নড়াইলের লোহাগড়ায় নিখোঁজ হওয়ার আট ঘণ্টা পর আবাসিক হোটেল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে অপহৃত ৮ বছর বয়সী শিশু মেজবাহ মৃধাকে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছে শিশুটির স্বজনও।
শনিবার (৩০ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের ঘাঘা গ্রাম থেকে নিখোঁজ হয় প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেজবাহ। সে পাঁচুড়িয়া কিন্ডার গার্ডেনের শিক্ষার্থী এবং মালয়েশিয়া প্রবাসী মৃধা সালাউদ্দিন লিটু ও ময়না বেগমের একমাত্র সন্তান।
নিখোঁজের ঘটনায় রাত সাড়ে ১২টার দিকে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন শিশুটির মা। এরপরই লোহাগড়া থানার একাধিক পুলিশ টিম মাঠে নামে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সূত্র ধরে রবিবার (৩১ আগস্ট) ভোরে উপজেলার নিরিবিলি পিকনিক স্পটের একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় মূল অভিযুক্ত রোজিনা বেগমকে আটক করা হয়।
তদন্তে উঠে আসে ভয়াবহ এক সত্য—শিশুটিকে অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী ছিল তার বাবার চাচাতো ভাই উজ্জ্বল শেখ (৩৬)। সে এই কাজে সহযোগী করে রোজিনা বেগম (৪০), তার ছেলে সাকিব লস্কর (১৭) এবং ভ্যানচালক জান্নাতুল শেখকে (২০)।
গ্রেফতার চারজন হলেন- ঘাঘা উত্তরপাড়া গ্রামের শহিদ শেখের ছেলে উজ্জ্বল শেখ, রোজিনা বেগম ও তার ছেলে সাকিব, এবং যোগিয়া গ্রামের জান্নাতুল শেখ। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এদের প্রত্যেকেই অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
পুলিশ জানায়, অপহরণের পর শিশুটিকে নিয়ে নিরিবিলি পিকনিক স্পটের হোটেলে ওঠে রোজিনা। কেয়ারটেকার আবুল কালাম জানান, রোজিনা এক হাজার ৫০০ টাকায় রুম ভাড়া নিয়ে শিশুটিকে নিজের নাতি পরিচয়ে হাজির করেন। রোজিনা দাবি করেন, সকালে ঢাকায় রওনা হবেন।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার রাতে মেজবাহ ও তার চাচাতো ভাই দোকানের সামনে খেলছিল। কিছু সময় পর রোজিনা, উজ্জ্বল ও পরে সাকিবকে বেলুন হাতে শিশুটির সঙ্গে দেখা যায়। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিল মেজবাহ। ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে উজ্জ্বল শেখকে আটক করে পুলিশ। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে একে একে উদ্ধার হয় মেজবাহ এবং ধরা পড়ে পুরো চক্র।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। আটক চারজনের বিরুদ্ধে শিশু অপহরণ ও মানবপাচার আইনে মামলা হয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিডি প্রতিদিন/মুসা