শিরোনাম
প্রকাশ : ৫ জুলাই, ২০২০ ১০:৩৫
আপডেট : ৫ জুলাই, ২০২০ ১০:৫৭

আমরা চোরাকারবারি: স্বর্ণজয়ী শুটার রত্না

অনলাইন ডেস্ক

আমরা চোরাকারবারি: স্বর্ণজয়ী শুটার রত্না

দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে স্বর্ণজয়ী শুটার শারমিন আক্তার রত্না ফেসবুকে বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশনের শীর্ষ দুই কর্মকর্তার দ্বন্দ্বের অভিযোগ এনেছেন। সম্প্রতি ১৪ জন শুটার, বিদেশে কে কোথায় খেলতে গেছেন এ ব্যাপারে জানতে ফেডারেশনকে চিঠি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সেই শুটারদের পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ঠিকানাও জানতে চাওয়া হয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বরাবর একটি উড়ো চিঠি যায়। যেখানে অভিযোগ করা হয়, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে বাংলাদেশ শুটার দল দেশে ফেরার সময় প্রায় ২০টি রাইফেল ও পিস্তল শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দেশে এনে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করে। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘বেআইনি চোরাচালানের’ সাথে ফেডারেশনের কিছু কর্তাও জড়িত। দেশের আট শুটারের নামও উল্লেখ করা হয় সেই চিঠিতে, বলা হয় তাদের কাছে অস্ত্রগুলো আছে। এর প্রেক্ষিতেই রাজস্ব বোর্ড থেকে এই চিঠি আসতে পারে বলে মনে করছেন শুটিং সংশ্লিষ্টরা। শনিবার এরই প্রেক্ষিতে ফেসবুকে রত্না লিখেছেন:

অতীতে বহুবারের ন্যায় ২০১১ সালেও আমরা রাইফেল এনেছিলাম জার্মানি থেকে! তখন একটি চক্র দুদকের কাছে বিচার দিয়েছিল! সেই একই চক্র এবারো দুদকে বেনামি চিঠি পাঠিয়ে শ্যুটারদের চোরাকারবারি আখ্যা দিয়েছে! তখন শ্যুটার বান্ধব ফেডারেশন ছিল, শ্যুটারদেরকে নিয়ে ভাববার মতো প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি ছিলেন যার কারণে ও-ই চক্রের হাজার কুপ্রচেষ্টার পরও শ্যুটারদের দুদকের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়নি।

আফসোস, ফেডারেশনের শীর্ষ দুই কর্মকর্তার দ্বন্দ্বে আজ শ্যুটাররা এনবিআরের চিঠি পেয়েছে, অচিরেই হয়তো জেরার মুখোমুখি হতে হবে! সামর্থবান ক্লাবের শ্যুটার ব্যতীত যেখানে প্রায় সকল শ্যুটার বাপের গাটির টাকা খরচ করে শ্যুটিং করে, দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনে কোন প্রত্যাশা ছাড়াই, আজ তারা দুর্নীতিবাজ! সরকারি চাকুরে বড় কর্তারা সরকারি টাকায় আয়েসি জীবনযাপন করেও দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকার মালিক, তাদের কত সম্মান!

আর দেশের জন্য বিনা স্বার্থে আমরা যারা নিজেদের টাকায় কেনাই হোক বা কারও দেওয়া উপহারেই পাওয়া রাইফেল দিয়ে বিনা কোন প্রতিশ্রুতিতে, বিনা কোন প্রাপ্তির আশায় দেশের জন্য যতটুকুই অর্জন করেছি, আজ তাদেরকে, সেই রাইফেলের জন্য দুদকের জিজ্ঞাসার সম্মুখীন হতে হচ্ছে!

এই লেখার কোন মানে নেই জানি। আমার শ্যুটার বন্ধুরা, ভাইবোনেরা এই লেখা পড়ে হয়তো একটা দুইটা লাইক কমেন্ট করে আস্তে করে পাশ কাটিয়ে চলে যাবে, কেউ হয়তো পড়েও কিছু না বলে চলে যাবে ভয়ে। তারপরও আমার নিজের মনের কষ্ট কিছুটা কমানোর জন্যই এখানে এই লেখা!
কেউ না বলুক, প্রত্যেক শ্যুটারের মনের কথাগুলো না হয় আমিই লিখে দিলাম!

#আমরা চোরাকারবারি

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর