শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ জুলাই, ২০১৯ ২২:১৬

ইন্টারভিউ

একজনই নাম্বার ওয়ান, তিনি মাইকেল

একজনই নাম্বার ওয়ান, তিনি মাইকেল

নন্দিত কণ্ঠশিল্পী শুভ্র দেব। একাধারে তিনি একজন গীতিকার, সংগীত পরিচালক ও কম্পোজার। যে সব বাংলাদেশি শিল্পী এমটিভির তৈরি মিউজিক ভিডিওতে অংশগ্রহণ করেছেন, হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা খ্যাত এই জনপ্রিয় পপগায়ক তাদের প্রথম দিকের একজন। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ প্রতিদিনের শোবিজ আড্ডায় অতিথি হয়ে এসেছিলেন তিনি। তার সঙ্গে এক তপ্ত দুপুরে জমে ওঠে জম্পেশ আড্ডা। সেই প্রাণবন্ত আড্ডা পাঠকের জন্য তুলে ধরেছেন- পান্থ আফজাল  ছবি : রাফিয়া আহমেদ

 

অবশেষে সামনাসামনি দেখা পেলাম! কেমন আছেন?

অনেক ভালো আছি। আর আমি মনে হয় প্রথম কোনো পত্রিকা অফিসে ইন্টারভিউ দিতে আসলাম! সত্যি কথা (হেসে বলেন)!

 

বর্তমান সময়ে ব্যস্ততা কী নিয়ে?

অনেক বছর ধরেই আমি ভাবছি বাংলাগানকে কীভাবে ইন্টারন্যাশনালি পরিচিত করা যায়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে কাজ করে যাচ্ছি। মিউজিক ভিডিওকে এস্টাবলিশ করার জন্য প্রচুর পরিশ্রম, ইনভেস্টমেন্ট করছি।

 

গানের কোয়ালিটি নির্ধারণ কীভাবে করেন?

মৌলিক গানের ভিত্তিতে। কার কত বেশি মৌলিক গান এবং

কতটা জনপ্রিয়-সেটাই মাপকাঠি।

 

গান এখন অবশ্য শোনা এবং দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে...

সেটা অবশ্য সত্যি। এখন কিন্তু ভিডিও গানের প্রভাব বেশি। গান ভালো হলে, ভিডিও ভালো হলে তার ফিডব্যাক তো থাকবেই।

 

প্রথম মিউজিক ভিডিও শুট কবে করেন? এর পরের অধ্যায়ের যাত্রা...

প্রথম মিউজিক ভিডিওর শুট করি ১৯৯১ সালে। তখন স্টকহোমে ‘এ আমার শেষ চিঠি’র শুটিং করি এবং সেটি ইত্যাদিতে দেখানো হয়। সে সময় আয়ারল্যান্ডে ফার্স্ট কনসার্ট করতে যাই। এরপর গান করি বিটিভির ‘বিশেষ দ্রষ্টব্য’তে। যেখানে শ্রদ্ধেয় সৈয়দ আবদুল হাদী, আবিদা সুলতানাও গেয়েছিলেন। 

 

নতুনকুঁড়িতে ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলেন...

হ্যাঁ, তা শিশু-কিশোর থাকা অবস্থায়।

 

আপনার চিন্তা-ভাবনা সুদূরপ্রসারী। একটু খুলে বলবেন কী?

আমি কখনো কিন্তু বর্তমানকে নিয়ে ভাবি না; ভবিষ্যতে কী হবে সেটা নিয়েই ভাবি। যখন মোবাইল শুরু হলো, আমি জানতাম একসময় অ্যাপস হবে, একসময় মানুষ মোবাইলে টিভি দেখবে। আমার কথা শুনে মানুষ অনেক হাসত। যেমন ভবিষ্যতে আস্তে আস্তে টেলিভিশনও থাকবে না। একসময় যে কোনো জায়গায় বসে স্ক্রিন ওপেন করতে পারবেন হাতের ছাপ দিয়ে।

 

প্রয়াত আইয়ুব বাচ্চু আপনার খুবই কাছের, বন্ধুর মতো ছিলেন। তার শূন্যতা কেমন অনুভব করেন?

তা কী এভাবে প্রকাশ করা যায়! তার শূন্যতা অপূরণীয়। সে হচ্ছে রিয়েল আর্টিস্ট। তার সৃষ্টি অনেক বছর বেঁচে থাকবে।

 

এখনকার গান কেন জনপ্রিয় হয় না?

এখনকার আর্টিস্টদের দক্ষতা কমে যাচ্ছে বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করে গান করার কারণে। আমরা কিন্তু কখনই টেকনোলজি ডিপেনডেন্ট ছিলাম না। সুবীর নন্দী, আবদুল জব্বার, রুনা লায়লা, বারী সিদ্দিকী, আইয়ুব বাচ্চুসহ অনেক

শিল্পীর সৃষ্টি দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে তাদের মৌলিক গানের

কারণে। শ্রদ্ধেয় রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিনের কিন্তু গানের ভিডিও প্রকাশ করার দরকার নেই, এমনিতেই শুনবে। তারা যা ইন্ডাস্ট্রির দিয়েছে, তা হাজার বছর চলবে। এখন তো অনেক শিল্পী লাইভের অনেক গানেই লিপসিং করে। আগে আমরা একটা গান করার আগে তা নিয়ে মিউজিক ডিরেক্টরের সঙ্গে বসতাম। অনেক চেঞ্জ হতো। প্রণবদার সঙ্গে বেশি কাজ করেছি। গান নিয়ে রীতিমতো গবেষণা করতাম।

 

কপি-পেস্ট গান ও কভার গানের প্রবণতা বেড়েছে কিন্তু...

এটা আসলে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই গানের এক লাইন, ওই গানের দুই লাইন নিয়ে কপি-পেস্ট করে গান তৈরি করছে। মানুষ এখন আর কষ্ট করতে চায় না। এখন সবার ঘরেই স্টুডিও। নিজেই লিখছে, নিজেই সুর করে গাইছে।

সফটওয়্যারের মাধ্যমে তৈরি করে ইউটিউবে ছেড়ে দিচ্ছে। কাভার সং কিন্তু আবার ঠিক আছে। ভালো করে গাইতে পারলে আপত্তি নেই।

 

তাহলে কি অচিরেই আপনার কণ্ঠে কাভার সং শুনতে পারব?

কিশোর কুমারের কণ্ঠের সঙ্গে আমার কিছুটা যায়-অনেকেই বলে। ইচ্ছে

আছে, কিশোর কুমারের কিছু জনপ্রিয় গানের কাভার করব।

 

একসময় আপনার ‘পেপসি’ বিজ্ঞাপনটি দর্শকনন্দিত হয়েছিল...

সেসময় পেপসি বাংলাদেশে একটা জরিপ করেছিল। জরিপে জনপ্রিয়তার কাতারে আমার নাম ছিল প্রথমে। এই বিজ্ঞাপন কিন্তু প্রথম করেছে মাইকেল জে ফক্স। পরে ইন্ডিয়াতে প্রহলাদ কাক্কার এটির ভার্সন কিছুটা চেঞ্জ করে ঐশ্বরিয়া রায় ও মহিমা চ্যাটার্জির সঙ্গে আমির খানকে দিয়ে করান। ১৯৯৪ সালে আমি সিলেক্ট হই।

 

শুনেছি পপস্টার মাইকেল জ্যাকশনের সঙ্গে দেখা হয়েছিল... হুম...আমি সবসময় চেষ্টা করেছি ইন্টারন্যাশনাল লেভেল মেইনটেইন করার। সেজন্য তার সঙ্গে দেখা হয়েছে, কথা বলেছি। তা ১৯৯৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার সময়। মাইকেল জ্যাকশন কিন্তু সে সময় এলভিস প্রিসলির রেকর্ড ভেঙেছিল। সেসময় তাকে একটা জ্যাকেট পরাবে কালো ভেলভেটের। এটিতে ১৫টি বাটন ছিল, যার সব কটি ডায়মন্ডের। অবাক বিষয় হচ্ছে, এক একটি বাটনে আবার

১০০টি ছোট ছোট ডায়মন্ড। এই জ্যাকেটটি সে পরতে এসেছিল। শাহীন ভাই মাইকেলের ম্যানেজারকে বলে রেখেছিল, যেন তার সঙ্গে আমাকে একটু দেখা করিয়ে দেয়। এভাবেই হয়েছে। তবে আমি মনে করি, গান ফুটবল বা ক্রিকেট না যে শচীন টেন্ডুলকার ১০০টা সেঞ্চুরি করে নম্বর ১ হবে। গানের কোনোদিন নাম্বারিং হয় না। তবে একজনই নাম্বার ওয়ান ছিলেন, তিনি মাইকেল।

 

আপনি তো একসময় দুই দেশেই রেকর্ডিং করতেন...

কথাটি সত্যি। বাংলাদেশে ও ইন্ডিয়াতে করতাম।

 


আপনার মন্তব্য