১৩ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৬:২৯

তিস্তা সেচ প্রকল্প : সেচের বাইরে থাকছে ৪৯ হাজার হেক্টর জমি

নজরুল মৃধা, রংপুর

তিস্তা সেচ প্রকল্প : সেচের বাইরে থাকছে ৪৯ হাজার হেক্টর জমি

চলতি মৌসুমে এবারও তিস্তা সেচ প্রকল্পে ৪৯ হাজার হেক্টর জমি সেচের বাইরে থাকছে। বিগত বছরগুলোর মতো এবারও তিস্তার পানি দিয়ে শতভাগ সেচ দেওয়া সম্ভব হবে না। চলতি বোরো মৌসুমে অনেক জমিতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কৃষকদের সেচ দিতে হবে। এতে কৃষকদের বাড়তি ব্যয় হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের মাধ্যমে সেচ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সেচ কমান্ড এলাকায় ৮৪ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা প্রদানের কথা থাকলেও এ বছর সেচ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে। ফলে ৪৯ হাজার হেক্টর সেচ কমান্ডের বাইরে থাকছে। শুক্রবার সেচ খালে সেচের পানি সরবরাহ শুরু করা হয়। ডালিয়া পয়েন্টে পানি সরবরাহের উদ্বোধন করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহা-পরিচালক মো. মাহবুব রহমান। 

জানা গেছে, সেচ প্রকল্পের আওতায় ২০১৪ সালে বোরো মৌসুমে নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার ৮৪ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু সে বছর সেচ দেওয়া সম্ভব হয় মাত্র ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে সেচ দেওয়া হয় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে। ২০১৭ সালে মাত্র আট হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া হয়েছে। ২০১৮ সালে ৩৫ হাজার হেক্টর, ২০১৯ ও ২০২০ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৪০ হাজার হেক্টরে দাঁড়ায়। সর্বশেষ ২০২১-২২ সালে ৫৩ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ প্রদান করা হয়। এবার কমে ৩৫ হাজার হেক্টরে সেচ দেয়া সম্ভব হবে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়।  

পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, ব্যারাজের বেশ কয়েকটি ক্যানেলে উন্নয়ন কাজ চলমান। তাই বেশ কয়েটি ক্যানেলে এ বছর পানি দেয়া সম্ভব হবে না। তবে আগামী মৌসুম থেকে সেচ কমান্ড এলাকায় সেচের জমির পরিমাণ আরও বাড়বে। 

এদিকে, তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্প সূত্র জানায়, প্রকল্প এলাকায় সেচ দেওয়া এবং নদীর প্রবাহমাত্রা ঠিক রাখতে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে স্বাভাবিক প্রবাহমাত্রা থাকা প্রয়োজন ২০ হাজার কিউসেক পানি। শুধু সেচ প্রকল্প চালাতেই প্রবাহমাত্রা থাকা প্রয়োজন প্রায় ১৪ হাজার কিউসেক এবং নদীর অস্তিত্ব রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছয় হাজার কিউসেক পানি। কিন্তু শুকনো মৌসুমে তিস্তায় প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যায় না। শুষ্ক মৌসুমে বোরো আবাদের সময় ব্যারাজ পয়েন্টে বিগত কয়েক বছর ধরে পাওয়া যায় মাত্র দুই থেকে তিন হাজার কিউসেক পানি। যে সামান্য পরিমাণ পানি তিস্তা নদীতে পাওয়া যায় তার সবটুকুই সেচ চাহিদা মেটানোর লক্ষে তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের সেচ খালের মাধ্যমে কৃষি জমিতে সরবরাহ করা হচ্ছে। ব্যারাজের ৪৪টি গেট বন্ধ রেখে সেচ প্রকল্পে পানি সরবরাহ করায় মূল নদীতে পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে নদী ধু-ধু বালু চরে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে তিস্তা সেচ প্রকল্পে এক হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা উন্নয়নন কাজ চলছে। যা ২০২৪ সালের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ার কথা রয়েছে। 

তিস্তা সেচ প্রকল্পের মূখ্য সেচ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল হাকিম জানান, সেচ প্রকল্পের আওতাভুক্ত এলাকা হচ্ছে ৮৪ হেক্টর জমি। এবার বেশ কয়েকটি ক্যানেলের উন্নয়ন কাজ চলায় সেচ যোগ্য জমির পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার হেক্টর। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ক্যানেলগুলো সংস্কার হলে আগামীতে সেচের আওতা বাড়বে।

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর