শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২২:১০

হলিউডে মুসলিম অভিনেতা-অভিনেত্রী

হলিউডে মুসলিম অভিনেতা-অভিনেত্রী

হলিউড ইন্ডাস্ট্রি বিশ্বের তাবত মানুষের কাছে বিস্ময়কর জগৎ! তাই এই রঙিন জগতের তারকাদের নিয়ে হলিউডপ্রেমীদের রয়েছে তুমুল আগ্রহ। হলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে এ যাবৎকালে অসংখ্য মুসলিম অভিনেতা-অভিনেত্রী যুক্ত হয়েছেন। তাঁদের নিয়ে লিখেছেন- পান্থ আফজাল

হলিউড ইন্ডাস্ট্রি অনেক ব্যাপক ও বিস্তৃত। এখানে কাজ করতে পারা যে কারও জন্য সৌভাগ্যের ও আনন্দের। শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেতা- অভিনেত্রীদের মতো এখানেও রয়েছে বিভিন্ন ধর্মের ও বর্ণের অভিনেতা-অভিনেত্রী। এই জগতে খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ধর্মের তারকাদের পাশাপাশি রয়েছে অনেক মুসলিম অভিনেতা-অভিনেত্রী। বিভিন্ন দেশ থেকে এসে এই জগতে থিতু হয়েছেন অনেক মুসলিম অভিনেতা-অভিনেত্রী। অনেকেই আবার ধর্ম বদল করে হয়েছেন মুসলিম। তবে যে ধর্ম থেকেই আসুক না কেন, মুসলমান হিসেবে নিজেদের জায়গা পোক্ত করতে যে প্রচুর বেগ পেতে হয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই! সুখবর হচ্ছে, এত এত মুসলিম তারকার ভিড়ে প্রথমবার দুই মুসলিম অভিনেতা জয় করেছেন অস্কার।

বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় সম্মাননার আসর অস্কারের আসরে সেরা পার্শ্বঅভিনেতা ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতে নেন মুসলিম-মিসরীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান রামি সাঈদ মালেক। বোহেমিয়ান র‌্যাপসোডির ছবিতে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার জেতেন তিনি। তিনি অভিনয় করেছেন মি. রোবট, নো টাইম টু ডাই, নাইট অ্যাট দ্য মিউজিয়াম, প্যাপিলিয়ন, নিড ফর স্প্রিড, দ্য টোয়ালেট সাগাসগসহ অসংখ্য হলিউড মুভিতে। আর ২০১৭ সালে মুনলাইট ছবিতে অনবদ্য অভিনয় করে নিজের ঘরে স্বর্ণের পুতুলটি তোলেন হলিউড মুসলিম অভিনেতা মাহেরশালা আলী। তিনি ৯১তম অস্কারে ‘গ্রিন বুক’ ছবিতেও সহঅভিনেতা হিসেবে আবারও পুরস্কার জেতেন। বায়ান সিঙ্গার পরিচালিত ‘বোহেমিয়ান র‌্যাপসোডি’ মূলত ছিল সংগীতশিল্পী মার্কারির বায়োপিক। ১৯৯১ সালে এইডসে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। রুপালি পর্দায় তাঁর চরিত্রটিই ফুটিয়ে তোলেন রামি মালেক। এদিকে ষাটের দশকের বাস্তব জীবনের কাহিনি নিয়ে তৈরি হয়েছে গ্রিন বুক। আমেরিকার দক্ষিণে একটি ভ্রমণের গল্প। কৃষ্ণাঙ্গ পিয়ানোবাদক ও ইতালিয়ান-আমেরিকান দেহরক্ষীর সম্পর্ক নিয়ে ছবির কাহিনি আবর্তিত। মেহেরশালা এতে সহঅভিনেতার পুরস্কার লাভ করেন। মাহেরশালা আলীর জন্ম ও বেড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রেরই একটি খ্রিস্টান পরিবারে। পরবর্তীতে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তিনি হাঙ্গার গেমস, হাউস অব কার্ডস ও কর্নেল স্টোকসের মতো জনপ্রিয় বেশ কিছু টিভি সিরিজে অভিনয় করেন। এদিকে হলিউডের হার্টথ্রব অভিনেত্রী তিনটি ধর্মের অনুসারী। খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ধর্মের পর তিনি পরবর্তীতে মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করে নতুন জীবন শুরু করেন। জানা যায়, ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে জোলি যখন সৌদি আরবে অবস্থান করেন তখন পবিত্র কাবা শরিফ পরিদর্শনকালে তিনি ইসলামের প্রতি দুর্বলতা অনুভব করেন এবং সেই থেকে তাঁর মনে ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ প্রবল হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত তিনি ইসলামের কাছেই নতিস্বীকার করে নিজেকে উৎসর্গ করেন। মি. অ্যান্ড মিসেস, মেলফিসেন্ট, লারা ক্রফট : টম্ব রাইডার, ওয়ান্টেড, গার্ল ইন্টারাপ্টেড, সল্ট, বাই দ্য সিসহ অসংখ্য ছবিতে তিনি অভিনয়ে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন। বলিউড থেকে এসে অনেক মুসলিম অভিনেতা-অভিনেত্রীও হলিউডে আলো ছড়িয়েছেন। কবির বেদী করেছেন অসংখ্য হলিউড মুভি। এরমধ্যে রয়েছে জেমস বন্ড সিরিজের অক্টোপুসি, অশান্তি, দ্য ব্ল্যাক কোরসাইরসহ অনেক হলিউড মুভিতে তিনি মুসলিম অভিনেতা হিসেবে অভিনয় করেছেন। শক্তিশালী অভিনেতা ইরফান খান বলিউড ছাপিয়ে হলিউডেও একের পর এক সম্মানজনক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ‘দ্য নেমসেক’ (২০০৬), ‘দ্য দার্জিলিং লিমিটেড’ (২০০৭), অস্কারজয়ী সিনেমা ‘স্লামডগ মিলিয়নিয়ার’ (২০০৮), ‘নিউইয়র্ক, আই লাভ ইউ’ (২০০৯), ‘দ্য অ্যামেজিং স্পাইডারম্যান’ (২০১২), ‘লাইফ অব পাই’ (২০১২), ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড’ (২০১৫) এবং ‘ইনফারনো’ (২০১৬)। হলিউডের মুসলিম অভিনেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম সাঈদ তাগমাউ। যিনি বক্সার ছিলেন, পরে অভিনেতা হয়েছেন। তাঁকে ওয়ান্ডার ওম্যানে সামির চরিত্রে দেখা যায়। ওমর মেটওয়াল্লি আরেকজন মুসলিম অভিনেতা, যিনি অসংখ্য টিভি সিরিজের পাশাপাশি মুভিতে অভিনয় করেছেন। ব্রিটিশ-পাকিস্তানি মুসলিম অভিনেতা হিসেবে রিজ আহমেদ জয় করেন অ্যামি অ্যাওয়ার্ড। মুসলিম অভিনেতা আলেকজান্ডার সিদ্দিগ গেম অব থ্রোনস ও গোথামে অভিনয় করে সুপরিচিত। সামবা ও ওমর ইটি ফ্রিড চরিত্রের জন্য সুপরিচিত ওমর এসজি। তিনি অভিনয় করেছেন জুরাসিক ওয়ার্ল্ড, এক্স মেন, ইন্টাচেবল, ডেজ অব ফিউচার পাস্টে। তামিলনাড়ু, ইন্ডিয়া থেকে আগত হলিউড অভিনেতা আজিজ আনসারী সুপরিচিত কমেডি টিভি সিরিজ পার্কস অ্যান্ড রিক্রিয়েশনের জন্য। এই নেটফ্লিক্স সেনসেশন করেছেন বুরিড এলাইভ, লাইভ অ্যাট মেডিশন স্কয়ার গার্ডেন। সোমালি-আমেরিকান বংশোদ্ভূত আরেক হলিউড অভিনেত্রী ইমান আবদুল মাজিদ। তিনি এ যাবৎ করেছেন নো ওয়ে আউট, প্রজেক্ট রানওয়ে কানাডা, স্টার ট্রাক, দ্য কোসবি শোসহ অসংখ্য মুভি। বিখ্যাত গায়িকা জেনেট জ্যাকসনও অসংখ্য মুভিতে অভিনয় করেছেন। ইসাবেলা খায়ের হাদিদ যাকে সবাই বেলা হাদিদ নামেই চেনেন। এই মুসলিম হলিউড ফ্যাশন মডেল কাম অভিনেত্রী অসংখ্য টিভি সিরিজ ও মুভিতে কাজ করেছেন। এরমধ্যে রয়েছে লাভ এডভেন্ট, ইনসাইড ডিওর, চ্যাম্প! দ্য মুভি, স্যাভেজ এক্স ফেন্ট্রিশো। ডা. ওজি এ যাবৎ করেছেন অসংখ্য টিভি সিরিজ। র‌্যামি ইউসুফ অভিনয়ের জন্য অর্জন করেন গোল্ডেন গ্লোভ অ্যাওয়ার্ড। ইরানিয়ান-আমেরিকান অভিনেত্রী সোহরেহ আগদাসলো করেছেন কিছু হলিউড টিভি সিরিজ ও মুভি। গ্লোডেন গ্লোভ উইনিং অভিনেতা ওমর শরিফ হলিউডের একজন সুপরিচিত অভিনেতা। পাকিস্তানি-আমেরিকান অভিনেতা ফারান তাহিরের উল্লেখযোগ্য কাজ হচ্ছে আইরনম্যান, স্টার ট্রাক, টোয়েন্টিফোর, এসকেপ প্লান, অ্যালিসিয়াম, জিন। হলিউডের মুসলিম অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আরও রয়েছেন শারমিন ওবায়েদ চিনয়, মো. আলী, কারমান পাশা, ডেভিড চ্যাপেল, ইয়াসিন বে, করিম আবদুল জব্বার, মাজ জোবরানি, আহমেদ আহমেদ, সৈয়দ বাদ্রেয়া, ওমর ইপস, কিউ টিপ, এ্যালি খান, বিগ ড্যাডি কেইন, গোস্তাফ কিল্লাহ, মেহমেট ওজি, আইস কিউব, আসিফ কাপাডিয়া, আর্ট মালিক, নাজানিন বোনিয়াদি,  আমর ওয়াকেদ প্রমুখ।


আপনার মন্তব্য