শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২১:৪৩

ইন্টারভিউ

এই গান চারটি প্রজন্মকে এক করেছে

এই গান চারটি প্রজন্মকে এক করেছে

সম্প্রতি কুমার বিশ্বজিতের গাওয়া ‘হে বন্ধু বঙ্গবন্ধু’ শিরোনামের একটি গান বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ হয়েছে। এছাড়া ভারতের আগরতলায় ভারত-মৈত্রী উৎসবে জমকালো শো শেষ করে দেশে ফিরেছেন এই গুণী কণ্ঠশিল্পী। গান ও সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন- আলী আফতাব

 

হে বন্ধু বঙ্গবন্ধু গানটির কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

যে মানুষটির জন্য আমরা একটি পতাকা, একটি স্বাধীন ভূখন্ড পেয়েছি, তাঁর কাছে আমাদের অনেক ঋণ। সেই ঋণ শোধ করার সাধ্য আমাদের নেই। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমি একটা সুযোগ পেয়েছি। যেহেতু আমি গানের মানুষ, তাই গানের মাধ্যমেই একটুখানি ঋণ শোধ করতে চাই। এছাড়া এরই মধ্যে এই গানটি অনেক ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ হয়েছে। এরই মধ্যে দারুণ সাড়া পেয়েছি গানটি নিয়ে।

 

শুনেছি, এই গানটি নাকি একটি কবিতা ছিল?

হ্যাঁ, আমি গাজী চাচার (গাজী মাজহারুল আনোয়ার) কাছে শুনেছি। তিনি বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ শেষে বঙ্গবন্ধু যখন ক্ষমতায় এলেন, অনেকেই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান। ‘হে বন্ধু বঙ্গবন্ধু, তোমার কালো ফ্রেমের চশমাটা আমায় দাও’ কবিতাটি লিখে নিয়ে গাজী চাচাও বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যান। কবিতাটি তিনি খুব পছন্দ করেন। এবং নিজের ঘরে তা বাঁধাই করে রাখেন। গানটি তৈরির প্রায় মাসছয়েক আগে আমি এই কবিতার খোঁজ পাই। আমি গাজী চাচার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে গানটি তৈরির প্রস্তুতি নিই।

 

এই গানটি চার প্রজন্মের মেলবন্ধন করেছে। আপনি কি বিশ্বাস করেন?

কথাটি সত্য। গানের গীতিকবি গাজী মাজহারুল আনোয়ার এক প্রজন্ম, আমি আর এই গানের সংগীতায়োজক মানাম আহমেদ, সমসাময়িক গানের সুরকার কিশোর দাশ নতুন প্রজন্মের। আর এই গানের ভিডিওতে স্কুলের যেসব বাচ্চা কাজ করছে

তারা একটি প্রজন্ম। গানটি সুর করার পর মানাম ২২ দিন সময় নিয়েছে গানটির অর্কেস্ট্রেশন করতে। গানে এসরাজ বাজিয়েছেন ভারতের বিখ্যাত মিউজিশিয়ান আরশাদ খান। ঢাকায় এসেছিলেন গানবাংলার উইন্ড অব চেঞ্জের রেকর্ডিংয়ে। তাকে পেয়ে গেলাম। তিনি গানটি সম্পর্কে জেনে বাজালেন বিনা পারিশ্রমিকে। বাঁশি বাজিয়েছেন জালাল।

 

আগরতলার শো কেমন ছিল?

যেহেতু আমাদের পাশর্^বর্তী দেশে সংগীত পরিবেশন করতে গিয়েছি, তাই প্রস্তুতিটাও বেশ ভালোভাবে ছিল। সত্যি বলতে কি দেশে হোক কিংবা দেশের বাইরেই হোক আমি যখন গান গাওয়ার জন্য মঞ্চে উঠি তখন আমার সর্বোচ্চটা দিয়েই গাওয়ার চেষ্টা করি। আগরতলায় গান গাওয়ার ক্ষেত্রেও আমার সেই চেষ্টাই ছিল। সেখানকার দর্শক-শ্রোতাদের অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। এছাড়া আমার সঙ্গে মুহিন ছিল, সেও ভালো গেয়েছে।

 

গানের জগতে আপনার পদচারণা চার দশক। নিজেকে কি করে এতটা সময় ধরে রেখেছেন?

আমি যখন গান শুরু করেছি, সেটি ছিল সংগীতের স্বর্ণযুগ।  পরিশ্রমের মাধ্যমে আমাদের জায়গা তৈরি করে নিতে হয়েছে। সব সময় মনে হয়েছে, সময়কে সময় দিলে নিশ্চয়ই সময়ও ভালো কিছু দেবে। আমার বেলায়ও তাই ঘটেছে। পরিচর্যার জায়গা বলতে সব সময় ভালো গান করার চেষ্টা ছিল। এখনো আছে।

 

বর্তমানে গানের অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে বলে আপনি মনে করেন?

গান সব সময় দেখার, শোনার, উপলব্ধি করার। গানের কথায় কাব্যময়তা, অন্ত্যমিল, সাহিত্য এবং ভালো সুর থাকতেই হবে। কিন্তু এখন গান কি আর সেই জায়গায় আছে? এখন গান চলে গেছে যারা বাণিজ্য করেন, তাদের হাতে। তারা বৈশ্বিক বাজার ধরতে ঠিক করে দেন কী ধরনের গান করতে হবে। যে শ্রোতার জন্য এই গানগুলো করা, তারা কেন এই গান শুনবেন? তারা খাঁটি শিল্পীর গানই শুনতে চাইবেন। আমরা ‘ইয়ো ইয়ো’ টাইপ ওয়েস্টার্ন গান কেন প্রমোট করব? আমাদের লালন, হাসন, শাহ আবদুল করিমের গান ভাঙলেই তো যথেষ্ট।

 

নতুন প্রজন্মের প্রতি কিছু বলার আছে?

নতুন প্রজন্মের ভিশন ঠিক করতে হবে। অন্যের গান না গেয়ে, পরনির্ভরশীল না হয়ে নিজের গান তৈরি করতে হবে।

একটা গান দিয়েও আজীবন শ্রোতার হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া সম্ভব।


আপনার মন্তব্য