শিরোনাম
প্রকাশ : ৭ জুলাই, ২০২১ ১৫:৩১
আপডেট : ৭ জুলাই, ২০২১ ১৫:৩৩
প্রিন্ট করুন printer

সৃষ্টিকর্তা আমার বেঁচে থাকার কারণটা কেড়ে নিল : সায়রা বানু

অনলাইন ডেস্ক

সৃষ্টিকর্তা আমার বেঁচে থাকার কারণটা কেড়ে নিল : সায়রা বানু
Google News

‘সৃষ্টিকর্তা আমার বেঁচে থাকার কারণটাই কেড়ে নিল… সাহেবকে ছাড়া তো আমার জীবন অর্থহীন, আমি কিছু ভাবতেই পারছি না… দয়া করে সকলে প্রার্থনা করুন’, চিকিৎসদের কাছ থেকে দিলীপ কুমারের (৯৮) মৃত্যুসংবাদ শোনার পর এটাই ছিল স্ত্রী সায়রা বানুর প্রথম প্রতিক্রিয়া। ডা. জালিল পারেকর প্রথম এই দুঃসংবাদ জানান দিলীপ জায়াকে। ‘ভগবান আমার বেঁচে থাকার কারণটাই কেড়ে নিল…' নিজের মনে মনে এই লাইনই বারবার উচ্চারণ করে চলেছিলেন দিলীপ-জায়া।

১৯৬৬ সালে ২২ বছরের ছোট সায়রা বানুকে বিয়ে করেছিলেন দিলীপ কুমার। দেখতে দেখতে তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক ৫৪ বছর অতিক্রম করেছে। দীর্ঘ পাঁচ দশকের সঙ্গীকে একা রেখে না-ফেরার দেশে চলে গেলেন দিলীপ কুমার, এই দম্পতির কোনও সন্তান নেই। পরস্পরকে আগলে রাখতেন দুজনে, সম্পর্কে চড়াই উতরাই এসেছে ঠিকই- সব বাধা বিপত্তি পেরিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দিলীপ কুমারকে আগলে রেখেছিলেন সায়রা বানু। স্বামীর মৃত্যুতে স্বভাবতই শোকস্তব্ধ সায়রা। দু-দিন আগেই সাংবাদিকদের উদ্দেশে হাত নেড়ে সায়রা বানু জানিয়েছিলেন ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন অভিনেতা, শীঘ্রই বাড়ি ফিরে যাবেন। কে জানত হিন্দুজা হাসপাতালের বাইরে দাঁড় করানো মেরুণ রঙা গাড়িটা করে আর বাড়ি ফেরা হবে না দিলীপ কুমারের। 

ঝুক গয়া আসমান’ ছবির সেটে সায়রা বানুকে প্রোপোজ করেন দিলীপ কুমার। তার আগে থেকেই সায়রা পাগল ছিলেন দিলীপ কুমারের প্রেমে। তাই তৎক্ষণাৎ 'হ্যাঁ' করে দিয়েছিলেন। সায়রা বানুর সঙ্গে বিয়ের ১৬ বছর সংসার করার পর তাকে ত্যাগ করে দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন দিলীপ কুমার। আসমা রেহমানকে বিয়ে (১৯৮১) করা যে ভুল ছিল তা পরবর্তী সময়ে নিজেই স্বীকার করে নেন, ফিরে গিয়েছিলেন প্রথম স্ত্রীর কাছে। 

দিলীপ কুমারকে শেষ বয়সে যেভাবে সেবা-যত্ন করেছেন সায়রা বানু, তার প্রশংসা করে সকলেই। কিন্তু সায়রা বানুর কথায়, দায়িত্ব ভেবে নয় দিলীপ কুমারকে ভালোবাসেন বলেই এভাবেই আগলে রেখেছেন। অবশেষে ছিন্ন হল দিলীপ-সায়রার ভালোবাসার বাঁধন, আজীবনের মতো সায়রা বানুকে একে রেখে চলে গেলেন দিলীপ কুমার। 

 

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা

এই বিভাগের আরও খবর