শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২১:৩৯

ইন্টারভিউ → পপি

চলচ্চিত্রের যা অবস্থা স্টেজ শো না করলে খাব কী

চলচ্চিত্রের যা অবস্থা স্টেজ শো না করলে খাব কী

ঢাকাই চলচ্চিত্রের বুনো সুন্দরীখ্যাত একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী পপি চিত্রজগতের খরার মাঝেও ব্যস্ত থাকেন। সম্প্রতি একটি ছবির কাজ শেষ করেই চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন নতুন আরেকটি ছবিতে। তার সাম্প্রতিক ব্যস্ততার কথা তুলে ধরেছেন- আলাউদ্দীন মাজিদ

 

চলচ্চিত্র জগতে খরা দীর্ঘদিনের, সময় কীভাবে কাটছে?

খরা চলছে ঠিকই, তারপরও কাজ যে একেবারে হচ্ছে না তা কিন্তু নয়, হয়তো পরিমাণ কমে গেছে। আর এই অবস্থার উত্তরণ কিন্তু আমাদের হাতেই। কাজের মাঝেই আমার সময় কাটছে।

 

এই উত্তরণ কীভাবে সম্ভব?

কাজের মাধ্যমেই উত্তরণ ঘটাতে হবে। ‘চলচ্চিত্র জগতের অবস্থা মন্দ’Ñ এ কথা বলে সবাই যদি হাত গুটিয়ে বসে থাকি তাহলে সমস্যার সমাধান কখনোই হবে না। প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পীসহ এ অঙ্গনের সবাইকে সাহস করে এগিয়ে আসতে হবে, দুর্গম পথ পাড়ি দিতে হবে। দুঃসময়ের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে চলচ্চিত্র জগতের অস্তিত্ব রক্ষা করতে হবে।

 

আপনার হাতে এখন কাজের পরিমাণ কেমন?

এই তো সম্প্রতি শাহীন সুমনের ‘গ্যাংস্টার’ শিরোনামের একটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হলাম। এর আগে সাদেক সিদ্দিকীর ‘সাহসী যোদ্ধা’ ছবির কাজ শেষ করলাম। তাছাড়া ‘কাঠগড়ায় শরৎচন্দ্র’, ‘টার্ন’সহ বেশ কয়েকটি ছবি মুক্তির অপেক্ষায় আছে।

 

আপনিসহ অনেক শিল্পী এখন স্টেজ শো নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন, এদিকটায় ঝুঁকে পড়লেন কেন?

দেখুন আপনিই তো বলেছেন, চলচ্চিত্রে খরা চলছে। শিল্পীদের তো ঘর-সংসার আছে। তাদেরও তো খেয়ে-পরে বাঁচতে হয়। তাই চলচ্চিত্রের পাশাপাশি স্টেজ শোসহ নানা সোশ্যাল ওয়ার্ক করতে হয়, দর্শক-ভক্তদের অনুরোধ রাখতে হয়। এটি আমাদের কাজেরই একটি অংশ। আর শিল্পীদের স্টেজ শো, সোশ্যাল ওয়ার্কে যুক্ত হওয়া শুধু আমাদের দেশে নয়, হলিউড, বলিউডসহ সারা বিশ্বেই চলে আসছে।

 

চলচ্চিত্রের বিভিন্ন সমিতি রয়েছে, তারা চলচ্চিত্রের উন্নয়নে কেমন ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন?

আসলে সমিতির কাজ হলো এর সদস্যদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য কাজের পরিধি বৃদ্ধি করা। যদি আমাদের শিল্পী সমিতির কথাই বলি তাহলে আমার প্রশ্ন তারা কি তা করছে? রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া, মিছিল-মিটিং করা, রাজনৈতিক ব্যানারে নিজেদের শোআপ করা সমিতির কাজ নয়। শুধু তাই নয়, আতশবাজি ফুটিয়ে এফডিসির মতো একটি কেপিআইভুক্ত এলাকায় সমিতির কোনো কর্মকর্তার জন্মদিন পালন করা কী অবৈধ কাজ নয়? আর যেখানে চলচ্চিত্র জগতের মানুষের হাতে তেমন কাজ নেই সেখানে লাখ লাখ টাকা খরচ করে পিকনিক করা অযৌক্তিক বলে মনে করি। চাঁদা তুলে ওই টাকা দিয়ে পিকনিক না করে তা অসহায় সদস্যদের কল্যাণে ব্যয় করলেই তো হয়। এফডিসিকে ব্যক্তিগত কাজের ক্ষেত্র না বানিয়ে ফান্ড ক্রিয়েট করে হলেও চলচ্চিত্র নির্মাণ করা যায়। কিন্তু শিল্পী সমিতি তা করছে না। আসলে এই সমিতি কী এখন সত্যিই শিল্পীদের কল্যাণে কাজ করছে?

 

এবার ফের আপনার কাজের প্রসঙ্গে আসি, ছোট পর্দার কাজেও একসময় নিয়মিত ছিলেন, এখন তেমন একটা দেখা যায় না, কেন?

আসলে ছোট পর্দায় আমি উৎসবকেন্দ্রিক কাজ করি, যেমন দুই ঈদের নাটক, টেলিফিল্ম। আমি সবসময়ই একটি কথা বিশ্বাস করি, পরিমাণ নয়, মানই হচ্ছে স্থায়িত্বের প্রধান উৎস। আমি সবসময় মানসম্মত কাজকে প্রাধান্য দিয়ে আসছি বলে বড় পর্দায় অভিনয়ের শুরুতেই দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছি। একই সঙ্গে সরকার আমাকে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দিয়েছে। মানে দর্শকগ্রহণযোগ্যতা এবং রাষ্ট্রীয় সম্মান দুই-ই আমার ভাগ্যে জুটেছে। এই অর্জনকে মানসম্মত কাজের মাধ্যমে আজীবন ধরে রাখতে চাই। ছোট পর্দার ক্ষেত্রেও একই বিবেচনা বলে হয়তো আমার কাজের সংখ্যা কম, কিন্তু অর্জন বেশি।

 

এখন তো শোবিজ তারকাদের বিয়ের ধূম চলছে, কখন বিয়ে করছেন?

আমি নিজেই জানি না কখন বিয়ে করছি। আমার বিয়ের ফুল এখনো ফুটেনি, যখন ফুটবে তখনই...হা...হা...হা...


আপনার মন্তব্য