শিরোনাম
১৭ মে, ২০২৪ ১৭:০৩

‘আড়াই টাকা’র সিঙাড়াতেই বাজিমাত!

আবদুর রহমান টুলু, বগুড়া

‘আড়াই টাকা’র সিঙাড়াতেই বাজিমাত!

আড়াই টাকা দামের সিঙাড়া বিক্রি করেই বাজিমাত করেছেন পিযুশ চন্দ্র মোহন্ত। আকারে ছোট হলেও ভিন্ন স্বাদের এই সিঙাড়া মন কাড়ছে আশপাশের এলাকাসহ অন্য জেলার মানুষেরও। প্রতিদিন বিকেল হলে শত শত ভোজনরসিক নারী-পুরুষ ভিড় জমায় সেখানে। বগুড়ার গাবতলী উপজেলার আদুর বাজারে পিযুশের দোকান।

জানা যায়, বগুড়ার গাবতলী উপজেলার আদুর বাজারে ১৫ বছর আগে ঝালমুড়ির ব্যবসায় শুরু করেন পিযুশ। লেখাপড়া না থাকায় কোথাও চাকরি মেলেনি তার। অভাব-অনটনের সংসারে কোন উপায় খুঁজে না পেয়ে প্রথম ঝালমুড়ি বিক্রি করলেও গত পাঁচ বছর ধরে সিঙাড়া তৈরি করছেন তিনি। তার আশপাশে আরও দোকান থাকলেও পিযুশের তৈরি সিঙাড়ার স্বাদ আলাদা। ভোজনরসিকরা প্রতিদিন বিকাল থেকে রাত ৮ পর্যন্ত ভিড় জমায় তার দোকানে। 

প্রথমে এক কেজি ময়দা দিয়ে শুরু করেন তিনি। পরে ধীরে ধীরে তার সুনাম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। স্বাদ ও দামে সাশ্রয়ী হওয়ায় বর্তমানে দিনে পাঁচ হাজার পিস সিঙাড়া বিক্রি হয় তার দোকানে। এই সিঙাড়া খেতে রীতিমতো লাইন দিতে হয়। কেউ ২০ থেকে ৫০ টি অর্ডার করছেন। কেউ কেউ ৫০ থেকে ১০০টি সিঙাড়া সাবাড় করে দিচ্ছেন নিমিষেই। আবার কেউ অপেক্ষায় থাকে সুস্বাদু এই সিঙাড়ার জন্য। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির সময়ে মাত্র আড়াই টাকা পিস সিঙাড়া খেতে ছুটে আসে তরুণ তরুণীসহ সব বয়সের মানুষ। আড়াই টাকার সিঙাড়া সংসারসহ বদলে দিচ্ছে পিযুশের ভাগ্য। তার দোকানে ৩ থেকে ৪ জনের কর্মসংস্থানও হয়েছে। তার দোকানে মাসে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকার সিঙাড়া বিক্রি হয়ে থাকে।

পিযুশ চন্দ্র মোহন্ত জানান, স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে তার সংসার। পরিবারের সদস্যদের নিয়েই তিনি ভালোমানের ময়দার তৈরি খামির সাথে আলু ও বিভিন্ন ধরনের মসলার ব্যবহার করে তৈরি করেন সিঙাড়া। এরপর গরম তেলে ভাজিয়ে পরিবেশন করেন ক্রেতাদের কাছে। এ কাজে তার স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েও সহযোগিতা করে থাকে। পিযুশ বলেন, অভাব-অনাটনের সংসারে প্রথমে ঝালমুড়ি বিক্রি শুরু করি। এতে ছেলেমেয়ের লেখাপড়াহ সংসার চালানো কঠি হয়ে পড়ে। পরে ছোট পরিসরে সিঙাড়ার ব্যবাস শুরু করি। এতে অনেটা সাড়া পাই। খুব অল্প সময়ে আমার দোকানের সিঙাড়া মানুষের মন কেড়েছে। আড়াই টাকায় সিঙাড়া বিক্রি করে এখন আমার সংসার চলে। ছেলেমেয়েদের স্কুল-কলেজে ভালোভাবে লেখাপড়া করাতে পারছি। প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকার সিঙাড়া বিক্রি হয়। আড়াই টাকার সিঙাড়া ধীরে ধীরে বদলে দিচ্ছে তার ভাগ্য। 

একাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ুয়া পিযুশের ছেলে অমিত মোহন্ত জানান, প্রতিদিন কলেজের ক্লাস আর পড়াশোনার পাশাপাশি বাবাকে সহযোগিতা করেন। বড় হয়ে তিনি প্রকৌশলী হতে চান। 

সিঙাড়া খেতে আসা সারিয়াকান্দির শ্রী গোবিন্দ্র কুমার ঘোষ জানান, ভিন্ন স্বাদের এই সিঙাড়া খেতে অনেক মজা। আমরা তিন জনে ৫০ পিস সিঙাড়া খেয়ে ফেললাম। লাভ কম করে বেশি বিক্রি করেন তিনি। দিন দিন চাহিদা বেড়েই চলেছে। বগুড়া শহর, সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে সিঙাড়া খেতে প্রতিদিনই ভিড় করে তার দোকানে। ভালো মানের মসলা, স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে মানুষকে ভালো খাওয়াতে চান তিনি। 

এদিকে পরিবার পরিজন নিয়ে ভিন্ন স্বাদের এই সিঙাড়া থেকে আসেন অনেকেই। আগেভাগেই অর্ডার দিতে হয়। কম টাকায় ভিন্ন স্বাদের সিঙাড়া আর কোথাও পাওয়া যায় না। তাই আদুর বাজারে ছুটে আসেন সব শ্রেণির মানুষ।

 

বিডি প্রতিদিন/নাজমুল

এই রকম আরও টপিক

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর