৫ মে, ২০২২ ১৯:৫৬

সোনালি ধানে তৃপ্ত বিশ্বনাথের কৃষক

বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি

সোনালি ধানে তৃপ্ত বিশ্বনাথের কৃষক

সোনালি ধান মাথায় বাড়ির পথে কৃষক।

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আশানুরূপ ফলন হওয়ায় কৃষকদের মুখে খুশির ঝিলিক। দিনরাত এক করে ধান কাটা ও মাড়াই-ঝাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত কৃষক-কৃষাণীরা। 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, উপজেলায় এ বছর বোরো ধান চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭ হাজার ২ শত ৫০ হেক্টর। আর অর্জন হয়েছে ৭ হাজার ৩শ’ ৯০ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে চাষাবাদ হয়েছে ১শ’ ৪০ হেক্টর বেশি। চাষাবাদের পর পানি সংকট থাকলে, পরবর্তীতে বৃষ্টি হওয়ায় দ্রুত ধান বেরোতে শুরু করে। ধান বেরোনোর পর বিভিন্ন এলাকায় দেখা দেয় ব্লাস্ট রোগ। এক পর্যায়ে কমে যায় এর সংক্রমণ। প্রচুর বৃষ্টির ফলে ধানী জমিতে পানি জমলেও কোথাও ক্ষেত তলিয়ে যায়নি। উপজেলা সবচেয়ে বড় হাওর চাউলধনীতে পানি প্রবেশ রোধে আগেই দেয়া হয় ফসল রক্ষা বাঁধ।
 
সরেজমিনে বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেয়া যায়, মাঠে মাঠে কৃষাণ-কৃষাণীদের ব্যস্ত সময় কাটছে। কৃষকরা ধান কেটে জমির পার্শ্ববর্তী মাঠে সাজিয়ে রাখছেন। শ্রমিক সঙ্কট থাকায় নিজেরাই কাটছেন ধান। জমিতে পানি জমায়, ব্যবহার করা যাচ্ছে না ধানকাটার যন্ত্র কম্বাইন হারভেস্টার। আর কৃষাণীরা মাড়াই-ঝাড়াই হওয়া ধানের খড়-কুটা পরিষ্কার করে রোদে শুকাতে দিচ্ছেন। কেউ বা শুকানোর পর গোলায় তোলার জন্য বস্তায় ভরছেন ধান। গোলায় ধান তোলা শেষে কেউ কেউ আবার মাঠ জুড়ে রোদে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দিয়েছেন সোনালি খড়। বর্ষাকালে গবাদি পশুর খাবারের জন্য সংরক্ষণ করে রাখা হবে এসব খড়।
     
উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের বাউসী গ্রামের কৃষক পানু মালাকার বলেন, ‘সৃষ্টি কর্তার কৃপা ও নিজের পরিশ্রমে এবার ভালোই ফসল পেয়েছি। তবে শ্রমিক সংকট থাকায় কিছুটা দুর্ভোগ হচ্ছে আমাদের। আর জমিতে পানি থাকায় মেশিনও (ধান কাটার যন্ত্র) আসেনি হাওরে।’
 
এ বিষয়ে বিশ্বনাথ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’কে বলেন, ‘উপজেলায় ৭৩৯০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। ধান গাছের থোর অবস্থায় পানি সঙ্কট থাকলেও পরবর্তীতে বৃষ্টি হওয়ায় আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাবে। ইতোমধ্যে ৯২ শতাংশ জমির ধান কাটা সম্ভব হয়েছে। এ মৌসুমে নমুনা শস্য কর্তনে সর্বোচ্চ ফলন ৬.২৫ মে.টন/হে (ধানে) এবং সর্বনিম্ন ফলন ৪.৪৫মে.টন/হে (ধানে) পাওয়া গেছে। বাজারে ধানের ভালো দাম রয়েছে। এছাড়াও সরকারি মূল্যে ধান বিক্রির জন্য কৃষক নিবন্ধন চলমান রয়েছে। কৃষি বিভাগ এ বিষয়ে কৃষকদের সর্বোচ্চ সহযোগীতা দিয়ে আসছে।’   


বিডি প্রতিদিন/নাজমুল

এই রকম আরও টপিক

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর