চুরি হওয়া গরু উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেই গরু হাতে পেয়ে অশ্রুসিক্ত হাসি ফুটেছে অসহায় মোজাম্মেল হকের। চুরি যাওয়া বাছুরটি ফিরে পেয়ে বুকে জড়িয়ে কাঁদতে থাকেন তিনি। এমনই একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। নিজের জীবন বাজি রেখে দুটি গরু, চোরাই ট্রাকসহ আন্তঃজেলা গরু চোরচক্রের তিন সদস্যকে আটক করে প্রশাংসায় ভাসছেন নাটোর সদর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান ।

জানা যায়, ২৬ আগষ্ট (রবিবার) গভীর রাতে বড়াইগ্রাম উপজেলার নগর ইউনিয়নের মর্শিন্দা গ্রামের দরিদ্র কৃষক মোজাম্মেল হক এবং একই উপজেলার বলিয়াপাড়া গ্রামের কৃষক আ. হাইয়ের দুটি গরু চুরি করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার দিন রাতে নাটোর সদর থানার ওসি মনসুর রহমান টহল ডিউটিতে ছিলেন রাজশাহী নাটোর মহাসড়কের হয়বতপুরে। এ সময় তিনি দেখতে পান দুটি গরুসহ একটি ট্রাক রাজশাহী অভিমুখে যাচ্ছে। তিনি ট্রাকটিকে থামার জন্য সিগন্যাল দেন। কিন্তু সিগন্যাল অমান্য করে ট্রাকটি দ্রুত গতিতে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ পিকআপ ভ্যান নিয়ে ধাওয়া করে। পুলিশের পিকভ্যানকে চাপা দেওয়ার জন্য সজোড়ে আঘাত করে ট্রাক নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ফলে পিকআপটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেই অল্পের জন্য রক্ষা পায় ওসিসহ পুলিশ সদস্যরা। একপর্যায়ে শহরের পিটিআই মোড়ে ট্রাক ও গরু রেখে চোরেরা পালিয়ে যায়। পরে ২৭ ডিসেম্বর দিনভর অভিযান চালিয়ে (সোমবার) রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মাসুম, জিয়ারুল এবং মেহেদী হাসান নামে আন্তঃজেলা গরুচোর চক্রের তিন সদস্যকে আটক করে পুলিশ। চোরদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী খুঁজে বের করা হয় গরুর মালিকদের। আজ মঙ্গলবার গরুর প্রকৃত মালিক দুইজন থানায় এসে গরু চুরির ১ দিনের মাথায় পুলিশের সহায়তায় ফেরত পেয়ে ভুক্তভোগী পরিবার পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সাথে চোরদেরও শ্রীঘরে পাঠিয়েছে থানা পুলিশ।

এ সময় দরিদ্র কৃষক মোজাম্মেল হক চুরি যাওয়া গরু পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেন। গরুকে জড়িয়ে ধরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, গরু নয় এটা আমার সন্তানকে ফিরে পেয়েছি। পুলিশ ভাইদের ধন্যবাদ জানাই।

আরেক গরুর মালিক আ. হাই বলেন, পুলিশ আমাদের গরু উদ্ধার করে দিবে এটা আমরা কখনো ভাবতেও পারিনি। ইতিপূর্বে থানায় অভিযোগ করেই ফল হয়নি। তাই এবার চুরি হওয়ার পর পুলিশকে জানায়নি। ওসি স্যার আমাদের বাসায় গিয়ে গরু উদ্ধারের খবর দিয়েছেন। পুলিশ সম্পর্কে তাদের ধারনা পাল্টে গেছে। পুলিশ সত্যিই জনগণের ও অসহায় মানুষের বন্ধু বলে উল্লেখ করেন।

নাটোর সদর থানা ওসি মনসুর রহমান জানান, আটককৃতরা আন্তঃজেলা গরু চোরচক্রের সদস্য। চোরাই ট্রাক নিয়ে তারা বিভিন্নস্থানে গরু চুরি করতেন। গরুর চুরির বিষয়ে গ্রেফতারকৃত আসামিদের কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

 


বিডি প্রতিদিন/হিমেল

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর