শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২৩:১৭

ক্যামেরায় আর চোখ রাখবেন না মাহফুজ খান

শোবিজ প্রতিবেদক

ক্যামেরায় আর চোখ রাখবেন না মাহফুজ খান

টানা প্রায় ১১ দিন মৃত্যুর সঙ্গে যুদ্ধ করে অবশেষে হার মানতে হলো দশবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া বরেণ্য চিত্রগ্রাহক ও নায়ক মাহফুজুর রহমান খানকে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা ২৬ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। গতকাল বাদ জুমা পুরান ঢাকার চকবাজার শাহী মসজিদে তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বিকাল সাড়ে ৩টায় এফডিসিতে জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

পরিবারের ভাষ্য, ২৫ নভেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগের দিনও পুরোপুরি সুস্থ ছিলেন মাহফুজুর রহমান খান। ওই দিন রাতে খেতে বসলে তার কাশির সঙ্গে প্রচন্ড  ব্লিডিং শুরু হয়। এরপর দ্রুত গ্রিন লাইফ হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখার পরামর্শ দেন। শারীরিক অবস্থার তেমন উন্নতি না হওয়ায় ৩০ নভেম্বর চিকিৎসকদের পরামর্শে গ্রিন লাইফ হাসপাতাল থেকে ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় তাকে। আর এখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে মাহফুজুর রহমান খান ডায়াবেটিস ও ফুসফুসের রোগে ভুগছিলেন।

তার স্ত্রী মারা যান ২০০১ সালে। তখন থেকেই ধীরে ধীরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। অনেক দিন ধরে ডায়াবেটিস ও ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। মাহফুজুর রহমান খান নিঃসন্তান ছিলেন।

এই গুণী মানুষটি ১৯৫০ সালে ঢাকার চকবাজারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৬ সালে শিক্ষানবিস ক্যামেরাম্যান হিসেবে চিত্রজগতে পদার্পণ করেন তিনি। মাহফুজুর রহমান প্রখ্যাত চিত্রগ্রাহক আবদুল লতিফ বাচ্চুর শিষ্য হিসেবেই কাজ শুরু করেন। তিনি তার অধীনে সহকারী চিত্রগ্রাহক হিসেবে ১৯৭০ সালে দর্পচূর্ণ ও ১৯৭১ সালে স্বরলিপি চলচ্চিত্রে কাজ করেন। প্রধান চিত্রগ্রাহক হিসেবে তিনি প্রথম কাজ করেন ১৯৭২ সালের আবুল বাশার চুন্নু পরিচালিত ‘কাঁচের স্বর্গ’ ছবির। তিনি সুচন্দা, রাজ্জাক, ববিতা, আলমগীর কবির, আবদুল্লাহ আল মামুন, আলমগীর কুমকুম, হুমায়ূন আহমেদ, শিবলি সাদিকদের মতো কিংবদন্তি চলচ্চিত্র পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেন। বিশেষ করে হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত প্রায় সব চলচ্চিত্রের চিত্রগ্রাহক ছিলেন। আমার জন্মভূমি, অভিযান, জোকার, সৎভাই, মহানায়ক, চাঁপাডাঙ্গার বউ, ঢাকা ৮৬, অন্তরে অন্তরে, তিন কন্যা, হাজার বছর ধরে, পোকা মাকড়ের ঘর বসতি, সখি তুমি কার, আগুনের পরশমণি, শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা, নন্দিত নরকে, বৃত্তের বাইরে, ঘেঁটুপুত্র কমলা, আনন্দ অশ্রুসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক ছবির চিত্রগ্রাহক ছিলেন মাহফুজুর রহমান খান। তা ছাড়া নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন আমার জন্মভূমি, একালের নায়ক, চলো ঘর বাঁধি, আলোছায়া প্রভৃতি ছবিতে। প্রযোজনা করেন ‘নীতিবান’ ছবিটি।


আপনার মন্তব্য