Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ মে, ২০১৯ ২২:২১

কেন আটকে আছে ফারুকীর ছবি

আলাউদ্দীন মাজিদ

কেন আটকে আছে ফারুকীর ছবি

চলতি বছরের বহুল আলোচিত ছবি ‘শনিবারের বিকেল’ আটকে আছে সেন্সর  বোর্ডে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী নির্মাণ করেছেন ছবিটি। মস্কো চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত এই ছবিটি আটকে যাওয়ায় চরম হতাশ দর্শকরা। ছবিটি ছাড়ের জন্য আপিল করেছেন পরিচালক। চলতি বছরের শুরুতেই ফারুকীর ‘শনিবারের বিকেল’ সেন্সর  বোর্ডে জমা পড়ে। প্রথমবার সেন্সর শো-এর পর ছবিটিকে সর্বসম্মতিক্রমে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সেন্সর বোর্ড সদস্যরা। তারা ছবিটির প্রশংসা করে কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে মন্তব্যও দেন। তখন তারা জানান, ছবিটির শেষে একটি সুপার বসাতে হবে এবং সেই সুপারে কি লেখা থাকবে সেটা সেন্সর বোর্ড পরে জানাবে। এরপর ছবিটিকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় একদল মানুষ ছবিটির কিছু স্টিল ছবি নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালাতে শুরু করে। এর মধ্যে কেউ কেউ অনলাইনে ছবিটিকে নিয়ে ওয়াজও করতে থাকে। সেই ওয়াজগুলো একই রকম ভুল তথ্যের ওপর প্রচার করা হচ্ছিল। তারপর তড়িঘড়ি করে সেন্সর বোর্ড দ্বিতীয়বার সেন্সর  শো-এর সিদ্ধান্ত নেয়। দ্বিতীয় শোতে আগের সিদ্ধান্ত বদলে দিয়ে ছবিটিকে ছাড়পত্র না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে ছবির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান যথারীতি আপিল বোর্ডের কাছে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আবেদন করে। গত ৪ এপ্রিল আপিল বোর্ডে সেন্সর শো হয়। এই শো-এর সিদ্ধান্ত এখনো নির্মাতাকে জানানো হয়নি বলে জানিয়ে নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, আমি আশাবাদী, আপিল বিভাগ ছবিটির ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে। এর বেশি কিছু বলতে চাই না।

এর আগে দ্বিতীয়বার সেন্সর বোর্ড ছবিটি দেখে জানায় এটি প্রদর্শনের অযোগ্য। কারণ হিসেবে সেন্সর বোর্ডের সদস্যরা তখন জানিয়েছিলেন ছবিটিতে হলি আর্টিজানের সন্ত্রাসী হামলার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এ কারণে ছবিটি দেশ ও বিদেশের মাটিতে দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণœ করতে পারে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশে ছবিটির প্রদর্শন নিষিদ্ধ করে সেন্সর বোর্ড। ‘শনিবারের বিকেল’-এর সেন্সর শো-এর সময় উপস্থিত থাকা সেন্সর বোর্ডের সদস্য ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ ছবিটি নিষিদ্ধ করার কারণ জানাতে গিয়ে বলেন, ছবিটির গল্প সেন্সর নীতিমালাবহির্ভূত। তা ছাড়া যে গল্প নিয়ে ছবিটি নির্মাণ হয়েছে তাতে দেশ-বিদেশে আমাদের দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে সরকারি পর্যায় থেকে ছবিটিকে ছাড়পত্র না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সেন্সর বোর্ডকে। এদিকে, সেন্সর বোর্ডের আরেক সদস্য খোরশেদ আলম খসরু বলেন, ছবিটি সেন্সরের সময় আমি সেন্সর বোর্ডের সদস্য ছিলাম না। তাই ছবিটি কেন নিষিদ্ধ করা হলো তা আমি জানি না। তবে আমার কথা হলো একটি চলচ্চিত্র নির্মাণে বিশাল অর্থ ব্যয় হয়। তা ছাড়া বর্তমানে চলচ্চিত্র নির্মাণ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় সিনেমা হল বন্ধ রোধ করা যাচ্ছে না। ফলে এই শিল্পটির অস্তিত্ব এখন চরম সংকটে পড়েছে। এ অবস্থায় কোনো ছবিকে নিষিদ্ধ না করে প্রয়োজনে   সেন্সর নীতিমালাবহির্ভূত দৃশ্য পরিবর্তন, পরিমার্জন ও সংশোধন সাপেক্ষে ছাড় দিলে ভালো হয়। খসরু আরও বলেন, ৪-৫ বছর আগে আমার প্রযোজিত ‘লীলা মন্থন’ শিরোনামের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পের একটি ছবি খোঁড়া অজুহাত দেখিয়ে সেন্সর বোর্ড আটকে রেখেছে। বোর্ড থেকে আমাকে বলা হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি নিতে হবে। আমি গত দেড় বছরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ১৫ বার আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাইনি। আমার কথা হলো এভাবে ছবি আটকে না রেখে প্রয়োজনে গ্রেডিং সিস্টেমে চলচ্চিত্র ছাড় দেওয়া দরকার। বিশ্বের কোথাও সেন্সর বোর্ড নেই। সেন্সর সার্টিফিকেশন বোর্ড আছে। আমাদের এখানেও সেন্সর সার্টিফিকেশন বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। এই বোর্ড গঠন হলে এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার মুখে নির্মাতাদের আর পড়তে হবে না।

মস্কো চলচ্চিত্র উৎসবে ইতিমধ্যে সম্মাননা পাওয়া ‘শনিবারের বিকেল’ ছবিটি বাংলাদেশ-ভারত-জার্মান, এই ত্রিদেশীয় যৌথ প্রযোজনায় ২০১৬ সালে গুলশানে ঘটে যাওয়া হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার ঘটনা নিয়ে নির্মিত হয়েছে। বাংলা ভাষা ছাড়াও ইংরেজি ভাষায়ও হয়েছে ডাবিং। এতে অভিনয় করেছেন জাহিদ হাসান, নুসরাত ইমরোজ তিশা, কলকাতার অভিনেতা পরমব্রতসহ অনেকে।  


আপনার মন্তব্য