শিরোনাম
প্রকাশ : ২২ নভেম্বর, ২০২০ ০৮:৪০

চলচ্চিত্র বাঁচবে কোন পথে

শূন্যের কোঠায় সিনেমা হল

আলাউদ্দীন মাজিদ

চলচ্চিত্র বাঁচবে কোন পথে

ধুঁকে ধুঁকে নিষ্প্রাণ হয়ে গেছে চলচ্চিত্র। সরকার সিনেমা হল রক্ষায় বিশেষ তহবিল গঠনের ঘোষণা দিলেও মানসম্মত ও পর্যাপ্ত ছবির অভাবে  লোকসানে জর্জরিত সিনেমা হল বন্ধ কোনোভাবেই রোধ করা যাচ্ছে না। নব্বই দশকের মধ্যভাগ থেকে সিনেমা হল বন্ধ শুরু হলে আগেই দুর্যোগে পড়ে এই শিল্প। চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে করোনার কারণে সিনেমা হল বন্ধ থাকার পর গত ১৬ অক্টোবর পুনরায় খুললে আবার দেখা দেয় অচলাবস্থা। প্রযোজকরা নতুন ছবি দিচ্ছেন না। যার কারণে হতাশ প্রদর্শকরা। সর্বশেষ ঢাকার এশিয়া সিনেমা হলটি প্রায় দুই মাস আগে একটি ক্লাবকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে এবং পূরবী ও মুক্তি আর না খোলার আশঙ্কার কথা জানা গেছে প্রদর্শক সমিতি সূত্রে। চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট মিয়া আলাউদ্দীন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত দেশে সিনেমা হল ছিল ১,৩৭৪টি সেখানে এখন রয়েছে মাত্র ৭৩টির মতো। এ অবস্থায় তার প্রশ্ন- ‘সিনেমা হল না থাকলে চলচ্চিত্র বাঁচবে কোন পথে।’ তিনি বলেন, সরকার সম্প্রতি সিনেমা হল বাঁচাতে ১ হাজার কোটি টাকার তহবিল দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তার কথায় এই উদ্যোগ তখনই আলোর মুখ দেখবে যখন সরকারি তদারকিতে এই অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত ও দেশি অথবা বিদেশি যাই হোক পর্যাপ্ত এবং মানসম্মত ছবি পাওয়া যাবে। তা না হলে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্পের বিলুপ্তি এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। 

সিনেমা হল বন্ধের শুরু যেভাবে
১৯৯৫ সালে তৎকালীন সরকার মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে থাকা গুলিস্তান সিনেমা হলটি ভেঙে তাতে ১২ তলা ভবন নির্মাণ ও ওই ভবনে শপিং মলের সঙ্গে একটি সিনেমা হল নির্মাণের নির্দেশ দেয়। পরে ১৯৯৫ সালেই গুলিস্তান সিনেমা হলটি ভেঙে মার্কেট তৈরি হলেও এখন পর্যন্ত ১২ তলার স্থলে ৮ তলা পর্যন্ত এসে ভবনটির নির্মাণ কাজ থেমে আছে এবং সিনেমা হলও আর নির্মাণ হয়নি।

ঢাকা : এরপর একে একে ঢাকার রূপমহল, তাজমহল, বিউটি, মুন, মল্লিকা, জ্যোতি, লায়ন, শাবিস্তান, গ্যারিসন, পর্বত, সাগরিকা, মেঘনা, যমুনা, ডায়না, আগমন, অতিথি, পূর্ণিমা, রাজমণি ভেঙে ফেলা হয়। ঢাকা জেলা শহরে মোট সিনেমা হল ছিল ৪৪টি। এখন আছে ২৫টি। ঢাকা জেলায় ছিল ১৭টি। এখন আছে ৫টি।

নারায়ণগঞ্জ : এই জেলায় ছিল ৫টি।  এখন আছে ২টি গুলশান ও নিউমেট্রো। এই জেলা শহরে মোট ছিল ৩৪টি এখন আছে ১২টি।

গাজীপুর : এখানে ছিল ১৯টি। এখন আছে চম্পাকলি, বর্ষা, উল্কা, ঝুমুরসহ ৭টি।

মুন্সীগঞ্জ : এখানে ছিল ১৬টি। এখন আছে পান্না, স্বপ্নপুরী, শীতলসহ ৪টি।

মানিকগঞ্জ : এখানে ছিল ১৭টি। আছে মাত্র ১টি ‘নবীণ সিনেমা’।

নরসিংদী : এই   জেলায় এখন আর কোনো সিনেমা হল নেই। জেলা শহরের ২১টি সিনেমা হলের মধ্যে আছে মমতা, ঝংকার, রুনা, ঈশা খাঁ।

ময়মনসিংহ : এখানে ছিল ৪১টি। আছে তিনটি। পূরবী, ছায়াবাণী, সেনা অডিটোরিয়াম। জেলা শহরে আছে মাত্র ১০টি।

কিশোরগঞ্জ : এখানে ছিল ২২টি। এখন জেলা শহরে আছে শুধু একটি ‘মানসী’।

টাঙ্গাইল : এখানে ছিল ৪৭টি। আছে ১০টি। জেলা শহরে ছিল ৫টি। আছে ২টি। কেয়া ও মালঞ্চ।

শেরপুর : এই জেলায় ছিল ১৭টি। আছে ৬টি। জেলা শহরে ছিল ৬টি। আছে ২টি।

জামালপুর :  জেলা শহরে ছিল ৪টি। আছে একটি ‘মনোয়ারা’। জেলায় ছিল ১৪টি। আছে ৩টি।

ফরিদপুর : জেলায় ছিল ৪টি। আছে মাত্র ১টি ‘বনলতা’। পুরো জেলার ১৭টির মধ্যে আছে মাত্র ২টি।

রাজবাড়ী : জেলা শহরে ছিল ২টি। চিত্রা ও বসুন্ধরা। ২টিই বন্ধ। সারা জেলায় ছিল ৮টি। সবই বন্ধ।

গোপালগঞ্জ : এখানে ছিল ৬টি। আছে ১টি ‘চিত্রবাণী’।

শরীয়তপুর : এখানে ৯টি ছিল। সবই বন্ধ।

মাদারীপুর : ২টি ‘ইউনাটেড’ ও ‘ইউনিভার্সেল টকিজ’। অনিয়মিত চলছে। সারা জেলায় ৯টির মধ্যে সবই বন্ধ।

চট্টগ্রাম : জেলায় ছিল ১৯টি। আছে ৪টি-আলমাস, দিনার, সিনেমা প্যালেস, সুগন্ধা। জেলা শহরে ছিল ৩৬টি আছে মাত্র ৪টি। 

কক্সবাজার : এখানে ছিল ৪টি। একটিও নেই এখন।

রাঙামাটি : ৩টি ছিল, সবই বন্ধ।

কাপ্তাই : ৩টি ছিল সবই বন্ধ।

রামগড় : ৫টি ছিল সবই বন্ধ।

খাগড়াছড়ি : ৭টি ছিল সবই বন্ধ।

বান্দরবান : ৩টি ছিল সবই বন্ধ।

কুমিল্লা : জেলা শহরে ছিল ৫টি। আছে মাত্র ১টি ‘রূপালী’। জেলায় ছিল ২৩টি আছে ৩টি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ‘চিত্রালয়’ ও ‘রূপশ্রী’ এই ২টি ছিল। এখন বন্ধ। জেলা শহরে ছিল ১৩টি। আছে ২টি।

চাঁদপুর : জেলা শহরে ছিল ৩টি। এখন আছে ১টি শুধু ‘কোহিনূর’। মোট জেলায় ছিল ১৬টি, আছে ৩টি।

নোয়াখালী : এই জেলা শহরে কোনো সিনেমা হল নেই। চৌমুহনী ও মাইজদীতে ১টি করে আছে। সারা জেলায় ছিল ৯টি। এখন একটিও নেই।

লক্ষ্মীপুর : জেলা শহরের ২টির একটিও নেই। জেলায় ছিল ৯টি, আছে চর আলেকজান্ডারে মাত্র ২টি।

সিলেট : জেলা শহরে ছিল ৮টি।  আছে ১টি ‘নন্দিতা’। সারা জেলায় ছিল ১৪টি। এখন ১টিও নেই।

সুনামগঞ্জ : জেলা শহরে ছিল ৩টি। ১টিও নেই। জেলায় ছিল ৬টি, ১টিও নেই।

মৌলভীবাজার : জেলা শহরে ছিল ৩টি। আছে ১টি ‘কুসুমবাগ’। জেলায় ছিল ১৫টি, আছে ৩টি।

হবিগঞ্জ :  জেলা শহরে আছে মাত্র ১টি ‘মোহন’। জেলায় ছিল ৮টি, আছে ২টি।

ফেনী : জেলা শহরে ছিল ৫টি, আছে ২টি।

খুলনা : জেলা শহরে ছিল ১৪টি, আছে ৫টি। সারা জেলায় ছিল ১৭টি, ১টিও নেই।

বাগেরহাট : জেলা শহরে ছিল ৪টি, ১টিও নেই। জেলায় ছিল ৭টি, ১টিও নেই।

সাতক্ষীরা : জেলা শহরে ছিল ৩টি, আছে ২টি। জেলায় ছিল ১২টি, সব বন্ধ।

যশোর : জেলা শহরে ছিল ৬টি, আছে শুধু ১টি ‘মনিহার’। সারা জেলায় ছিল ১৮টি, আছে এখন ২টি।

ঝিনাইদহ : জেলা শহরে ছিল ৩টি, আছে ১টি। জেলায় ছিল ১০টি। ১টিও নেই।

মাগুরা : জেলায় ছিল ৬টি, আছে ২টি।

নড়াইল : জেলার ৫টিই বন্ধ।

কুষ্টিয়া : জেলা শহরে ছিল ৫টি, আছে ২টি। সারা জেলার ১৫টিই বন্ধ।

চুয়াডাঙ্গা : জেলা শহরে ছিল ২টি, আছে ১টি। সারা জেলার ৯টির সবই বন্ধ।

মেহেরপুর : জেলার ৭টির সবই বন্ধ।

বরিশাল : জেলা শহরের ৫টির মধ্যে আছে শুধু ‘অভিরুচি’। সারা জেলার ১১টির সবই বন্ধ।

ঝালকাঠি : জেলা শহরের ৩টির সবই বন্ধ।

পিরোজপুর : জেলা ও জেলা শহরের ৭টির সবই বন্ধ।

ভোলা : জেলা শহরে আছে ২টি আর জেলার ১০টির মধ্যে আছে ২টি।

রাজশাহী : জেলা শহরে ছিল ৬টি ১টিও নেই। জেলায় ছিল ২৫টি আছে ৩টি।

নাটোর : জেলা শহরে ছিল ৫টি, আছে ১টি ‘হাসিনা টকিজ’। সারা জেলার ১৮টির সবই বন্ধ।

নওগাঁ : জেলা শহরে আছে একটি মাত্র ‘তাজ’। জেলায় ছিল ১৬টি, আছে ২টি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ : জেলা শহরে ছিল ৪টি, আছে ১টি। জেলায় ছিল ৯টি, সবই বন্ধ।

রংপুর : জেলা শহরে ছিল ৯টি, আছে ১টি ‘শাপলা’। সারা জেলায় ছিল ২৪টি, আছে ৩টি।

লালমনিরহাট : জেলা শহরে ছিল ২টি, আছে ১টি। সারা জেলার ৫টির সবই বন্ধ।

গাইবান্ধা : জেলা শহরের ৩টির সবই বন্ধ। জেলার ১১টির মধ্যে আছে ৩টি।

কুড়িগ্রাম : জেলা শহরের ৪টির ১টিও নেই। জেলার ১৫টির সবই বন্ধ।

পাবনা : জেলা শহরের ৭টির মধ্যে আছে ১টি ‘রূপকথা’, সারা জেলায় ছিল ৩৩টি, আছে ২টি।

দিনাজপুর : জেলা শহরে ছিল ৬টি, আছে ১টি ‘মডার্ন’। সারা জেলায় ছিল ২২টি, আছে ৩টি।

ঠাকুরগাঁও : জেলা শহরে ছিল ৭টি, আছে ১টি ‘বলাকা’। জেলায় ছিল ২৩টি, আছে ২টি।

পঞ্চগড় : জেলা শহরে ছিল ২টি সবই বন্ধ। সারা জেলায় ছিল ১১টি সবই বন্ধ।

বগুড়া : জেলা শহরে ছিল ১০টি, আছে ২টি ‘মধুবন’ ও ‘বাম্বী’। সারা জেলায় ছিল ৩৩টি, আছে ৬টি।

জয়পুরহাট : জেলা শহরে ছিল ৬টি। আছে একটি ‘পৃথিবী’। সারা জেলায় ছিল ১৩টি, আছে ২টি।

সিরাজগঞ্জ : জেলা শহরে ছিল ৭টি, ২টি খোলা থাকলেও চলে না। সারা জেলায় ছিল ৩৩টি, আছে ৩টি।

নীলফামারী : জেলা শহরের ২টির ১টিও আর নেই। সারা জেলার ১৩টির মধ্যে আছে মাত্র ২টি।

বরগুনা : এখানে ছিল একটি ‘শ্যামলী’ তাও নেই।

পটুয়াখালী : জেলা শহরে ছিল ৪টি, আছে ২টি। সারা জেলার ৫টির সবই বন্ধ।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর