Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ৫ জুলাই, ২০১৯ ২০:০৯
আপডেট : ৫ জুলাই, ২০১৯ ২০:৫৪

‘ইভটিজাররা নাটকের নায়ক হলে নয়ন বন্ডরাই তৈরি হবে’

রওনক হাসান

‘ইভটিজাররা নাটকের নায়ক হলে নয়ন বন্ডরাই তৈরি হবে’
রওনক হাসান ও তার কাছে পাঠানো দর্শকের ইনবক্স ম্যাসেজ
একজন দর্শক ইনবক্সে আমাকে লিখেছেন। আমি তেমন কিছু বলতে পারিনি। শুধু বলেছি আমিও এমনটাই ভাবি। টেলিভিশন নাটকে যখন থেকে রাস্তার ছেলেরা, ইভটিজাররা নায়ক হতে শুরু করলো (ব্যক্তি অভিনেতা নয়, চরিত্র হিসেবে নায়ক) তখন থেকেই সমাজে ইভটিজিং বাড়তে থাকলো, একটা সময় পর্যন্ত আমরা দেখতাম নাটক সিনেমায় খারাপ ছেলেরা প্রেমের টানে, পরিবারের টানে আবার সুপথে ফিরে আসতো। কিন্তু এখন আর সেটা হয় না, ইভটিজিং করার পরও সুন্দরী নায়িকা যখন ইভটিজার নায়কের প্রেমে পড়ছে তখন সমাজে নয়ন বন্ডরাই তৈরি হবে। কদিন আগেই একটি নাটকে অভিনয় করছিলাম, তো একটি দৃশ্যে ডাবল মিনিং সংলাপ থাকায় আমি নাট্যকারকে জিজ্ঞেস করলাম এই সংলাপের অর্থ কি? সে লজ্জা পেতে থাকলো, আমি বললাম যেটার অর্থ তুমিই দিতে লজ্জা পাচ্ছো সেটা তুমি আমাকে দিয়ে উচ্চারণ করাতে চাচ্ছো কেন? সে বললো না থাক ভাইয়া আপনি এটা বইলেন না। এমন অনেক নাটকেই অনেকেই আমাকে গালাগাল, অশ্লীল বাক্য, বিশেষ ইঙ্গিতপূর্ণ সংলাপ দিতে বলেছিলো আমি দেইনি। তাই হয়তো ভাইরাল হইনি। আমি তাতে মোটেই দুঃখিত নই। আমার মনে হয় আজ থেকে বেশ কয়েক বছর পর যখন বাংলা নাটকের ইতিহাস লেখা হবে তখন এই সময়টা অন্ধকার সময় হিসেবেই বিবেচিত হবে। আমি সবসময় সিরিয়াস ধর্মী কাজই বেশি পছন্দ করি। এটাই করতে চেয়েছি। তাই বলে কমেডি যে করিনি বা করিনা তাও নয়। আমার প্রায় সকল কমেডি নাটকই বিপুল জনপ্রিয়। ‘চৈতা পাগল’ থেকে শুরু করে ‘হালের দাদার দেশের জামাই’ ‘নোয়াশাল’ পর্যন্ত। গত ঈদেও আমার অভিনীত একক এবং ঈদ ধারাবাহিক নাটক জানলাম টিআরপি রেটিংয়ে এক নম্বর। যদিও টিআরপি নিয়ে আমি কখনোই মাথা ঘামায়নি। আমার অভিনীত সব নাটকই যে সেই রকম বা ভালো তাও নয়। মোটামুটি বা চলে বা খারাপ এমন নাটকই বেশি। পেশাদার অভিনেতা হিসেবে আমি অনেক নাটকই করতে বাধ্য হয়েছি কিন্তু সেগুলো সমাজে বাজে প্রভাব কখনোই ফেলেনি। অনেকেই বলতে পারেন গালাগাল, ডাবল মিনিং বা অশ্লীল সংলাপ এগুলোতো রিয়েলিটি। নাটকে, ফিকশনে রিয়েলিটিই থাকবে। তাদের বলি, না । নাটক বা ফিকশন রিয়েলিটি নয়, ফিকশন মোর দ্যান রিয়েলিটি। আর বিশেষ করে যখন এটা টেলিভিশন মিডিয়াম। তখন আপনাকে পরিবারের কথা ভাবতেই হবে। যদি কোনো কাজ সিনেমা অথবা শুধু অনলাইন প্লাটফর্ম এর জন্য হয় তবে হয়তো সেটা মেনে নেয়া যায়। কিন্তু টেলিভিশনে নয়। খেয়াল করে দেখবেন এইচবিও বা স্টার মুভিজ এ যখন কোনো সিনেমায় অশ্লীল সংলাপ থাকে তখন সেই জায়গাটা হয় মিউট থাকে নয়তো টুট দিয়ে দেয়া হয়। সঙ্গম ও চুম্বনের দৃশ্য কেটে দেয়া হয়। কারণ যখন এটা ড্রইংরুম মিডিয়াম তখন এটা মানতেই হবে। কবে থেকে এইসবকিছু ভেঙে গেল আমরা টের পেলাম না। বাঘা বাঘা টেলিভিশন চ্যানেল এর বাঘা বাঘা অনুষ্ঠান প্রধান ও বিভাগ কবে থেকে প্রিভিউ করা ভুলে গেলেন আমরা বুঝলাম না। কাদের ইশারায় কাদের ইঙ্গিতে এই আমূল পরিবর্তন আমরা ঠাহর করতে পারলাম না। যাত্রা সেই কবেই শেষ হয়ে গেছে। তারপর গেলো চলচ্চিত্র। এখন নাটকের পালা। যদি বলি নাটকের অন্ধকার সময় তবে তার দায় থেকে আপনি আমি কেউই নিজেকে এড়াতে পারবো না। সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবার আগে আসুন সকলে মিলে প্রতিহত করি। এই সময়ে এসেও যখন দেখি ‘জলপুত্র’র মতো নাটক জনপ্রিয় হয় রাতারগুল, দ্বন্দ্ব সমাস, মায়াবতী, বিরহ উত্তর, বিসর্গ, অনুগমন, কাছের মানুষ, মামুলী একটা মানুষ, ইট কাঠের খাঁচা, মা জননী, ভোরের প্রসূতি, অসংলগ্ন। এই নাটকগুলোর কথা এখনো মানুষ যখন আমাকে বলে, তখন মনে হয় আশা আছে। এখনো চাইলে আমরা আমাদের নাটককে বাঁচাতে পারি। টেলিভিশন নাটকের জয় হোক।
 
লেখক : নাট্যাভিনেতা
 
(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)
 
বিডি-প্রতিদিন/শফিক

আপনার মন্তব্য