Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ৪ নভেম্বর, ২০১৯ ২১:১২
আপডেট : ৪ নভেম্বর, ২০১৯ ২১:২৮

সাদেক হোসেন খোকাকে যতটা তটস্থ রেখেছি, তা কি এখন পারতাম?

সুলতানা রহমান

সাদেক হোসেন খোকাকে যতটা তটস্থ রেখেছি, তা কি এখন পারতাম?
সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে সুলতানা রহমান

মাস খানেক আগে খোকা ভাইয়ের সঙ্গে সবশেষ দেখা। ক্যান্সারের কারণে মলিন হয়ে আসা তার চেহারায় সেদিন সতেজতা দেখে উচ্ছসিত হয়ে বলেছিলাম, ‘আপনার আর কোনো অসুখ বিসুখ নেই। দিব্যি সুস্থ হয়ে গেছেন খোকা ভাই।’ তিনিও স্বভাবসুলভ মুচকি হেসে নিজের মুখে হাত বুলিয়ে বলেছিলেন, সত্যি বলতেছো? ‘জ্বি খোকা ভাই, একদম ঠিক।

এর আগে নিউ ইয়র্কে যে কবার দেখেছি, আপনাকে দেখে মন খারাপ হয়ে যেতো, অচেনা লাগতো। এইবার একদম আগের মতো লাগছে-আগের মতোই জাঁদরেল। কিন্ত মাস খানেকের মধ্যেই তিনি চলে যাবেন সে ভাবনা আসেনি একবারের জন্যও। 

ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পর বছর তিনেক আগে নিউইয়র্কে তাকে দেখে আমি চমকে গেছিলাম, প্রতাপশালী একজন মানুষ কতটা গুটিয়ে যেতে পারেন, সার্বক্ষণিক জনমানুষ পরিবেষ্ঠিত একজন কতটা নির্জনে থাকতে পারেন খোকা ভাই তার প্রমাণ। 

আমার সঙ্গে দেখা হলেই বলতেন, তোমার বিয়েতে গেছিলাম। আমি আরেক ধাপ এগিয়ে বলতাম- ‘শ্বশুর বাড়ির লোকদের মশার কামড় থেকে বাঁচাতে দু'একবার বাসার আশপাশে মশা মারার ওষুধও দিতে হয়েছে।’ খোকা ভাই হাসতেন! 

মাত্র ১০/১৫ বছর আগেও বাংলাদেশের রাজনীতি এতোটা অসহনশীল ছিলো না, এখন যতটা বোধ করি। ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং পেশাদারিত্ব দুটোই সমানে সমান চলতে পারতো। এক যাত্রাবাড়ি ফ্লাইওভারের অনিয়ম সংক্রান্ত যে পরিমাণ রিপোর্ট আমি করেছি কিংবা হাতির ঝিল প্রকল্পটিকে পরিবেশ বান্ধব রাখতে ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকাকে যতটা তটস্থ রেখেছি, তা কি এখন পারতাম? পারলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কটি কি থাকতো? কিংবা এখন যত উন্নয়ন প্রকল্প হচ্ছে তাতে অনিয়মের খবর সাংবাদিকরা কতটা তুলে ধরতে পারছেন? খোকা ভাইর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে প্রশ্নগুলো মাথায় ঘুরছে। 

জামায়াত ঘেষা বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে খোকা ভাইয়ের রাজনৈতিক দর্শনে ভিন্নতা ছিলো। মান্নান ভূইয়া, সাদেক হোসেন খোকা যে ধারায় বিএনপি’র রাজনীতি পরিচালিত করতে চেয়েছিলেন, দলটির হাইকমান্ড সে ধারায় অগ্রসর না হওয়ায় তার মাসুল গুনছে বিএনপি। একজন বীর মুক্তিযাদ্ধা হয়েও খোকা ভাইকে থাকতে হয়েছে পরবাসে। সে শুধুই ভিন্ন মতের জন্য নয়, কিংবা মামলা হামলার ভয়ে নয়, নয় শারীরিক অসুস্থতা। সাদেক হোসেন খোকা সাহসী মানুষ ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় গুলিতে তার হাতের একটি আঙ্গুল উড়ে গিয়েছিলো, সেই অবস্থায়ও তিনি যুদ্ধ চালিয়ে গেছেন। দুর্ধর্ষ ক্রাকপ্লাটুনের সদস্য সাদেক হোসেন খোকা জেষ্ঠ রাজনীতিবিদ হিসেবেও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন বহুবার। কিন্ত অভিজ্ঞ নেতাদের যখন মতামতের কদর থাকেনা দলের ভেতর, তখন পরবাসই শ্রেয়। আর এখন সব মান অভিমান, নির্জনতা কিংবা পারাপারের সব আয়োজনের উর্ধে একজন সাদেক হোসেন খোকা, তিনি কেবল ইতিহাসের একটি অংশ। খোকা ভাইয়ের জন্য অনেক শ্রদ্ধা আর ভালবাসা।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য