শিরোনাম
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০৪:২০
আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১০:৫৫
প্রিন্ট করুন printer

ভাষা নিয়ে আবেগের পাশাপাশি সত্যিকেও জেনে রাখা জরুরি

সৌরদীপ চট্টাপাধ্যায়

ভাষা নিয়ে আবেগের পাশাপাশি সত্যিকেও জেনে রাখা জরুরি
সৌরদীপ চট্টাপাধ্যায়

আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। সারা পৃথিবীর সমস্ত মাতৃভাষার দিন আজ-ঊনসত্তর বছর আগে যার পথ দেখিয়েছিল একদল বাঙালি ছাত্র। ভাষা বড় বিচিত্র এক বস্তু, বিচিত্র তার ইতিহাস। বোধ হয় তার থেকেও বিচিত্র হল-তাকে নিয়ে ঝগড়া করা। মজার কথা হল, এই ঝগড়া করতে গেলেই প্রায়ই সেমসাইড গোল হয়ে যায়। অথচ আমরা খেলাটা এতই কম বুঝি যে, ওতেই ধেই ধেই করে নাচতে থাকি, বুঝিও না যে বল কোন পোস্টে ঢুকল। চলুন সেরকমই কিছু গল্প হোক একটু।

আজ থেকে এক হাজার বছর আগে হিন্দুকুশ পেরিয়ে ভারতে অভিযান চালিয়েছিলেন মুহম্মদ ঘুরী, তার পাঁচশো বছর পরে বাবর। আজ একশ্রেণির বাঙালি রোজ ভয়ে দিন গুনছেন, এই বুঝি সেইরকম কোনও সৈন্য ইছামতী পেরিয়ে বনগাঁর দিকে ধেয়ে আসে। তারা সেই যুদ্ধের বিরুদ্ধে চোলায় চোলায় জয়ের ভেরি বাজাতে চান। ফলে বাংলায় কেন আরবি শব্দ থাকবে, কেন ফারসি থাকবে, ‘পানি’ বলা হবে, কেন ‘গোসল’ শব্দটি থাকবে-সেসব নিয়ে ঘোর আপত্তি তুলছেন। খুবই সঙ্গত দাবি। তবে তাহলে বোধ হয় তাদের উচিত, আইনকানুনের জন্য উকিলের কাছে না যাওয়া, মহকুমা কোনটা সেটাও না দেখা, অন্যকে হাজতবাসের ভয় না দেখানো বা কলকাতার বাইরে কোনও জেলার বাসিন্দা হলে সেটাও না বলা। কেননা-‘আইন’, ‘কানুন’, ‘উকিল’, ‘মহকুমা’, ‘হাজত’, ‘জেলা’ (দিলা) ইত্যাদি সবই আসলে আরবি শব্দ। আপনি ইংরেজিতে পেন না বলে বাংলায় কলম বলুন, সে কলমও আসলে আরবি। কাউকে বিদায় দিতে চাইবেন, সেই ‘বিদায়’-ও আরবি। আমার কথা নয়, স্বয়ং সুকুমার সেন ‘ভাষার ইতিহাস’ বইতে এসব লিখে গেছেন। চাইলে কোনও অভিধান খুলেও শব্দমূল দেখে নিতে পারেন।

শুধু কি তাই? আপনি যে শব্দের আগে বসান ‘আম-আদমি’, ‘আমজনতা’, ‘খাসজমি’, ‘খাসমহল’-সেই আম বা খাস সবই আরবির দেওয়া। গরম লাগলে যে একটু হাওয়াবাতাস গায়ে লাগাবেন তারও উপায় নেই। ‘হাওয়া’ আরবি; ‘বাতাস’ ফারসি। এদিকে আপনি যদি সংস্কৃত শব্দটা ধরে বলেন, একটু ‘বায়ু’ খেতে যাচ্ছি; পাবলিক অন্যকিছু ধরে নেবে। বায়ুত্যাগ বললে আরও জ্বালা, লোকে গ্যাস ছাড়া ধরে নিয়ে নাকে রুমাল দিতে পারে। সেই যে রবীন্দ্রনাথের উপেন বলেছিল, ‘শুধু বিঘে দুই, ছিল মোর ভুঁই...’, ব্যাস, তারপর আর কেউই ভুঁই (তদ্ভব) কেনে না, সবাই ‘জমি’ (ফারসি) কেনে। তা, জমি থাকলে একটা বাগানবাড়িও তুলে ফেলতে পারেন। ওহো, আবার গোলমাল হল-‘বাগান’ তো তুর্কি। আপনাকে ‘উদ্যানবাটী’ বানাতে হয় তাহলে। দেখবেন, বানান ভুল করবেন না যেন! অবশ্য বাগানবাড়ি তুলতে খুবই খরচ। এই ‘খরচ’ আবার ফারসি। খরচ বেশি না করাই ভাল যদিও। অমুক ডেটে অমুক খরচা বলে অনেকে হিসাব করে। অবশ্য ডেট আবার কী, আজ মাতৃভাষা দিবস, বলুন, তারিখ। কিন্তু এও এক জ্বালা... ‘তারিখ’ আবার আরবি। দোকানে জিনিসপত্র দর করবেন, সেই ‘দর’-ও তাই, আরবি। ‘দোকান’-ফারসি। কী জ্বালা বলুন দিকি!

সবচেয়ে বড় কথা, এই যে ‘পানি’-র বিরুদ্ধে জিহাদ করছেন...সরি, যুদ্ধ করছেন, সে পানি আদপেই আরবি নয়, তা সংস্কৃত ‘পানীয়’ থেকেই এসেছে। 

এমনকি আরবি-ফারসি ঠেকাতে এই বোদ্ধা এবং যোদ্ধারা যার হাত ধরছেন, সেই হিন্দিতেই কি সমস্যা কম? কম তো নয়, বরং বেশি-বাংলার চেয়ে হিন্দির অনেক বেশি শব্দ আরবি-ফারসি থেকে নেওয়া। বেশিদূর যেতে হবে না, এই যে গান করেন, ‘অগর’ তুম মিল যাও, এই ‘অগর’ (যদি) এসেছে ফারসি থেকে। অমিতাভের ব্লগবাস্টার সিনেমা দিওয়ার-শব্দটা আসলে ফারসি। ‘শহর’ ফারসি, ‘নগর’ সংস্কৃত। ‘হাম আভি জিন্দা হ্যায়’-সেই ‘জিন্দা’ ফারসি, ‘কুদরত’ আরবি, ‘দুনিয়া’-বাংলা হিন্দি উভয়েই আছে-আরবি। ‘গুজরনা’ ফারসি, ‘বাবু কো কুর্সি দো’-এই কুর্সি আরবি। ‘ওয়াক্ত’ (সময়)-আরবি, ‘তকরীবন’ (ওই মোটের ওপর), ‘মুশকিল’, ‘খবর’, ‘অখবর’ (বহুবচন), ‘মহব্বত’, ‘বিলকুল’, ‘আখির’, ‘আজিজ’, ‘ফিলহাল’ (বর্তমানে), ‘মওত’ (মৃত্যু), ‘সহি’, ‘ইজাজত’ (অনুমতি)-এসবই হল আরবি থেকে আসা। বল মা তারা, দাঁড়াই কোথা—!

আমাদের দেশে ঝালে-ঝোলে, অম্বলে, ডায়োভলে, প্যানফর্টিতে ধর্ম গুঁজে দেওয়ার রীতি আছে। ফলে এইভাবেই ভাষার সঙ্গেও ধর্মকে ভিড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। হিন্দি হিন্দুর ভাষা, উর্দু মুসলমানের ভাষা, বাঙালি না মুসলমান-ইত্যাদি অনেক কিছুই চলে। এ’ অবশ্য আজকের নয়, বহুদিনের। ১৮৭৭ সালে ভরতেন্দু হরিশচন্দ্র-যাকে বলা হয় আধুনিক হিন্দি ভাষার জনক-তিনি একে প্রায় গণ-অভ্যুত্থানের রূপ দিয়েছিলেন। তার আগে অবধি উত্তরপদেশে-তৎকালীন যুক্তপ্রদেশে উর্দুই ছিল সরকারি ভাষা, দপ্তরের ভাষা। পরে ব্রিটিশের আগমনে ইংরেজি এসেছিল সঙ্গে। অথচ মজার কথা, হিন্দি বা উর্দু আসলে একই ভাষার দুই সন্তান, যাকে বলে হিন্দুস্তানি। এই হিন্দুস্তানি বা হিন্দভি ভাষাই ছিল যুক্তপ্রদেশ থেকে রাজপুতানার এক বিরাট অংশের ভাষা। আঠারো শতকের আগে সম্ভবত ‘উর্দু’ বলে কোনও শব্দের অস্তিত্বই ছিল না। উর্দু আরবের ভাষা নয়, পারস্যের ভাষা নয়, এমনকি আফগানিস্তানের ভাষাও নয়। উর্দুর জন্ম এদেশে, এই ভারতবর্ষেই। তাও একেবারে ভারতের মধ্যভাগে, গাঙ্গেয় সমভূমিতে। বাংলা, ওড়িয়া, তামিল, অসমীয়ার মত উর্দুও একটি খাঁটি ভারতীয় ভাষা।

উর্দু সম্পর্কে এও বলা হয়-উর্দু নাকি ‘লস্করি জবান’-অর্থাৎ সৈনিকের ভাষা। কারণ অনেকে মনে করেন, উর্দুর জন্ম হয় মুঘল সৈন্যবাহিনীতে। এ মতও আজ আর চলে না। উর্দু বলে যা আমরা চিনি, সেই হিন্দুস্তানির জন্ম ভারতীয় অপভ্রংশ অবহটঠ থেকেই। মুঘলযুগের আগেও এর অস্তিত্ব ছিল, স্বয়ং আমির খসরুও এই ভাষাতেই কাব্যচর্চা করেছেন। 

হিন্দিকে আজ মানা হয় হিন্দুর ভাষা বলে, পবিত্র ভাষা বলে। হিন্দি কীভাবে পবিত্রতা পেল তা অবশ্য জানা নেই। তবু বহু বঙ্গসন্তান আজ পশ্চিমবঙ্গকে আরব-পারস্যের দস্যুদের হাত থেকে বাঁচাতে হিন্দিতে কথা বলার পথ ধরছেন। যদিও এও আজকের কথা নয়। ১৯২৯ সালে বেরিয়েছিল ‘হিন্দি সাহিত্য কা ইতিহাস’, লেখক বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতনামা পণ্ডিত আচার্য রামচন্দ্র শুক্লা। তিনিই অত্যন্ত সুচারুভাবে হিন্দিকে সংস্কৃতের উত্তরসূরি হিসেবে দাঁড় করিয়েছিলেন এবং উর্দুর সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন। মজার কথা, ‘হিন্দি’ শব্দটাই আসলে সংস্কৃত নয়, সম্ভবত বৈদিকও নয়। ‘হিন্দি’ এসেছে ফারসি থেকে, যার অর্থ হিন্দের অধিবাসী। এমনকি ‘হিন্দু’ শব্দটিও তাই-পারস্যের। বেশিদূর যেতে হবে না, এনসিইআরটির সরকারি বইতেই এই তথ্য মিলবে, স্কুলে পড়ানো হয়।

উর্দু নিয়েও সে কি টানাটানি! দেশভাগের পর স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হল, তার অফিশিয়াল ভাষা করা হল উর্দুকে। অথচ পাকিস্তান যে যে অংশ নিয়ে তৈরি, তা হল সিন্ধ-যার ভাষা সিন্ধ্রি, পশ্চিম পাঞ্জাব-যার ভাষা পাঞ্জাবি, বালোচিস্তানের একাংশ-যার ভাষা বালোচ, খাইবার পাখতুনখোয়ার ভাষা পশতো এবং এদিকে পূর্ব বাংলা-যার ভাষা বাংলা। এছাড়া দুইদিকেই রয়েছে প্রচুর ছোটোখাটো ভাষাগোষ্ঠী। আজও গোটা পাকিস্তানের সম্ভবত ১০%-এরও কম লোকের মাতৃভাষা উর্দু। তারপরেও উর্দুই পাকিস্তানের ‘লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা’-ইসলামের প্রতীক। এ এক বিচিত্র প্যারাডক্স! পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা জিন্নাহ নিজেও এর চেয়ে কম বৈচিত্র্যময় ছিলেন না। জিন্নাহ নিজে খিলাফত আন্দোলনেও যোগ দেননি, কোনোদিন দাড়ি রাখেননি, বিবাহ করেছিলেন এক অমুসলিমকে এবং শোনা যায় কোনোদিন নাকি নামাজ অবধি পড়েননি। এককালে ছিলেন কামাল আতাতুর্কের ভক্ত। অথচ সেই তিনিই পরে দ্বিজাতিতত্ত্ব প্রচার করলেন।

আরও একটা কথা কী জানেন? আমাদের দেশের প্রথম ফারসি সংবাদপত্র দিল্লি, হায়দরাবাদ, লাহোর বা আগ্রাতে নয়, প্রকাশিত হয়েছিল এই কলকাতায়। নাম ছিল-‘মীরাট-উল-অখবর’। প্রকাশক কোনও মুঘল বা পাঠান ছিলেন না। তার নাম ছিল রামমোহন রায়। ভাষাবিদ সুকুমার সেন যার সম্পর্কে লিখেছেন, “তিনি সংস্কৃত জানিতেন, ফারসি (এবং আরবিও সম্ভবত) আরও ভাল করিয়া জানিতেন, তিনি ভারতবর্ষের ইংরেজি শিক্ষিতদের অগ্রণী।...” 

আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে তাই ভাষা নিয়ে আবেগের পাশাপাশি কিছু সহজ সত্যিকেও জেনে রাখা জরুরি। নিজের দেশকে নিয়ে গর্বিত হওয়াই যায়, কিন্তু সেই গর্বের কারণগুলো ঠিকমত বেছে নিতে পারলে আরও ভাল হয় আরকি। বেদে সব আছে, পুরাণে সব আছে, মহাভারতে প্লাস্টিক সার্জারি ছিল, দুধে সোনা পাওয়া যায়-এসবের চেয়েও জানা জরুরি সেই সব দিকগুলো, যেদিক দিয়ে সত্যিই “এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে না কো তুমি!” ভারতবর্ষই সম্ভবত পৃথিবীর একমাত্র দেশ, যাতে বাইশটা সরকারি ভাষা আছে। ২০১১ সালের জনগণনায় দেখা গেছে, ভারতে ১৯,৫৬৯-টি মাতৃভাষা আছে! এরকম ভাষার বৈচিত্র পৃথিবীতে ইন্দোনেশিয়া ছাড়া আর দেখা যায় না। তাদের মধ্যে অন্তত পাঁচশোটা ভাষা বিলুপ্তির পথে। আজ এক কেন্দ্রীয় শক্তি দেশে হিন্দিকেই জাতীয় ভাষা করার দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে। অথচ ভারতের কোনও ‘ন্যাশনাল ল্যাঙ্গোয়েজ’ নেই। তাই সর্বত্র সুচারুভাবে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অথচ আমরা ঝগড়া করছি, কেন বাবাকে ‘আব্বা’ বলব। মজার কথা, এই ‘আব্বা’ শব্দটি আরবি ভাষাটার চেয়েই অনেক পুরনো, সম্ভবত প্রায় এক হাজার বছরেরও বেশি। আরও মজার কথা, এই শব্দের উৎস সম্ভবত সেমিটিক, যা থেকে হিব্রু বাইবেলে ঈশ্বর বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছিল। এই যে আমরা খুব মান্যগন্য কাউকে বোঝাতে ‘বাবা’ বলি, সেই বাবা এসেছে ফারসি থেকে, আবার বাংলায় পিতা অর্থে বাবা এসেছে সংস্কৃত ‘বপ্র’ থেকে। ঝগড়া করতে গিয়ে যেন নিজের পায়ের দিকে খেয়াল রাখি, কুড়ুলটা কোথায় পড়ছে।

ওই যে বললাম, ভাষা বড় বিচিত্র। আমরা তাস পেটাই, অথচ জানি না যে ‘হরতন’, ‘রুইতন’ আসলে আর্জেন রবেন, ভ্যান ডার সরের দেশ থেকে এসেছে। বালতি বালতি জলে স্নান করি, করে জামা পরে বোতাম আটকাই, তারপর বাসনে খাওয়াদাওয়া করি, খেয়ে তোয়ালেতে হাত মুছি-এই ‘বালতি’, ‘বোতাম’, ‘বাসন’, ‘তোয়ালে’ ইত্যাদি সবই আসলে এসেছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দেশ থেকে। এমনকি আমরা বাংলায় ডাচদের ‘ওলন্দাজ’ বলি, এই ‘ওলন্দাজ’ শব্দটিও আসলে এসেছে পোর্তুগিজ ‘holandes’ থেকে। বিশ্বাস না হলে গুগল ট্রান্সলেটে দেখে নিন। বরং এই রবিবারের সন্ধ্যেতে একটু চা খেতে খেতেই দেখুন না হয়। চা হল সেই কয়েকটা বস্তুর একটি, পৃথিবীর বেশিরভাগ ভাষাতেই যার প্রতিশব্দ একই। জাপানি, চীনে, কোরিয়ান, হিন্দি, বাংলা, তুর্কি, ইউক্রেনিয়ান, গ্রিক, পর্তুগিজ, গুজরাটি, আরবি, পাঞ্জাবি, উজবেক ও রুশ ভাষায় চায়ের প্রতিশব্দ চা/চায়ে/চায়/চ’! এদিকে ইংরেজি, লাতিন, হিব্রু, কাতালান, বাস্ক, জার্মান, ফরাসি, এস্তোনিয়ান বা মালয় ভাষায় বলে টি/টে।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৫:৫৮
প্রিন্ট করুন printer

সব সড়ক দুর্ঘটনাই দুর্ঘটনা নয়, অনেক সময় পরিকল্পিতও হয়

শবনম ইয়াসমিন বুবলী

সব সড়ক দুর্ঘটনাই দুর্ঘটনা নয়, অনেক সময় পরিকল্পিতও হয়
শবনম ইয়াসমিন বুবলী

সব সড়ক দুর্ঘটনাই দুর্ঘটনা নয়, অনেক সময় পরিকল্পিতও হয় তা গত দুদিন টের পেয়েছি। উপলব্ধি করেছি আমরা যা দেখি বা যা শুনি তার পেছনেও অন্য এক অজানা সত্য থাকে। মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখলাম আর ভাবছিলাম আজকের দিনটি তো আমাকে নিয়ে অন্য রকম সংবাদও হতে পারতো। হয়তো আল্লাহর রহমত, মা-বাবা-ভাই-বোনদের দোআ আর আপনাদের ভালোবাসায় এ যাত্রায় ভালো আছি।

গত চার/পাঁচদিন আমি “চোখ” নামে একটি সিনেমার শুটিং করছিলাম, যথারীতি শুটিং শেষে রাতে বাসায় ফেরার পথে বিপরীত রাস্তা থেকে কোনো হর্ণ না বাজিয়ে, কোনো সিগনাল না দিয়ে আমার গাড়ির সামনে প্রচণ্ড বেগে তেড়ে এসেছে একটি প্রাইভেট কার। যার গ্লাস ছিল ব্ল্যাক পেপার দিয়ে মোড়ানো এবং কোনো নাম্বার প্লেট ছিল না। আমার ড্রাইভার হার্ড ব্রেক না করলে হয়তো অন্য কিছু হতে পারতো। আর আমি নিজেও ড্রাইভিং জানি তাই কোনটি দুর্ঘটনা আর কোনটি ইচ্ছাকৃত তা বোঝার ক্ষমতা নিশ্চই একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের মত আমারও আছে।

প্রথম দিন সব বুঝতে পেরেও মনকে স্বান্ত্বনা দিয়েছিলাম। হয়তো বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ি এতো জোরে আসার কারণে কন্ট্রোল রাখতে পারেনি কিন্তু একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে তো সেটি আর বুঝতে বাকি থাকে না যে এটি উদ্দেশ্যমূলক ভাবেই করানো হচ্ছে। 

অনেক দিন ধরেই আমি নানান ভাবে নানান কিছু বুঝতে পারছি, শুনতে পারছি। কিন্তু যারাই এসব ন্যাক্কারজনক অপরাধের সাথে জড়িত থাকবেন তারাও নিশ্চই বার বার সুযোগের অপেক্ষায় থাকবেন। কিন্তু মনে রাখবেন কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন, আর আল্লাহ তো একজন আছেন যিনি সবই দেখেন। শিগগিরই আমি ব্যবস্থা নিবো এ ব্যাপারে। দোআ করবেন আমার জন্য।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

বিডি প্রতিদিন/আরাফাত


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৫:৩৬
আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৯:২০
প্রিন্ট করুন printer

‌‘মরে’ গিয়েছে বলে আপনারাও আসলে এই হত্যার শামিল হয়েছেন

আমিনুল ইসলাম

‌‘মরে’ গিয়েছে বলে আপনারাও আসলে এই হত্যার শামিল হয়েছেন
আমিনুল ইসলাম। ফাইল ছবি

আপনারা পারেনও! ‘মারা’ গিয়েছে মানে কী? আপনারা কি বলতে চাইছেন, সে মনের আনন্দে ‘মরে’ গিয়েছে? সে কি নিজে নিজে গ্রেফতার হয়ে গিয়েছিল? কে তাকে গ্রেফতার করেছে? এই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরপর? এরপর তিনি একবার-দুইবার না ছয় ছয়বার জামিন চেয়েছেন। কিন্তু পাননি। 

কোন আইনে তাকে ধরা হলো? কে করেছে সেই ডিজিটাল আইন? 

এরপরও আপনারা এসে লিখছেন- আহা, ‘মরে’ গেল মানুষটা! আপনাদের এই আক্ষেপ-আফসোসের কোনো দরকার নেই। ‘মরে’ গিয়েছে বলে আপনারাও আসলে  এই হত্যার শামিল হয়েছেন।
 
এরপর চমৎকার করে গল্প বানানো হবে। সেই গল্প আমাদের পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশনে প্রচারও করা হবে। কারা করবে জানেন? এই দেশের শিল্প-সাহিত্য চর্চা করা মানুষগুলো। সাংবাদিক বনে যাওয়া গণমাধ্যমকর্মীগুলো! এবং বুদ্ধিজীবী বনে যাওয়া শিক্ষক-আমলাগুলো! 

আর এই আমরা, হ্যাঁ, এই আমরা এদেরকেই এই দেশের আইডল-সেলিব্রেটি বানাই! এইতো কিছুক্ষণ আগেও দেখলাম দেশের নামকরা লেখক (!)-প্রকাশকরা নিজদের বই কতো ভালো; কী পরিমাণ বিক্রি হচ্ছে; নিজেরা কতো বড় সেলিব্রেটি এইসব নিয়ে কথা বলছেন- লিখছেন! 

অথচ একজন মানুষকে শুধু লেখালেখির জন্য হত্যা করা হলো, এই নিয়ে তাদের কিছু যায় আসছে না। আর আমরা এদেরকেই সেলিব্রেটি বানাই। এইসব সেলিব্রেটি দেশের জন্য, সমাজের জন্য, আমার-আপনার জন্য আসলে কী করেছে? কেন এরা এরপরও সেলিব্রেটি হয়ে যাচ্ছে? 

কারণ আমরাও এমনই। অথচ মুশতাক  ভাই দেশের মানুষের কথা ভাবত। দুর্নীতি নিয়ে কথা বলত। হত্যা-লুটপাট নিয়ে কথা বলত। তিনি নিজে কি কোনো দুর্নীতি করেছেন? 

ক্যাডেট কলেজে পড়াশোনা করেছেন। আমাদের সময় দেশসেরা ছাত্র না হতে পারলে এক জীবনেও ক্যাডেটে চান্স পাওয়া সম্ভব হতো না। বিদেশে গিয়ে পড়াশোনা করে দেশে ফিরেছেন। কুমির চাষের মতো ব্যতিক্রম কিছু করেছিলেন। এতো কিছুর মাঝেও শুধু নিজেকে নিয়ে পড়ে থাকেননি। দেশ নিয়ে, দেশের সমাজ নিয়ে ভেবেছেন।
 
কিন্তু রাষ্ট্র এটা চায় না। উনাকে হত্যার মাধ্যমে রাষ্ট্র কি বুঝিয়ে দিয়েছে, জানেন? কোনো কথা বলা যাবে না। ফুল-পাখি-লতা পাতা নিয়ে পড়ে থাকো। আমরা ইচ্ছা মতো লুটপাট করব। ব্যাংক ডাকাতি করব। হত্যা-ধর্ষণ, সবই করব। তোমাদের কাজ হচ্ছে- আমাদের সকল কিছু দেখে যাওয়া। 

আর আপনারাও ভাবছেন- আমি তো আর কিছু লিখছি না। আমি তো আর কিছু বলছি না। আমার কিছু হবে না! এই রাষ্ট্র একদিন আপনাকেও হত্যা করবে- স্রেফ চোখ দিয়ে দেখার জন্য। কিংবা কান দিয়ে শুনার জন্য। এখনও সময় আছে- প্রতিবাদ করুন। 

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

 

বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ 

 


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৮:০৭
প্রিন্ট করুন printer

কার সাথে কার পরকীয়া এসব বিষয় নিয়ে ভেবে মাথা নষ্ট করবেন না

আঁখি আলমগীর

কার সাথে কার পরকীয়া এসব বিষয় নিয়ে ভেবে মাথা নষ্ট করবেন না
আঁখি আলমগীর

ফেসবুক আসলেই ফেসবুক।
যতই কাব্য দেখান, গান দেখান, রং দেখান, হামবড়া ভাব দেখান, আপনার আসল পরিচয়, আসল “face” তখনই উন্মোচিত হয় যখন আপনি অন্যকে হেয় করেন।

কিছু মানুষ অহরহ অন্যকে খোঁচা মেরে, অপমান করে স্ট্যাটাস দিয়ে নিজের আসল স্ট্যাটাস দেখিয়ে দিচ্ছেন, সেটা বোঝার ক্ষমতাও হিংসা আর নীচতায় ভরা চোখ, মন দেখতে পায় না।

আমি অনেক কাছের মানুষকে unfriend/unfollow করেছি, আমাকে নয়, শুধু তাদের অন্যকে নিচু করে বা হেয় করে আনন্দ পাবার অভ্যাসের কারণে। কাউকে ভালো না লাগলে তাকে avoid করেন, বা তাকে confront করবেন, কোনটার সাহস না থাকলে ইনিয়ে বিনিয়ে আকারে ইঙ্গিতে স্ট্যাটাস দিবেন না। এমনও হতে পারে যার জন্য লিখলেন সে বুঝেও নাই, তার হয়তো এতো সময় ও নাই।খামোখাই আপনার ক্ষুদ্রতা মানুষ দেখলো। কথাগুলো আমার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তাই আমিও আগে ভাবি, তারপর লিখি।

ps: কে কাকে বিয়ে করলো, কোথায় ভেগে গেল, কে কার কত তম বউ/স্বামী, কার সাথে কার পরকীয়া এসব বিষয় নিয়ে ভেবে মাথা নষ্ট করবেন না। নিজের চরকায় তেল না থাকলে পরে কেউ বেল দিবে না।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

বিডি প্রতিদিন/আরাফাত


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৬:০৮
আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৯:০৩
প্রিন্ট করুন printer

আমাদের ট্রল সমাজের উন্নয়নের নিমিত্তে!

ইফতেখায়রুল ইসলাম

আমাদের ট্রল সমাজের উন্নয়নের নিমিত্তে!
ইফতেখায়রুল ইসলাম

স্বল্প শিক্ষিত ও অশিক্ষিত সম্প্রদায়ভুক্ত লোকজনের ট্রলের প্রেক্ষিতে আমরা অতি উচ্চ শিক্ষিতরা প্রায়ই কণ্ঠে দ্রোহের আগুন তুলে বলতে থাকি, ‘ইহা মোটেই ঠিক হইতাছে না, সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হইতেছে।’

খানিক সময় অতিবাহিত হইবার পর সেই আমাদের অতি শিক্ষিত সমাজের কেউ কেউ, আবার বিষয় ভেদে ট্রল শুরু করেন এবং এসব করিয়া তিনি আত্মতৃপ্তির ঢেঁকুর তুলিয়া বলিতে থাকেন, ‘আমাদের ট্রল সমাজের উন্নয়নের নিমিত্তে!’

কম জানা ব্যক্তিদিগকে নিয়া ঝামেলা নেই তাহা নয়, তবে সত্যি কথা বললে পরে, সুপিরিয়র কমপ্লিকেসিতে ভুগতে থাকা ব্যক্তিবর্গ নিয়ে ঝামেলা অত্যাধিক এবং সেখানে ভয়ও বেশি। বি.দ্র. : এখানে সাধু ও চলতির দূষণীয় মিশ্রণ ইচ্ছাকৃত ঘটানো হইয়াছে! শান্ত অথবা অশান্ত থাকা আপনার এখতিয়ার।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

লেখক : এডিসি মিডিয়া অ্যান্ড পিআর।

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৩:২৯
প্রিন্ট করুন printer

জাজ মাল্টিমিডিয়া নিয়ে আসছে আরেক নতুন মুখ

অনলাইন ডেস্ক

জাজ মাল্টিমিডিয়া নিয়ে আসছে আরেক নতুন মুখ
নতুন মুখের সঙ্গে জাজের এগ্রিমেন্ট সাইন

ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে জাজ মাল্টিমিডিয়া নতুন মুখ হিসেবে মাহিয়া মাহি, ফারিয়া ও পূজা-কে উপহার দিয়েছে এবং ইন্ডাস্ট্রিতে তাদের শক্ত অবস্থান তৈরিতেও যথাযথভাবে সাহায্য করেছে। যার দরুন তারা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও কাজের সুযোগ তৈরি করতে পেরেছে।

আমরা মনে করি, বর্তমান ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা বিবেচনা করে আরো 'তিনজন' নতুন নায়িকা প্রয়োজন। যারা নিজেদের যোগ্যতা ও গুণে জাজের হাত ধরে মাহি, ফারিয়া বা পূজার মতো শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে। বর্তমানে ইন্ডাস্ট্রিতে যতো নায়িকা আছে, তাদের মধ্যে ডিস্ট্রিবিউশন মাত্র দু’জনের উপর আস্থা রাখতে পারে। কিন্তু, আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে অন্তত পাঁচজন আস্থা সম্পন্ন নায়িকা প্রয়োজন।

চলচ্চিত্রের স্বার্থে এবং এই প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে, গতকাল জাজ মাল্টিমিডিয়া একজন 'নতুন মুখ'-এর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। এ বছর জাজ এই 'নতুন মুখ'-কে সঙ্গে নিয়ে ৩টি চলচ্চিত্র নির্মাণ করবে। চলচ্চিত্রের নাম, নায়ক ও পরিচালক ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং যথা সময়ে প্রকাশ করা হবে।

আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, বিশেষ করে আরবান দর্শকদের কাছে চলচ্চিত্রে এই 'নতুন মুখ' ভালো লাগবে। কারণ, এইরকম শিক্ষিত, মার্জিত, পরিশ্রমী ও ট্যালেন্ট মুখ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে বেশি বেশি দরকার। করোনা পরিস্থিতি শিথিল হলে, এক জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আমাদের এই 'নতুন মুখ' সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেব।

জাজের সাথে এগ্রিমেন্টে সাইন করা অবস্থায় একটি ছবি দিলাম। দেখেন চিনতে পারেন কি-না? আর চিনে থাকলে এই পোস্টটি শেয়ার করুন এবং এই পোস্টের কমেন্ট বক্সে নাম বলুন। শেয়ার না করে যদি কমেন্টে নাম সঠিক হয়, তা-কিন্তু সঠিক হিসেবে গণ্য করা হবে না। শেয়ার এবং কমেন্ট একসাথে করতে হবে। উত্তর দেয়ার শেষ সময় আগামী ৪ মার্চ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।

সঠিক উত্তর দাতাদের জন্য থাকছে, ১ম পুরস্কার (১জন) ১০,০০০ টাকা, ২য় পুরস্কার (১জন) ৭,৫০০ টাকা ও ৩য় পুরস্কার (১জন) ৫,০০০ টাকা। এছাড়াও, প্রথম ১০ জন সঠিক উত্তরদাতা-কে 'নায়িকা পরিচিতি' গালা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হবে। যদি সঠিক উত্তরদাতা একাধিক হয়, তাহলে জাজ মাল্টিমিডিয়ার ফেসবুক পেইজ থেকে লাইভ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে লটারির মধ্য দিয়ে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।

(জাজ মাল্টিমিডিয়ার ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর