১২ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৬:৪১

বগুড়ায় প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

আবদুর রহমান টুলু, বগুড়া

বগুড়ায় প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে ব্যস্ততা বেড়েছে। কেউ প্রস্তুতি নিচ্ছে কেনাকাটায় কেউ বা আবার নাড়ু মোয়া তৈরির। আর এক দিকে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎ শিল্পের কারিগররা। মাটি আর হাতের ছোঁয়ায় কাঠামো তৈরির কাজ চলছে। 

বগুড়া জেলায় এবার ৬৯০টি মণ্ডপে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চলছে।

জানা যায়, জেলায় নানা আয়োজনে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চলছে। শারদীয় দুর্গা উৎসবকে সামনে রেখে বগুড়ায় প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। শিল্পীদের হাতের কারুকাজে প্রতিমার কাঠামো সেজে উঠেছে। প্রতিমার কারিগররা ৮ থেকে ১০ টি করে প্রতিমা নিয়ে রাতদিন কাজ করে যাচ্ছেন। আর মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে নানা আয়োজন। এইসব ব্যস্ততার মধ্যেও বাড়ির সকলের জন্য কেনাকাটাও শুরু করেছেন সনাতন ধর্মালম্বীরা। 

বগুড়া শহরের মার্কেটসহ বিভিন্ন বিপনী বিতানগুলোতে পূজার কেনাকাটা করতে ভিড় বেড়েছে আগের থেকে দিগুণ। পূজা উপলক্ষে অনেকেই ছুটছে স্বর্ণের দোকানে।

বগুড়া জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, বগুড়া জেলার ১২টি উপজেলায় এ বছর শাজাহানপুরে ৫৬টি, নন্দীগ্রামে ৪৬টি, শিবগঞ্জে ৬৩টি, আদমদিঘীতে ৬৫টি, সারিয়াকান্দিতে ২০টি, দুপচাঁচিয়ায় ৪২টি, ধুনটে ২৯টি, সোনাতলায় ৫০টি, শেরপুরে ৯০টি, গাবতলীতে ৭৩টি, কাহালুতে ৩৬টি এবং বগুড়া সদরে ১২০টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আগামী পহেলা অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। সে হিসেবে ৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্যে দিয়ে শেষ হবে এবাবের দুর্গোৎসব। 

বগুড়া জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সাগর কুমার রায় জানান, প্রশাসনের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা অনুষ্ঠানে বৈঠক হয়েছে। প্রতিবারের মত এবারো প্রতিটা মন্দিরে আনসার বাহিনীর সদস্য সার্বক্ষণিক থাকবে। এর পাশাপাশি নিজ দায়িত্বে প্রতিটি মন্দিরে কমিটির পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবী নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকাসহ সম্ভব হলে সিসি ক্যামেরা লাগানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কম আলোকসজ্জা ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে।

বগুড়া পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী জানান, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে। পোশাকে থাকার পাশাপাশি সাদা পোশাকেও নিরাপত্তা প্রদানে কাজ করা হবে। আয়োজক কমিটির পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে টহল টিমও সতর্ক হয়ে মাঠে কাজ করবে। বগুড়ায় অতীতেও সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারো শান্তিপূর্ণভাবেই সকল আয়োজন সম্পন্ন হবে। এজন্য সকল প্রকার নিরাপত্তার কাজ করবে পুলিশ বিভাগ। 

বিডি-প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর