শিরোনাম
প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর, ২০২০ ২২:৫১
আপডেট : ২৮ অক্টোবর, ২০২০ ২৩:৩০

মনে আছে সবার সেদিনের কথা?

অনলাইন ডেস্ক

মনে আছে সবার সেদিনের কথা?
ফাইল ছবি

আজ ২৮ অক্টোবর। ২০০৬ সালের আজকের এই দিনে রাজনৈতিক তাণ্ডব চালায় জামায়াত-শিবির। ওই সময়ে যখন সারাদেশ আন্দোলনে উত্তাল, তখন তারা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে তাণ্ডব চালিয়ে উল্টো মামলায় জড়ায় দেশরত্ন শেখ হাসিনাসহ  কেন্দ্রীয় নেতাদের। অনেকেই সেদিনের সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করছেন ফেসবুকে। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকও সেদিনের কিছু ঘটনা তুলে ধরেছেন। লেখাটি হুবহু তুলে ধরা হলো :

মনে আছে সবার সেদিনের কথা...? আজ ২৮শে অক্টোবর। ২০০৬ সালের এই দিনে বিএনপি-জামায়াতের অত্যাচার, অনাচার, নিপীড়ন, হত্যা, গুম, খুন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যখন সারা বাংলাদেশ আন্দোলনে উত্তাল। সেই মুহূর্তে সরকারি ছত্রছায়ায় একাত্তরের স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবির সশস্ত্র অবস্থায় মিছিল করে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করে। তারা সারা বাংলাদেশকে জানান দিতে চেয়েছিল আওয়ামী লীগ কখনোই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা লক্ষ লক্ষ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে হতাশার সাগরে নিমজ্জিত করতে চেয়েছিল। 

কিন্তু সেই সময়ে আমরা অনেকেই ছিলাম রাজপথে। সময়ের সাথে সাথে সেই সময়ের অনেকেই হারিয়ে গেছে। সেদিন আমাদের লড়াইটা ছিল সম্মিলিত। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ ও কৃষক লীগ সবাই কাঁধে কাঁধ রেখে জয় বাংলার স্লোগান দিয়ে সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছি নিরন্তর। শুধু মনে হয়েছিল এই লড়াইয়ে জিততে হবে। ঐদিনের ঘটনায় কয়েকটি মামলা হয়েছিল।

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেন পল্টন থানা জামায়াতের তৎকালীন আমির এ টি এম সিরাজুল হক। মামলায় আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল, তোফায়েল আহমেদ, মো. নাসিম, আব্দুর রাজ্জাক, জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, আওয়ামী যুবলীগের তৎকালীন চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম এমপিসহ ৪০ জন এজাহার নামীয় আসামি এবং সহস্রাধিক জনকে আসামি করা হয়।

আহত আরেক জন মারা যাওয়ার পরে ২০০৬ সালের ৩ নভেম্বর আরো একটি সম্পূরক এজাহার দাখিল করা হয়। এই এজাহারে আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা ও যুবলীগের তৎকালীন সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ ২৩ জন এজাহারে নাম দিয়ে দুই শতাধিক লোককে আসামি করা হয়। ঐ দিনের ঘটনা মামলায় সর্বশেষ ২০০৭ সালের ১০ এপ্রিল  প্রাণপ্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনকে অভিযুক্ত করে এ মামলায় আদালতে চার্জশিট দেয়া হয়। চার্জশিট নম্বর ১৪৪। ধারা ১৪৩/১৪৮/১৪৯/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩০২/১০৯/১১৪ দণ্ডবিধির। 

যাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয় তারা হলেন দেশরত্ন শেখ হাসিনা, আবদুল জলিল, মোহাম্মদ নাসিম, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী যুবলীগের তৎকালীন চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম, সাহারা খাতুন, হাজী সেলিম, ডা. এইচ বি এম ইকবাল, আবদুস সালাম ওরফে সেলিম, সবুজ, আলী, মনা, রতন, আবুল, বাবু ওরফে নাজির আহম্মদ, জাকির ওরফে জাকির হোসেন, শফিকুল ইসলাম, সালাউদ্দিন খোকন, সুলতান মিয়া, আবুল কাশেম, আলমগীর ওরফে গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর, নওসের আলী, আবদুল লতিফ ওরফে ক্ষ্যাপা, মো. জাকির হোসেন, শাহরিয়ার ওরফে সোহেল শাহরিয়ার, শাহাবুদ্দিন কিরণ, জাহাঙ্গীর হায়দার চৌধুরী, আশরাফ হোসেন, ওমর ফারুক, সিদ্দিক নাজমুল আলম, জোবায়দুল হক রাসেল, মজিবুর রহমান মাইজ্জা, বেলায়েত হোসেন, আবু সাঈদ, বশির আহম্মদ, কিরণ ওরফে আবদুল মালেক, শাহরিয়ার, জাহাঙ্গীর আলম, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, মোস্তাকিম বিল্লাহ, মুকুল, রায় মোহন শীল ও সুমন। সূত্র : জাতীয় দৈনিক পত্রিকা।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর